ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেট প্রবর্তনেও ইতিহাস
g শামীম চৌধুরী
ওয়ানডে ক্রিকেট প্রবর্তনে ক্রিকেট মাঠে দর্শক এসেছে। বিভিন্ন স্বত্ব বিক্রি থেকে বেড়েছে আয়। তবে পেশাদার ফুটবল, টেনিসের তুলনায় ক্রিকেট থেকে আয়টা নেহায়েত সামান্যই ছিল। ক্রিকেট থেকে প্রত্যাশিত অর্থ আয় কীভাবে করা যায়? তা নিয়ে গবেষণায় নতুন সংস্করণের ক্রিকেট প্রবর্তনের ভাবনা প্রথমে এসেছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) থেকে। ২০০২ সালে ইসিবির সভায় প্রস্তাব উঠিয়েছেন মার্কেটিং ম্যানেজার স্টুয়ার্ট রবার্টসন। ২০ ওভারের ম্যাচ প্রবর্তন করতে পারলে বদলে যাবে ক্রিকেটের চেহারা। কোষাগার ভরে যাবে টাকায়। তার ঐ প্রস্তাব সভাতে উঠলে ১১-৭ ভোটে প্রস্তাবটি পাশ হয়। ২০০৩ সালে ইংলিশ কাউন্টি ক্রিকেটে চার দিনের প্রথম শ্রেণির ম্যাচ এবং ৪০ ওভারের ম্যাচের সঙ্গে যুক্ত হয় টোয়েন্টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট।
দ্রুতই জনপ্রিয়তা পায় সংক্ষিপ্ত সংস্করণের ক্রিকেট। ২০০৪ সালে লর্ডসে মিডলসেক্স-সারের মধ্যে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ২৭ হাজার ৫০৯ জন দর্শক উপস্থিতি রীতিমতো বিস্মিত করে ইসিবিকে। ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটে ১৯৫৩ সালের পর এত দর্শক এই প্রথম দেখেছে ইসিবি। তাতেই খেলাটির বিশ্বায়ন ভাবনাটা মাথায় আসে তাদের। ঐ ম্যাচে দর্শক উপস্থিতির বার্তাটা পৌঁছে যায় ক্রিকেট বিশ্বে। ঘরোয়া পরীক্ষামূলক টোয়েন্টি-টোয়েন্টি থেকে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অভিষেকে বেশি দিন অপেক্ষা করতে হয়নি। ২০০৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি অকল্যান্ডে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড ম্যাচ দিয়ে নতুন দিনের ক্রিকেট যাত্রা শুরু করে।
নতুন সংস্করণের ক্রিকেটের ঢেউটা বাংলাদেশে লেগেছে দ্রুতই। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচের সংখ্যা যখন ৮, তখন সেই তালিকায় নাম উঠেছে বাংলাদেশের। ২০০৬ সালের ২৮ নভেম্বর খুলনায় আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অভিষেকের মাধ্যমে নতুন দিনের ক্রিকেটে যাত্রা শুরু টাইগারদের। আশ্চর্য হলেও সত্য, বাংলাদেশে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ক্রেজটা ভারতের আগেই লেগেছে! সংক্ষিপ্ত সংস্করণের ক্রিকেটে ভারতের তিন দিন আগে হয়েছে বাংলাদেশের অভিষেক।
সংক্ষিপ্ত সংস্করণের ক্রিকেটে বাংলাদেশের আগমনী বার্তা সে সময়ের প্রেক্ষাপটে সত্যিই ছিল বলার মতো। আইসিসির সে সময়ের পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি প্রবর্তনে অনেকের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ। ইংল্যান্ডে সবেমাত্র শুরু হয়েছে পরীক্ষামূলক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। নতুন ধারার ক্রিকেট চর্চা সব টেস্ট খেলুড়ে দেশে শুরুও হয়নি। অথচ, ঢাকায় সেই খেলাটির প্রচলন শুরু হয়েছে ২০০৪ সালের ১০ মে, কর্পোরেট টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট লিগ দিয়ে! ভাবা যায়?
আরো একটি তথ্য সবার জানা দরকার। ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেট প্রবর্তনেও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নাম থাকবে সবার আগে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট থেকে ব্যাপক বাণিজ্যিকীকরণে বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়ার (বিসিসিআই) তহবিল উপচে গেছে। আইপিএলের সর্বশেষ আসরে টাইটেল স্পন্সরশিপ মানি থেকে নিট ৪৪০ কোটি রুপি জমা পড়েছে তাদের কোষাগারে। টেলিভিশন সম্প্রচার স্বত্ব থেকে আইপিএলের এক আসর থেকে আয়ের অঙ্কটা সেখানে ২ হাজার ৯৫০ কোটি রুপি! এছাড়া সহযোগী অন্যান্য স্পন্সর খাত তো আছেই। অথচ, জানেন কি, ভারতে প্রবর্তিত প্রথম ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেট ‘ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লিগ টি-টোয়েন্টি’ (আইসিএল) মাঠে গড়িয়েছে বাংলাদেশের কর্পোরেট লিগেরও সাড়ে তিন বছর পর ২০০৭ সালের ৩০ নভেম্বর। সেই আসরটি আয়োজনেও ছিল না বিসিসিআইয়ের সম্পৃক্ততা। জি এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের প্রবর্তিত সেই আসরটি অনুমোদন পায়নি বিসিসিআইয়ের। এই আসরটির গায়ে বিদ্রোহী লিগের স্টিকার লাগিয়ে আসরটির মৃত্যু ঘটিয়েছে বিসিসিআই। ২০০৭ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অভিষেক আসরে ভারতের ট্রফি জয়ের ঢেউ লেগেছে বিসিসিআইয়ে। ২০০৮ সালের ১৮ এপ্রিল প্রবর্তিত হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ ফ্রাঞ্চাইজি আসর ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল)।
অবশ্য এর আগে একটি ঘটনা না বললেই নয়। ২০০৬ সালে ধনকুবের অ্যালেন স্ট্যানফোর্ড তার নিজের নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজে একটি টোয়েন্টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছিলেন। আসরের প্রাইজমানির অঙ্ক ছিল ২ কোটি ৮০ লাখ ডলার—সে সময়ে পিলে চমকে দেওয়ার মতো খবর। চ্যাম্পিয়ন গায়ানা পেয়েছিল ১ কোটি ডলার !
ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেটের জনপ্রিয়তায় এখন আইপিএল, সিপিএল, বিপিএল পিএসএল, বিগ ব্যাশ, এপিএল, ইপিএল—আরো কত আসর। ক্রিকেটারদের পকেট ভরে দিচ্ছে টাকায় টাকায়। ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের আয়ের অন্যতম খাত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-টোয়েন্টি। অথচ, এই ক্রিকেটের জনপ্রিয়তার ঢেউটা কিন্তু অনেকের আগে লাগিয়ে দিয়েছে বিসিবি ২০০৪ সালে কর্পোরেট ক্রিকেট লিগ প্রবর্তনের মধ্য দিয়ে। গ্রামীণফোন, বসুন্ধরা, একটেল, গাজী গ্রুপ, একমি, ইস্পাহানী, পারটেক্স গ্রুপের মতো দেশসেরা কর্পোরেট হাউজগুলোকে পেয়েছে সেবার বিসিবি। পেয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে। সময়ের সেরা ক্রিকেটার ভারতের টি-টোয়েন্টি সেনসেশন যুবরাজ সিং, পাকিস্তানের শহীদ আফ্রিদি, পেস অলরাউন্ডার আব্দুল রাজ্জাক, টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান ইউনিস খান, শ্রীলঙ্কার কিংবদন্তি ক্রিকেটার কুমার সাঙ্গাকারা, কেনিয়ার স্টিভ টিকোলোর মতো ক্রিকেটারকে কর্পোরেট ক্রিকেট লিগ পেয়েছে অভিষেক আসরেই।
২০০৪ সালের ২১ মে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে বসুন্ধরা-আরাফ অ্যাপারেলসের মধ্যে অনুষ্ঠিত ফাইনাল ম্যাচে দর্শকের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে ৩৫ হাজার। ২০০৪ সালের ১৫ জুলাই লর্ডসে সারে-মিডলসেক্সের মধ্যে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ২৭ হাজার ৫০৯ জন দর্শক উপস্থিতির রেকর্ডে কি উচ্ছ্বসিতই না হয়েছে ইসিবি! তার ৫৪ দিন আগে কর্পোরেট লিগের ফাইনালে ৩৫ হাজার দর্শক হয়েছে জড়ো বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে। টোয়েন্টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের বিশ্বায়ন এবং বাণিজ্যিকীকরণে তো তাহলে বাংলাদেশই থাকবে এগিয়ে।
অন্য দুই সংস্করণের ক্রিকেটে অভিষেক রাঙাতে পারেনি বাংলাদেশ। আইসিসি স্বীকৃত ওয়ানডে ম্যাচে প্রথম জয়ের জন্য বাংলাদেশকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ২৩তম ম্যাচ পর্যন্ত—সময়ের হিসেবে প্রায় এক যুগ। প্রথম টেস্ট জয়ে সেখানে অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে ৩৫তম টেস্ট পর্যন্ত। এখানেও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ব্যতিক্রমী শুরু বাংলাদেশের। ২০০৬ সালের ২৮ নভেম্বর খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে সংক্ষিপ্ত সংস্করণের ক্রিকেটে বাংলাদেশ অভিষেক উদ্যাপন করেছে জয় দিয়ে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৪৩ রানে শাহরিয়ার নাফিসের নেতৃত্বাধীন দলের জয় উদ্যাপনের সেই অভিষেকে ম্যাচ সেরা মাশরাফি ! তাও আবার অলরাউন্ড পারফরমেন্সে। যেখানে ব্যাটিং (২৬ বলে ৩৬ রান) থাকবে বোলিংয়ের (১/২৯) চেয়ে এগিয়ে। বিশ্বকাপের অভিষেকটাও বাংলাদেশ উদ্যাপন করেছে জয় দিয়ে!
২০০৭ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অভিষেক আসরে, অভিষেক ম্যাচে এই ফরমেটের ক্রিকেটে বিশ্বকে মোহাবিস্ট করেছেন ক্রিস গেইল। চার ছক্কার প্রদর্শনীতে আইসিসির হয়ে বিজ্ঞাপন করেছেন। যে বিজ্ঞাপন চিত্র জনসমক্ষে আনতে করেছেন ক্রিস গেইল ৭ চার, ১০ ছক্কায় সেঞ্চুরি (৫৭ বলে ১১৭)। ওটা আবার টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কোনো ব্যাটারের প্রথম সেঞ্চুরি। জোহানেসবার্গে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম সেঞ্চুরিতে গবেষণার উপাত্ত হওয়া সেই গেইল যখন ৪৮ ঘণ্টা পর একই ভেন্যুতে অবতীর্ণ গেইল। প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে তখন গেইল ছাড়াও ডেভন স্মিথ, শিবনারাইন চন্দরপল, মারলন স্যামুয়েলস, রামনরেশ সারওয়ান, দীনেশ রামদিন, ডুয়াইন স্মিথ, ড্যারেন ব্রাভো, ড্যারেন পাওয়েল, রবি রামপাল, ফিদেল এডওয়ার্ডস—সময়ের সেরা সব টি-টোয়েন্টি যোদ্ধা। সেই ম্যাচটিই আবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অভিষেক। অথচ, টি-টোয়েন্টির এই আদর্শ দলটিকেই কি না তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছে মোহাম্মদ আশরাফুলের দল ! গেইলকে ভয়ংকর হতে দেয়নি। ইনিংসের তৃতীয় বলে গেইলকে ‘০’তে ফিরিয়ে দিয়ে সৈয়দ রাসেলের উত্সবে শুরু, সংক্ষিপ্ত সংস্করণের ক্রিকেটে নিজেকে অন্যভাবে উপস্থাপন করেছেন সাকিব আল হাসান বোলিংয়ে (৪/৩৪)। ফিনিশিংটা দিয়েছেন আফতাব আহমেদ (৪৯ বলে ৬২* রান)। তবে সেই দিনটি ছিল আশরাফুলের। ২০ বলে হাফ সেঞ্চুরিতে সে সময়ে দ্রুততম রেকর্ডের ইনিংসে থেমেছেন ২৭ বলে ৭ চার, ৩ ছক্কায় ৬১ রানে! মুখস্ত আর নিজের ট্রেডমার্ক সব শটে মাতিয়েছেন জোহানেসবার্গ। বন্ধু আফতাবকে নিয়ে তৃতীয় উইকেট জুটিতে অবদান রেখেছেন ৬২ বলে ১০৯ রান! তাতেই ১২ বল হাতে রেখে ১৬৫ তাড়া করেছে বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জিতে। রবি রামপালকে দর্শনীয় ফ্লিক শটে ফাইন লেগের ওপর দিয়ে ছক্কায় ছন্দটা পেয়েছেন আশরাফুল। ডোয়াইন ব্রাভোকে পর পর ৩ বলে মেরেছেন ৪, ৪,৬। ফিদেল এডওয়ার্ডসকে ১ ছক্কায় মাথা এলোমেলো করে দিয়েছেন আশরাফুল।
এমন অভিষেকের পরও বাংলাদেশের রেকর্ডটা কিন্তু এই ফরমেটের বিশ্বকাপে বলার মতো নয়। ২৫ ম্যাচে জয় মাত্র ৫টি। আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেই জয়টাই একমাত্র। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ড, হংকংয়ের কাছে হারের তিক্ত অভিজ্ঞতা পর্যন্ত আছে বাংলাদেশের। র্যাঙ্কিংয়ে সেরা আটে থাকতে না পারায় ২০১২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে মূল পর্বের টিকিটের জন্য প্রথম পর্ব থেকে লড়তে হচ্ছে। তবে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পারফরমেন্স বলার মতো।
টানা তিনটি সিরিজ জয়ে, বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়াকে ৪-১ এবং নিউজিল্যান্ডকে ৩-২-এ হারানোয় বাংলাদেশকে ঘিরে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তৈরি হয়েছে বড় প্রত্যাশা। টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে ১০ থেকে ৬-এ উঠে এসেছে বাংলাদেশ সাম্প্রতিক এই সাফল্যে। বিশ্বের প্রথম অলরাউন্ডার হিসেবে ডাবল অর্জনে ইতিহাস রচনা করেছেন সাকিব আল হাসান (১০৬ উইকেট ও ১ হাজার ৭৬৩ রান)। ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেট আইপিএল মাতিয়ে দলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন বিস্ময় বোলার মুস্তাফিজুর রহমান। টোয়েন্টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশের এই দুই ফেরিওয়ালাকে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে এবারের বিশ্বকাপ স্বপ্ন।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সাফল্য, বাংলাদেশে এই খেলার জনপ্রিয়তার পেছনে আছে একটাই ইতিহাস। যে ইতিহাস এই প্রজন্মের অনেকের কাছে অজানা। এদেশে টোয়েন্টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের জনপ্রিয়তায় এক সংগঠকের নাম শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করতে হবে। ২০০৪ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের একক স্বাগতিক ছিল বাংলাদেশ। ওটাই বাংলাদেশের মাটিতে সবচেয়ে বেশি দেশের (১৬টি) অংশগ্রহণে আইসিসির প্রথম কোনো মেগা আসর। ঐ আসরটি সফলভাবে সম্পন্ন করে আইসিসির হাততালি পেয়েছে বাংলাদেশ। তবে ঐ আসরটি আয়োজনে ধাক্কা খেয়েছে ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটের রুটিন আসরগুলো। ঢাকার ক্লাব অফিশিয়ালদের তীব্র আপত্তিতে সেবারের ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ আয়োজনে তৈরি হয়েছে প্রতিবন্ধকতা।
কোনোভাবেই ২০০৩-৪ মৌসুমের ক্রিকেট লিগ যখন শুরু করা যাচ্ছে না, অনুদান বাড়িয়েও ক্লাব কর্মকর্তাদের মন গলানো যাচ্ছে না—তখন বিকল্প কী করা যায়, এই ভাবনাটাই পেয়ে বসে সিসিডিএম চেয়ারম্যান খোন্দকার জামিলউদ্দিনের মাথায়। ক্রিকেটারদের রুটিরুজির নিশ্চয়তায় ক্লাবের ব্যানার বাদ দিয়ে হলেও কিছু একটা করা দরকার। এই ভাবনা থেকে কর্পোরেট লিগ টি-টোয়েন্টি আয়োজনের প্রস্তাবটা বিসিবিতে তোলেন তিনি। বড় বড় কর্পোরেট হাউজগুলোকে রাজি করিয়ে নতুন ফরমেটের টোয়েন্টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট প্রবর্তন করেন তিনি। যখন টোয়েন্টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট নিয়ে ইংল্যান্ডের বাইরে অন্য কোনো দেশের তেমন ভাবনা ছিল না, তখন ভবিষ্যতের ক্রিকেট টোয়েন্টি-টোয়েন্টি বাংলাদেশে প্রবর্তন করেছেন তিনি। ২০০৪ সালের ১০ মে কর্পোরেট ক্রিকেট প্রবর্তনের মধ্য দিয়ে দিয়েছেন ক্রিকেট বিশ্বকে এই খেলাটির জনপ্রিয়তার আগাম বার্তা। পরবর্তী সিসিডিএম চেয়ারম্যান হিসেবে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের সঙ্গে এই সংস্করণের ক্রিকেটকে তিনিই যুক্ত করেছেন। এই কর্পোরেট লিগ এবং ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন টোয়েন্টি-টোয়েন্টির জন্য আইসিসির স্বীকৃত আসরের মর্যাদা নেয়নি বিসিবি। ফলে ক্রিকেটের রেকর্ডস বুকে নেই এক বছরে দুটি কর্পোরেট লিগের আসর। তার পরও বাংলাদেশে টোয়েন্টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের প্রবর্তককে হাজারো সালাম।
লেখক : ক্রিকেট বিশ্লেষক
