g রয়টার্স
মিয়ানমার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার যে জোটের সদস্য, সেই আসিয়ানের শীর্ষ সম্মেলনে এবার জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাই দাওয়াত পাচ্ছেন না। এপ্রিলে ইন্দোনেশিয়ায় হওয়া বিশেষ সম্মেলনে মিয়ানমারের সংকট নিরসনে হ্লাই আসিয়ানের সঙ্গে যে যে বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছিলেন, তার কোনোটি বাস্তবায়িত না হওয়ায় বিরক্ত অনেক জোট সদস্যের চাপে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক বৈঠকে চলতি মাসের শেষ দিকে হতে যাওয়া শীর্ষ সম্মেলনে মিয়ানমার থেকে অরাজনৈতিক প্রতিনিধি রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে জোটের বর্তমান সভাপতি ব্রুনাই। শীর্ষ সম্মেলনে মিয়ানমারের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের উপস্থিতি নিয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলো একমত হতে না পারায় এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে, বলেছেন তারা। বৈঠকে কর্মকর্তারা মিয়ানমারের জান্তাপ্রধানকে সম্মেলনের বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত নেন বলে বেশ কয়েকটি সূত্র আগেই জানিয়েছিল। ব্রুনাই তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে। অরাজনৈতিক প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানানোর এই প্রস্তাবে মিয়ানমারের জান্তা যদি সম্মতি না দেন, তাহলে সম্মেলনে মিয়ানমারের আসন খালি রাখার সিদ্ধান্তও হয়েছে বলে দুটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। এপ্রিলে মিয়ানমার নিয়ে আসিয়ানের বিশেষ সম্মেলনে যে পাঁচটি বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল, সেগুলো হচ্ছে :সহিংসতার অবসান, সব পক্ষের মধ্যে একটি গঠনমূলক সংলাপ, সংলাপ সহজতর করতে আসিয়ানের বিশেষ দূত নিয়োগ, সহায়তা গ্রহণ এবং ঐ দূতের মিয়ানমার সফর। আসিয়ান এরই মধ্যে এরিওয়ান ইউসুফকে মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য, নরওয়ে, পূর্ব তিমুর ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন মিয়ানমারের ‘ভয়াবহ পরিস্থিতি’ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে যে যৌথ বিবৃতি দিয়েছে, সেখানেও নেপিডোর প্রতি ইউসুফকে সহযোগিতা করতে আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে আসিয়ানের এই বিশেষ দূত চলতি মাসেও মিয়ানমারে যাচ্ছেন না বলে জানিয়েছে বেশ কয়েকটি সূত্র।
এরিওয়ান ইউসুফ চাইছেন মিয়ানমারে গিয়ে অং সান সু চিসহ বিবদমান সব পক্ষের সঙ্গে দেখা করতে এবং কথা বলতে। অন্যদিকে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করা দেশটির বর্তমান সরকারের মুখপাত্র জ মিন তুন সম্প্রতি বলেছেন, ইউসুফকে মিয়ানমারে স্বাগত জানানো হবে, কিন্তু তাকে সু চির সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হবে না।
মিন অং হ্লাই
