সত্য প্রকাশে সাহসী সাংবাদিকদের অভিনন্দন

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২১, ২১:৩০

বিপ্লব বিশ্বাস

নোবেল পুরস্কারের ১২০ বছরের ইতিহাসে এ বছরই দুজন সাংবাদিককে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।  মত প্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে সাহসী লড়াইয়ে অবদান রাখার জন্য ফিলিপিনের মারিয়া রেসা এবং রাশিয়ার দিমিত্রি মুরাতফকে যৌথভাবে এই পুরস্কার পান। পুরস্কারপ্রাপ্ত এ দুজন ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনেক সাংবাদিক আছেন যাঁরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাঁদের দায়িত্ব পালন করছেন। নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত দুজন সাংবাদিকসহ সত্য প্রকাশে সাহসী বিশ্বের সব সাংবাদিককে দীর্ঘ প্রায় পঞ্চান্ন বছরের একজন সংবাদপত্র পাঠক হিসেবে জানাই আমার আন্তরিক অভিনন্দন। সাংবাদিকদের নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়ার মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে যে, বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় সত্ ও সাহসী সাংবাদিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দেশ ও জাতির মঙ্গলের জন্যই একজন সাংবাদিক অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়েই সংবাদ সংগ্রহ করে প্রকাশ করেন। এর ফলে দেশ, জাতি ও বিশ্ব মানবতার উপকার হলেও একজন সাংবাদিককে সব সময়ই একটি গোষ্ঠীর রোষানলে পড়তে হয়। এ কারণেই বিশ্বব্যাপী সাংবাদিকতা পেশা যেমন দিন দিন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে, তেমনি সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনাও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাংবাদিকদের বৈশ্বিক সংস্থা ‘রিপোটার্স উইদআউট বর্ডার’-এর তথ্য অনুযায়ী পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য প্রতি বছর গড়ে অর্ধ শতাধিক সাংবাদিককে প্রাণ দিতে হচ্ছে এবং অসংখ্য সাংবাদিককে কারাগারে যেতে হচ্ছে। দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসী, এক শ্রেণির আমলা ও রাজনীতিবিদ সাংবাদিকসমাজকে তাদের শত্রু হিসেবে গণ্য করে থাকে। তবে সাধারণ মানুষ সত্, সাহসী ও দেশপ্রেমিক সাংবাদিকদের পাশে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

আমাদের দেশেও সাংবাদিকতা পেশার ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। দুঃখজনক বিষয় হলো, অপরাজনীতির প্রভাব এই গুরুত্বপূর্ণ পেশাকেও নানাভাবে কলুষিত করছে। আমাদের দেশে অনেক সাংবাদিক আছেন যাঁরা সত্য প্রকাশের চেয়ে দলীয় আনুগত্যকেই বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। তবে আশার কথা হলো—তরুণ প্রজন্মের সত্, সাহসী ও মেধাবীরা সাংবাদিকতা পেশায় আসছেন এবং অত্যন্ত দক্ষতা ও সাহসের সঙ্গেই তাঁদের দায়িত্ব পালন করছেন। ভবিষ্যতে হয়তো এঁদের মধ্য থেকেও অনেকেই জাতীয়, আন্তর্জাতিক ও নোবেল পুরস্কার পাবেন।

ফরিদপুর