প্রত্যাশার চাপ নয়, সাহস জোগাতে হবে :মাশরাফি

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২১, ২২:৩৩

g  জান-ই-আলম

 

ক্রিকেটের সঙ্গে আত্মিক বন্ধন ছিন্ন হওয়ার তো সুযোগ নেই। তবে সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মুর্তজার সঙ্গে ক্রিকেটের পোশাকি একটা দূরত্ব হয়েছে বইকি। নড়াইলে নির্বাচনি এলাকার উন্নয়নে নিজের সবটুকু নিংড়ে দিচ্ছেন সাবেক এ অধিনায়ক। দিন-রাত অহর্নিশি ব্যস্ত এই জনগণের সেবক।

ভারতের মাটিতে ২০১৬ সালে সর্বশেষ আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপেও বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মাশরাফি। দারুণ শুরুর পরও হুট করে ত্রুটিপূর্ণ বোলিং অ্যাকশনের কারণে তাসকিন-আরাফাত সানির বিদায়ে মুষড়ে পড়ে দল। সতীর্থদের এমন বিদায়ে ব্যাঙ্গালোরে সংবাদ সম্মেলনে ক্যামেরায় ধরা পড়েন অশ্রুসজল মাশরাফি। একই ভেন্যুতে ভারতের বিরুদ্ধে হূদয় এফোড়-ওফোড় করা হার মিলে বিশ্বকাপ ছিল ঘটনাবহুল এবং অম্ল-মধুর স্মৃতির ভান্ডার।

দুয়ারে কড়া নাড়ছে ক্রিকেটের খুদে সংস্করণের আরেকটি বিশ্বকাপ। সমকালীন বাস্তবতার কারণেই মাশরাফির আকণ্ঠ বিশ্বকাপ আমেজে ডুবে নেই। তারপরও অনুরোধের ঢেঁকি গিলে ব্যস্ততার মাঝে টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ দলের সম্ভাবনা, দলকে ঘিরে নিজের প্রত্যাশা ও অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ‘গুরুভার’ নিয়ে কথা বলেছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেশের সবচেয়ে সফল মাশরাফি।

প্রশ্ন :টি-২০ বিশ্বকাপের আগের আসরে আপনার নেতৃত্বে খেলেছিল বাংলাদেশ দল। অনেক স্মৃতি ঐ আসরে। মাহমুদউল্লাহর নেতৃত্বে এবার বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের কেমন সম্ভাবনা দেখছেন?

হ্যাঁ, আগের বিশ্বকাপ খেলেছিলাম। অনেক স্মৃতি আছে। ভালো-খারাপ অনেক স্মৃতিই আছে। কিন্তু এগুলো তো এখন শুধুই স্মৃতি। এখন ওগুলো নিয়ে কথা বলার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, সামনে বিশ্বকাপ আসছে, এখানে কেমন করে। মাহমুদউল্লাহ দারুণ করছে। বিশেষ করে শেষ দুটি সিরিজে ১০ ম্যাচের সাতটিই আমরা জিতেছি। দুইটা সিরিজও জিতেছি। দারুণ রেজাল্ট হয়েছে। আমি আশা করছি ভালো কিছুই হবে। মাহমুদউল্লাহ দারুণভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছে দলকে। গুছিয়ে নিয়েছে অনেকটা। সিনিয়র-জুনিয়র কম্বিনেশনও ভালো। আশা করছি, ইনশাআল্লাহ ভালো কিছুই হবে।

প্রশ্ন :গত বিশ্বকাপের দলের সঙ্গে এবারের দলটার কোনো পার্থক্য কি চোখে পড়ে?

খুব ভালো দল। তরুণ ও অভিজ্ঞদের মিশ্রণে দলটা হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সবাই ভালো খেলছে। আশা করি, সবাই মিলে ভালো রেজাল্ট করবে।

প্রশ্ন :বিশ্বকাপে সবার মতো আপনিও নিশ্চয়ই তামিম ইকবালকে মিস করবেন...

তামিম ইকবালকে শুধু আমি কেন, পুরো দেশ মিস করবে। এখন ও (তামিম) যেহেতু নিজে থেকে সরে গিয়েছে, খুব বেশি কিছু বলার নাই। আমার কাছে মনে হয় যা আছে আমাদের তা নিয়েই ভাবতে হবে এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে হবে।

প্রশ্ন :২০০৭ সালের পর টি-২০ বিশ্বকাপের মূল পর্বে জয় নেই বাংলাদেশের। এবার কি সেই বৃত্ত ভাঙার আশা করা যায়?

আমি আশাবাদী মানুষ। সব সময়ই আশা করি। আমার বিশ্বাস এবার ভালো কিছুই হবে। ২০০৭ সালের পর থেকে মূল পর্বে জিতিনি আমরা। আমি মনে করি, এবার ভালো সুযোগ আছে। আর দলও ভালো খেলছে, এটাই গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশ্ন :বিশ্বকাপ বড় টুর্নামেন্ট, দলকে সামলানো, সবাইকে উজ্জীবিত করা, নানামুখী চ্যালেঞ্জ আছে। আপনার অভিজ্ঞতার আলোকে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর প্রতি কোনো পরামর্শ বা তার কোন দিকগুলো ফোকাস করা উচিত?

অবশ্যই বিশ্বকাপ মানেই একটা চাপ। কারণ অন্যান্য দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বা টুর্নামেন্ট, অনেক সময় অনেকে মিস করে। বিশ্বকাপে হয় কি, খুব আগ্রহ নিয়ে মানুষ দেখে। এক্ষেত্রে চাপ একটু থাকেই। তবে আমার কাছে মনে হয় অধিনায়ককে যত নির্ভার রাখা যায় ততই ভালো। প্রয়োজনীয় যে জিনিসগুলো অধিনায়ক জানে, টিম ম্যানেজমেন্ট জানে, তারা নিশ্চয়ই ভালোর জন্য সিদ্ধান্ত নেবে। যেটা হওয়া উচিত, দলের ভালোর জন্য যেটা করা উচিত, সেটা করবে। আমার মনে হয় না কোনো অপ্রয়োজনীয় চাপ বা পরামর্শ অধিনায়কের জন্য প্রয়োজন আছে। কারণ সে ইতিমধ্যে সফল অধিনায়ক। তাই আমার বিশ্বাস ও জানে যে কীভাবে দলকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয় এবং ও পারবে বলেই আমি বিশ্বাস করি।

প্রশ্ন :বাংলাদেশ দলের কোন দিকটা আপনাকে আশাবাদী করে, কোন দিকটা মনে হয় উন্নতি করতে হবে?

আমার মনে হয় তিনটা বিভাগই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এমন একটা দল আমাদের তিনটা বিভাগেই ভালো করতে হবে। নির্দিষ্ট জায়গা নিয়ে আমি কথা বলব না। এখন উন্নতির সময় নয়, এখন বিশ্বকাপে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলাটাই গুরুত্বপূর্ণ। এখন আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামা, খেলা এবং আমাদের দিক থেকে সাহস দেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশ্ন :বিশ্বকাপে সাকিব-মুস্তাফিজই কি বাংলাদেশের মূল অস্ত্র? তাদের ওপরই কি মূল দায়িত্ব থাকবে?

অবশ্যই তারা দলের মূল খেলোয়াড়। তবে মূল দায়িত্বই যে তাদের, এটাতে আমি একমত না। একটা দল কখনো ২ জনের ওপর নির্ভর করে ম্যাচ জিতে না। বিশেষ করে বাংলাদেশ দলে আমরা আগে-পরে এটা দেখিনি। আমার কাছে মনে হয় যে, পুরো দলকেই ভালো খেলতে হবে। এবং এই সামর্থ্য পুরো দলের আছে বলেই, সেরা দলটাই পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। আর ২ জনই প্রত্যেক দিন ভালো খেলবে, এই গ্যারান্টি দেওয়া যায় না। ২০১৯ বিশ্বকাপে সাকিব প্রত্যেক ম্যাচেই ভালো খেলেছে, তারপরও আমরা সেমিফাইনাল খেলিনি। তাই এভাবে আসলে একটা দল কখনো ২-১ জনের ওপর নির্ভর করে না। তাই সময়মতো সবাইকেই জ্বলে উঠতে হবে।

 

 

 

সন্তানদের নিয়ে খেলার পরিবেশে সময় কাটাতে পছন্দ করেন মাশরাফি বিন মুর্তজা