চট্টগ্রাম, নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জের চৌমুহনী ও হাতিয়ার বুড়িরচরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মন্দির, বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে আওয়ামী লীগ বলেছে, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এদেশে কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ওপর যেকোনো ধরনের হামলা বরদাশত করবে না আওয়ামী লীগ। গতকাল শুক্রবার রাতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এক বিবৃতি এসব কথা বলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি- বাংলাদেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যখন তাদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় উত্সব দুর্গাপূজা উদ্যাপন করছে, তখন এ দেশের চিহ্নিত সামপ্রদায়িক ও জঙ্গিগোষ্ঠী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ও মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় পূজামণ্ডপ, মন্দির ও হিন্দু সমপ্রদায়ের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে। আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে চাই—স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে অসামপ্রদায়িক নীতির ভিত্তিতে। এ ধরনের হামলা মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বাঙালি জাতির হাজার বছরের আবহমান ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সামপ্রদায়িক সমপ্রীতির মূলে কুঠারাঘাতের শামিল।
ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সরকার যেকোনো মূল্যে অসাম্প্রদায়িক নীতির সুরক্ষা দিতে বদ্ধপরিকর। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দেশের এসব জায়গায় শান্তি-শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতি ফেরাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসব হামলার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। এই ষড়যন্ত্রের নেপথ্যের কুশীলবদেরও অবিলম্বে গ্রেফতার করা হবে। যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়িয়েছে তাদের চিহ্নিত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে সোপর্দ করতে সবার প্রতি অনুরোধ জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। বিবৃতিতে এসব ধর্মান্ধ, সামপ্রদায়িক ও জঙ্গিবাদী শক্তির পৃষ্ঠপোষক বিএনপি-জামায়াত অশুভ জোটকে প্রতিরোধ করতে দেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল সব মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ারও আহ্বান জানান হয়।
