বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে যাত্রী চলাচল বেড়েছে

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২১, ২১:১৯

কাজী শাহ্জাহান সবুজ, বেনাপোল (যশোর) সংবাদদাতা

করোনা-পরবর্তী সময়ে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ভারত ও বাংলাদেশে যাত্রী চলাচল বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিকে ভারত গমনে শর্ত শিথিল করায় যাত্রী চলাচল বৃদ্ধির কারণ বলে জানিয়েছেন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। গত ৮ সেপ্টেম্বর প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন উঠে যাওয়ার পর ভারতে যাত্রী গমন বৃদ্ধি পাওয়া শুরু করে। এছাড়া ভারত থেকে আসা পাসপোর্ট যাত্রীদেরও হাইকমিশনের অনুমোদনের শর্ত তুলে নেওয়া হয়। তবে উভয় রাষ্ট্র থেকে পাসপোর্টযাত্রীদের করোনা নেগেটিভ সনদের শর্ত বহাল রয়েছে।

বিশ্বব্যাপি করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়লে দেশের সর্ববৃহত্তম  স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে পাসপোর্টযাত্রী চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এরপর শুধু চিকিত্সার জন্য যাত্রীরা বিশেষ অনুমোদন নিয়ে যেতে পারবে বলে উভয় দেশের সরকার অনুমোদন দেয়। কিছুদিন পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা বিভাগের অনুমোদন নিয়ে মেডিক্যাল ভিসা এবং বাণিজ্যিক ভিসার অনুমোদন দেয়। এরপর যাত্রীরা এত শর্ত নিয়ে চলাচলে বিড়ম্বনায় পড়ে। সেই থেকে যাত্রী হ্রাস পায় বহির্গমন ও আন্তঃগমনে। সব মিলে ২০০-এর মধ্যে যাত্রী চলাচল ছিল। সমপ্রতি শর্ত শিথিলের কারণে এ পথে প্রতিদিন সব মিলিয়ে সহস্রাধিক যাত্রী চলাচল করছে বলে ইত্তেফাককে জানায় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ।

গত এক সপ্তাহে ভারত ও বাংলাদেশে আন্ত ও বহির্গমনে ৬ হাজার ৮৩৪ জন যাত্রী চলাচল করেছেন। করোনা ভাইরাসের কারণে ভারত থেকে ফেরত আসা যাত্রীদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন শুরু হয় গত ২৬ এপ্রিল থেকে। এর আগেও কোয়ারেন্টাইন চালু ছিল গত বছরের জুলাই মাস থেকে। নিজ খরচে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে থাকা-খাওয়ার কারণে ভারত গমন যাত্রী অনেক হ্রাস পেয়েছিল। আবার ভারত থেকে ফেরার সময় ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশি হাইকমিশন থেকে অনুমোদন নিয়ে ফেরার কারণেও যাত্রী হ্রাস পায়। তবে মুমূর্ষু রোগীরা সব শর্ত মেনে ভারত গমন করে।

বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন ওসি রাজু আহম্মেদ জানান, উভয় দেশের শর্ত শিথিল এবং করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব তুলনামূলক কম হওয়ায় গত এক সপ্তাহ যাবত্ পাসপোর্ট যাত্রী বৃদ্ধি পেয়েছে। ট্যুরিস্ট ভিসা ছাড়লে হয়ত আগের মতো দুই দেশ থেকে আসা-যাওয়া যাত্রী ১০ হাজারের কাছাকাছি যাবে। এতে সরকারও অনেক রাজস্ব পাবে। বেনাপোল কাস্টম হাউজের ডেপুটি কমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ভারত বাংলাদেশ থেকে মেডিক্যাল, বিজনেস, স্টুডেন্ট ভিসার পাশাপাশি টিএফ ভিসার যাত্রীরাও চলাচল করছে। হয়ত খুব তাড়াতাড়ি উভয় রাষ্ট্র ভ্রমণ ভিসা চালু করবে। তখন যাত্রী সংখ্যা বেড়ে আগের মতো হবে বলে আশা করেন তিনি।