সৈয়দপুরে শিল্পকারখানায় লোডশেডিং

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২১, ২২:২৬

গুনতে হচ্ছে লোকসান

মো. আমিরুজ্জামান, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা

লোডশেডিংয়ের কবলে পড়েছে শিল্পনগরী সৈয়দপুর। দিনেরাতে মিলিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের ধকল পোহাতে হচ্ছে বিদ্যুত্ গ্রাহকদের। একইভাবে লোডশেডিংয়ে নাজেহাল হচ্ছেন শিল্পকারখানার মালিকরাও। ঘন ঘন বিদ্যুত্ চলে যাওয়ায় শিল্প প্রতিষ্ঠানে উত্পাদনসহ কর্মঘণ্টা অপচয় হচ্ছে। ফলে লোকসান গুনতে হচ্ছে ছোট-বড় সব শিল্প উদ্যোক্তাদের।

নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) সূত্রে জানা যায়, সৈয়দপুরে আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প কারখানা মিলিয়ে ৪৩ হাজারেরও বেশি ভোক্তা রয়েছেন। এর মধ্যে বিসিক শিল্প নগরীসহ ছোট-বড় শিল্প-কারখানা রয়েছে সহস্রাধিক। এসব ভোক্তাদের দৈনিক চাহিদা প্রায় ২৫ হাজার মেগাওয়াট। কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে ২১ থেকে ২২ মেগাওয়াট বিদ্যুত্। ফলে ঘাটতি মেটাতে লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণা চরমে পৌঁছেছে।

ভুক্তভোগী শিল্পকারখানার মালিকরা জানান, কারখানা সচল অবস্থায় বারবার বিদ্যুত্ চলে যাওয়ায় দৈনিক বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল নষ্ট হচ্ছে। একই অবস্থা বিরাজ করছে শপিং মার্কেট, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রেও। শহরের কাপড় মার্কেটের এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, লোডশেডিংয়ে তাদের ব্যবসা মন্দা চলছে। দিনে-রাতে চার-পাঁচ বার বিদ্যুত্ যাওয়া-আসার ঘটনা ঘটছে। লোডশেডিংয়ের পর বিদ্যুত্ এলেও এক ঘণ্টাও থাকছে না। আবার কখনো ১৫-২০ মিনিট পর চলে যাচ্ছে। ক্রেতারাও বিরক্ত হয়ে চলে যাচ্ছেন। শহিদ জিকরুল হক সড়কের একতা প্রিন্টিং প্রেসের ম্যানেজার রেজাউল ইসলাম রিপন বলেন, বারবার বিদ্যুত্ চলে যাওয়ায় বিপদে পড়েছি। অর্ডারমতো ছাপার কাজ ডেলিভারি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। প্রতিদিনই কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। কাজ না হলেও শ্রমিক-কর্মচারীদের বসিয়ে বেতন গুনতে গিয়ে লাভই থাকছে না। শহরের পুরাতন বাবুপাড়ার গৃহবধূ আসমা বেগম লোডশেডিংয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, বাচ্চাদের লেখাপড়া ও  বাড়ির কাজকর্মে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। এই গরমে আমরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি।

সৈয়দপুর বিসিক শিল্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও আমিনুল শিল্প গ্রুপের মালিক আমিনুল ইসলাম বলেন, দেশে পর্যাপ্ত বিদ্যুত্ উত্পাদন হলেও স্থানীয় ছোট বড় মিল ফ্যাক্টরিগুলো তা পাচ্ছে না। ফলে সহস্রাধিক ছোট-বড় শিল্প কারখানা সংকটে পড়েছে। এর মধ্যে বিসিক নগরীর ৪০টির মতো প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আগে এসব প্রতিষ্ঠানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ সরবরাহে আলাদা ফিডার দেওয়া হয়েছিল। প্রতিদিন দুই থেকে চার ঘণ্টা করে কর্মঘণ্টার অপচয় হচ্ছে। চলমান সমস্যায় দৈনিক ১০ লাখ টাকা ক্ষতি হচ্ছে বিসিক মালিকদের। সমস্যা সমাধানে নেসকো কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিলেও সমাধান পাচ্ছি না মাসের পর মাস অপেক্ষা করেও।

নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) সৈয়দপুর বিক্রয় ও বিতরণকেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোস্তফিজুর রহমান লোডশেডিংয়ের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুত্ পাওয়ায় লোডশেডিং হচ্ছে। বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুত্ কেন্দ্রে উত্পাদন ক্ষমতার চেয়ে কম বিদ্যুত্ উত্পাদন হওয়ায় চাহিদামতো পাওয়া যাচ্ছে না। ঘাটতি পূরণের জন্য উচ্চ পর্যায়ে জানানো হয়েছে। আমরা সব শিল্পকারখানায় বিদ্যুত্ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। আর বিসিকের ফিডার আলাদা করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।