বন্যাকালীন স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় গবেষণামূলক প্রকল্পে জার্মানির সহযোগিতা

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২১, ২২:২৩

ইত্তেফাক রিপোর্ট

ভয়াবহ বন্যার সময় মৃত্যুর প্রথম এবং দ্বিতীয় মূলকারণ পানিতে ডুবে যাওয়া এবং সর্প দংশন। এই অপমৃত্যুগুলো সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধযোগ্য। তবে এক্ষেত্রে আরো গবেষণা এবং উদ্ভাবনের প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে আমাদের জাতীয় প্রেক্ষাপট বিবেচনায় সবচেয়ে কার্যকর এবং বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত উদ্ভাবনসমূহকে বাস্তবায়ন করতে হবে। এই লক্ষ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বর্তমানে বাংলাদেশ ও জার্মানির অন্যান্য সরকারি, গবেষক এবং এনজিও অংশীদারদের সঙ্গে ‘ফ্লাড নেট’ নামক আন্তঃবিষয়ক ও আন্তঃবিভাগীয় একটি প্রকল্পে পারস্পরিক সহযোগিতা করছে। গবেষকরা বিভিন্ন গবেষণার মাধ্যমে বাংলাদেশে বন্যার সময় প্যারামেডিক্যাল এবং জরুরি চিকিত্সাসেবার মান উন্নয়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করছেন, যাতে বন্যার সময় বিচ্ছিন্ন জনসাধারণকে মারাত্মক বন্যা সংক্রান্ত স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে সর্বোচ্চ সুরক্ষা এবং প্রয়োজনীয় চিকিত্সাসেবা দেওয়া যায়।

গবেষণাটির জন্য দুটি উপজেলায় কাজ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল প্রোগ্রামের লাইন ডাইরেক্টর অধ্যাপক ডা. মো. রোবেদ আমিন বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী লাখ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার ফলে অর্থনীতিতে অত্যন্ত ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বব্যাপী বন্যা এবং ঘূর্ণিঝড়ের মতো ঘটনা বারবার ঘটছে এবং ক্ষতিকর প্রভাবের তীব্রতা দিন দিন বাড়ছে। বন্যার সময় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষ উঁচু ও শুকনো জায়গায় আবদ্ধ হয়ে পড়ে এবং তাদের স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সুযোগ খুবই সীমিত হয়ে যায়। জরুরি চিকিত্সাসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা আরো জটিল অবস্থার সৃষ্টি করে।

টক্সিকোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশের সভাপতি এবং ‘ফ্লাড নেট’ এর জাতীয় সমন্বয়কারী অধ্যাপক এম এ ফয়েজ বলেন, এই প্রকল্পে বৈজ্ঞানিকভাবে গবেষণা তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের মাধ্যমে একটি বিষক্রিয়া প্রতিরোধে জাতীয় তথ্যকেন্দ্র তৈরি করার লক্ষ্য অর্জনের একটি চমত্কার সুযোগ তৈরি করবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ছাড়াও সামরিক চিকিত্সাসেবা মহাপরিদপ্তর, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ, আর্মড ফোর্সেস মেডিক্যাল কলেজ, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ, সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, টক্সিকোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ সোসাইটি অব ইনফেকশাস অ্যান্ড ট্রপিক্যাল ডিজিজেস তাদের জার্মান অংশীদারগণ- গ্যেটে ইউনিভার্সিটি ফ্রাঙ্কফুর্ট, আরডব্লিউটিএইচ আচেন ইউনিভার্সিটি এবং আইএসওই ইনস্টিটিউট ফর সোশ্যাল-ইকোলজিক্যাল রিসার্চ ফ্রাঙ্কফুর্ট এক সঙ্গে এই প্রকল্পে সহযোগিতা করবে। এই প্রকল্পের গবেষণা কার্যক্রম ২০২৩ সালের এপ্রিল পর্যন্ত জার্মানির ফেডারেল মিনিস্ট্রি অব এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের অনুদান দ্বারা অনুমোদিত।