‘চলচ্চিত্রে ধারাবদলের হাওয়া লেগেছে’

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২১, ২২:৩৫

ইন্ডাস্ট্রিতে এরইমধ্যে নিজের একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন চিত্রনায়ক বাপ্পী চৌধুরী। অভিনয় মুন্সিয়ানায় প্রতিটি ছবিতেই নিজেকে ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে উপস্থাপন করে দর্শকদের কাছেও বেশ প্রশংসিত হচ্ছেন। নিজের অভিনয় ভাবনাসহ ইন্ডাস্ট্রির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তিনি কথা বললেন ইত্তেফাকের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল

বর্তমানে কোন কাজগুলো নিয়ে ব্যস্ত আছেন?

‘জয় বাংলা’ ছবির শুটিং নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছি এবং ‘বিশ একুশ’ ছবির ডাবিং চলছে। এছাড়া হাতে থাকা অন্যান্য ছবিগুলোর শুটিং শিগগিরই শুরু করব।

‘জয় বাংলা’ ছবিটির গল্প ও চরিত্র প্রসঙ্গে জানতে চাই—

জয় বাংলা পিরিয়ডিক্যাল একটি সিনেমা। সিনেমাটির প্রেক্ষাপট ১৯৬৮ থেকে ১৯৭১। এখানে আমার লুক ও পোশাকে ভিন্নতা থাকছে। আমার চরিত্রের নাম কামাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্র কামাল খণ্ডকালীন সাংবাদিক হিসেবেও কাজ করে। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ কামাল যুদ্ধের ক্ষেত্রে কী ভূমিকা পালন করে সেটাই এই চরিত্রের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হবে।

ইতিহাস নির্ভর গল্পকে বাস্তব রূপ দিতে কোন ধরনের প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়?

দেখুন, এই ব্যাপারটা আসলে মানসিক। মনস্তাত্ত্বিক দিকগুলো নিয়েই এ ধরনের কাজে ভাবনা বেশি থাকে। তবে বর্তমান সরকার অবশ্য সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে। তাই যথাযথভাবে কাজ করাও সম্ভব হচ্ছে। তবে পর্দায় এর বাস্তবায়ন দেখতে যে বাজেট প্রয়োজন তার অভাব বরাবরই রয়েছে। তাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যথাযথভাবে সেই পরিবেশ বাস্তবে তুলে ধরা অনেক সময় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

ইদানিং গল্পনির্ভর কাজে সবাই মনোযোগী হচ্ছেন। এটাকে দর্শক চাহিদা নাকি চলচ্চিত্রের ধারাবদল বলবেন?

আমি মনে করি আমাদের দর্শক ও চলচ্চিত্রের প্রেক্ষাপট বা ধারা দুটোই পরিবর্তিত হচ্ছে। বলা চলে এখন নতুন গল্পের নতুন দর্শক তৈরি হচ্ছে। ফলে চলচ্চিত্রে ধারা বদলের হাওয়া লেগেছে।

এক সময় অনেকটা অনিহা প্রকাশ করলেও বর্তমানে তারকাদের অনুদানের ছবিতে কাজের আগ্রহ বাড়ছে! হটাত্ এমন পরিবর্তন নিয়ে কী মন্তব্য করবেন?

অনুদান শব্দটিতেই আসলে অনিহা ছিল। শব্দটি যদি অনুদান না হয়ে অর্থায়ন হতো তাহলে হয়তো এই অনিহা আসতো না। তবে আমি মনে করি যে গল্পগুলো এতগুলো মানুষের মতামত নিয়ে নির্বাচক কমিটির কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়ে সরকারি অনুমোদন পায়, সেই গল্পের মান অবশ্যই ভালো। আর সেই উপলব্ধি থেকেই সবাই এখন অনুদানের ছবিতে কাজ করতে আগ্রহী হচ্ছেন।

এরইমধ্যে ওটিটিতে চলচ্চিত্র মুক্তির প্রচলন শুরু হয়েছে। এই চর্চা চলচ্চিত্র সংকট মোকাবেলায় কতটা সহায়ক হবে?

চলচ্চিত্র আপনি যেখানেই মুক্তি দেন না কেন, হলে বসে দেখার মজা কী কখনো অন্য কোথাও পাওয়া যাবে! তবে অনলাইনের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ দর্শক রয়েছে। যারা নিজেদের অবসর সময়টুকু স্বল্প পরিসরে বিনোদনের মাধ্যমগুলোতে কাজে লাগাতে চায়। চলচ্চিত্রের সংকট মোকাবেলায় হলের পরিমাণ বৃদ্ধির পাশাপাশি ভালো বাজেটের ধামাকাদার ছবির কোনো বিকল্প নেই। কারণ দর্শকরা কিন্তু টাকা খরচ করে পয়সা উসুল বিনোদনটাই চায়।

ওটিটি নিয়ে বাপ্পীর পরিকল্পনা ও প্রত্যাশা কী?

ওটিটি যদি আমাকে বড় ক্যানভাসের স্বাদ দিতে পারে কখনো তাহলে তা অবশ্যই করা হবে। তবে সেই সম্ভাবনা কতটুকু রয়েছে তা সময়ই বলে দেবে। এখনই এই বিষয়টি নিয়ে তেমন কিছু বলতে পারছি না।

দীর্ঘদিন পর নতুন ছবি হলে ফিরেছে, কিন্তু সেভাবে দর্শক ফেরাতে পারছে না! এর কারণ কী বলে মনে করছেন?

দেখুন, আমাদের অনেক আগে থেকেই হল সংকট এবং দর্শকবিমুখতার একটা সমস্যা রয়েছে। তার ওপর করোনার একটা বড় গ্যাপ তো আছেই। দীর্ঘ সময় হলে নতুন ছবি না আসায় মানুষ হলে যাওয়ার অভ্যাস থেকে বের হয়ে গেছে। যারা নিয়মিত হলে গিয়ে ছবি দেখেন তাদের ফিরে আসতে হয়তো একটু সময় লাগবে। তবে ভালো ছবি মুক্তি পেলে দর্শকরা হলে আসবেই। আমি মনে করি, এই সংকটের সময়ে দর্শকদের হলে ফেরানোর মতো ছবি মুক্তি বেশি বেশি মুক্তি দিতে হবে।

আপনার নতুন ছবি কবে পাচ্ছে দর্শকরা?

আমার মুক্তি প্রতীক্ষিত অনেকগুলো ছবি আছে। আসলে করোনার কারণে প্রোডিউসার-নির্মাতারা ঝুঁকি নিতে চাচ্ছেন না। তবে করোনা এই ধকল কাটিয়ে উঠতে পারলে হয়তো তারা এই বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করবেন। আশা করছি শিগগিরই আমার দর্শকদের ভালো খরব দিতে পারব।