কারেন্ট পোকার আক্রমণ
মতিউর রহমান, দিনাজপুর
আর মাস খানেকের মধ্যেই আমন ফসল ঘরে তুলবেন কৃষকরা। কিন্তু শেষ পর্যায়ে এসে বিভিন্ন এলাকায় আমনখেতে কারেন্ট পোকা দেখা দেওয়ায় উদ্বিগ্ন কৃষক। এই অবস্থায় আমন ফসল রক্ষায় তারা ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। ছুটছেন বিভিন্ন কীটনাশকের দোকানে। ফসল রক্ষায় নিয়মিত কীটনাশক প্রয়োগ করছেন।
সোমবার কথা হয় দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার পরমেশপুর গ্রামের কৃষক ভরত চন্দ্র রায়ের সঙ্গে। এবার ১০ বিঘা (প্রতিবিঘা-৫০ শতক) জমিতে আমন রোপন করেছেন তিনি। এর মধ্যে ছয় বিঘা জমিতে চিকন জাতের বিআর-৩৪ ধানের চাষ করেছেন। আর বাকি চার বিঘা জমিতে করেছেন মোটা জাতের ধানের আবাদ। ভরত চন্দ্র রায় জানান, মোটা জাতের ধানখেতে তেমন পোকার আক্রমণ না হলেও চিকন জাতের ধানখেতে দেখা দিয়েছে কারেন্ট পোকার আক্রমণ। এর মধ্যে তার দুই বিঘা জমিতে ব্যাপক পোকা দেখা দিয়েছে। তাই ফসল রক্ষায় ছুটছেন বিভিন্ন কীটনাশকের দোকানে। তিনি বলেন, কারেন্ট পোকার জন্য বিভিন্ন কীটনাশক পাওয়া যাচ্ছে। মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারাও সঠিকভাবে নির্দিষ্ট কোনো কীটনাশকের নাম বলেননি। বাধ্য হয়েই নিজের পছন্দমতো কীটনাশক এনে আমনখেত রক্ষায় প্রয়োগ করেছেন তিনি। তিনি আরো বলেন, আমনখেত রক্ষায় বাড়তি খরচ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। পার্শ্ববর্তী বিরল উপজেলার আজিমপুর গ্রামের কৃষক সঞ্জীব রায় জানান, দুই বিঘা জমিতে চিকন জাতের আমন আবাদ করছেন তিনি। ইতিমধ্যে তার পাশের জমিতে কারেন্ট পোকা দেখা দিয়েছে। তাই নিজের ফসল রক্ষায় আগাম কীটনাশক প্রয়োগ করেছেন তিনি। শুধু কাহারোল উপজেলার পরমেশপুর গ্রাম অথবা বিরল উপজেলার আজিমপুর গ্রাম নয়, দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, শেষ মুহূর্তে এসে আমন ফসল রক্ষায় কীটনাশক প্রয়োগের মেশিন নিয়ে আমনখেতে ছুটছেন কৃষকরা।
দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক প্রদীপ কুমার গুহ জানান, জেলায় এখন পর্যন্ত আমনখেতের অবস্থা ভালো আছে। মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক মাঠে থেকে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন এলাকায় আগাম জাতের আমন কর্তন শুরু হয়েছে। রবিবার পর্যন্ত জেলায় ১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমির আগাম জাতের আমন কর্তন সম্পন্ন হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ফলন এসেছে ৩ টন পর্যন্ত। উপ-পরিচালক প্রদীপ কুমার গুহ জানান, দিনাজপুর জেলায় চলতি আমন মৌসুমে ২ লাখ ৫৬ হাজার হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু এই লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে জেলায় আমন আবাদ হচ্ছে ২ লাখ ৬০ হাজার ৮২৫ হেক্টর জমিতে।
