কেরানীগঞ্জে পানগাঁও আইসিটি নৌপোর্টে বাড়তি শুল্ক আদায়ের প্রতিবাদে আমদানি করা পণ্য খালাস বন্ধ রেখেছে ব্যবসায়ীরা। শুল্ক জটিলতার কারণে বন্দর কাস্টম হাউজে কর্মবিরতি পালন করছে ঢাকা কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন। পানগাঁও নৌপোর্টের শুল্ক ভবনে আমদানিকৃত পণ্য চালানের জন্য আইজিএম সংশোধন ও মূল্যায়ন বিধিমালা ২০০০ বাস্তবায়নের দাবিতে গত রবিবার থেকে সপ্তাহব্যাপী কর্মবিরতি পালন করছে তারা।
ঢাকা কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. খায়রুল বাশার জানান, ২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রী পানগাঁও নৌপোর্ট উদ্বোধনের পর চালু করার জন্য বিভিন্নভাবে ভর্তুকি ও বন্দর চার্জের উপর ৭০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হচ্ছে। অথচ কাস্টম হাউজের স্বেচ্ছাচারিতায় পানগাঁও নৌবন্দর প্রাণ ফিরে পাচ্ছে না। আইজিএম সংশোধন ও মূল্যায়ন বিধিমালা ২০০০ প্রজ্ঞাপনের ৫ নম্বর ধারার ৪ নম্বর উপধারায় উল্লেখ রয়েছে। ঐ বিধির অধীনে বিভিন্ন পণ্যের একাধিক বিনিময় মূল্য পাওয়া গেলে তাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা কম বিনিময় মূল্যের ভিত্তিতে আমদানিকৃত পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। অথচ পানগাঁও নৌ কাস্টম হাউজের কমিশনার শওকত হোসেন বিধি অমান্য করে শুল্ক আদায় করায় ব্যবসায়ীরা পণ্য খালাস বন্ধ রেখেছে। পাশাপাশি কমিশনারের অপসারণসহ শুল্ক কামানোর দাবিতে এন বি আর চেয়ারম্যান বরাবর বৃহস্পতিবার স্মারকলিপি দিয়েছে তারা।
গার্মেন্ট ব্যবসায়ী জামাল মাহমুদ জানান, তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কেরানীগঞ্জ এলাকায়। তারপরও তিনি চট্টগ্রাম বন্দরে মাল খালাস করতে বাধ্য হচ্ছেন। পানগাঁও নৌপোর্টে মাল খালাস হয়রানির শিকার হয়ে থাকেন বলে অভিযোগ তার। এ ব্যাপারে পানগাঁও কাস্টম হাউজ কমিশনার শওকাত হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কোনো কর্মবিরতি পালনের বিষয়ে তিনি অবহিত নন। তবে কয়েক দিন ধরে সিএন্ডএফ এজেন্টরা কাজ করছে না বলে স্বীকার করেন তিনি। এ ছাড়া তারা লিখিত অথবা মৌখিকভাবেও তাকে কিছু জানায়নি বলে দাবি তার।
