পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমার থেকে টেকনাফ হয়ে আচার, কাপড়ের প্যাকেট আবার কখনো চায়ের ফ্লেভারের প্যাকেটে আসছে ভয়ংকর মাদক আইস। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে অবৈধ মাদক আইসের সবচেয়ে বড় ৫ কেজির চালান এবং বিদেশি অস্ত্র ও গুলিসহ টেকনাফ কেন্দ্রিক আইস সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা মো. হোছেন ওরফে খোকন ও তার সহযোগী মোহাম্মদ রফিককে গ্রেফতারের পর এসব তথ্য জানিয়েছে র্যাব।
র?্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র?্যাব-১৫ এর যৌথ অভিযানে গত শুক্রবার ভোরে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। জব্দ হওয়া আইসের বাজার মূল্য প্রায় সাড়ে ১২ কোটি টাকা। এছাড়াও তাদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল, তিনটি মিয়ানমারের সিমকার্ড এবং মাদক কারবারিতে ব্যবহূত ২০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার দুপুরে কাওরান বাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, গ্রেফতার হোছেন ওরফে খোকন টেকনাফ কেন্দ্রিক মাদক সিন্ডিকেটের অন্যতম। হোছেন ওরফে খোকন কাপড় ব্যবসা, বার্মিজ আচার ও চায়ের ব্যবসার কথা বলে অবৈধভাবে মিয়ানমারে যাতায়াত করে। এর আড়ালে মূলত তিনি ইয়াবা নিয়ে আসেন। গত পাঁচ বছর যাবত্ হোছেন ওরফে খোকন ইয়াবা কারবারে জড়িত। তবে বেশ কয়েক মাস ধরে তিনি আইসের চালান আনতে শুরু করেন। ইতিমধ্যে তার সঙ্গে মিয়ানমারের মাদক কারবারিদের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি হয়েছে। হোছেনের সিন্ডিকেটে রয়েছে ২০-২৫ জন। টেকনাফে তার পরিচিতি হোছেন নামেই। তার নামে বিভিন্ন থানায় অস্ত্র ও মাদকসহ অন্তত সাতটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।
অপর গ্রেফতার মোহাম্মদ রফিক পেশায় একজন অটোরিকশাচালক। এর আড়ালে তিনি মাদক কারবারি চক্রের সদস্য। মিয়ানমার থেকে নৌপথে টেকনাফে আনার পর ইয়াবা ও আইসের চালান রফিকের অটোরিকশায় পৌঁছে যায় নিরাপদ স্থানে। এক প্রশ্নের জবাবে খন্দকার মঈন বলেন, চট্টগ্রামে ও ঢাকার অভিজাত শ্রেণির মধ্যে আকাশচুম্বী চাহিদা রয়েছে। তাদের চাহিদা অনুযায়ী আইসের চালান আসছে। চট্টগ্রাম হয়ে বিভিন্ন যানবাহন ছাড়াও নিজস্ব যানবাহন ব্যবহার করে উত্তরা, বনানী, গুলশান, ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুরসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় তাদের সিন্ডিকেট সদস্য ও ডিলারদের কাছে পৌঁছে দেয় আইস ও ইয়াবার চালান।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হোছেন ও রফিক জানিয়েছে, ইয়াবার সঙ্গে বাংলাদেশে আইসের কারবার ছড়িয়ে দিতে কম মূল্যে বিক্রি করছে আইস। এক গ্রাম আইসের দাম মিয়ানমার কারবারিরা রাখছে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা। যা বাংলাদেশে বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। এটা লাভজনক হওয়ায় আইসে ঝুঁকছে মাদক কারবারিরা। গড়ে তুলছে সুসম্পর্ক। দুই দেশের মাদক কারবারিদের মধ্যে সম্পর্ক এতটাই গড়ে উঠেছে যে, কোনোভাবে আইসের কোনো চালান যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক জব্দও হয় তবে সেজন্য কোনো ধরনের পেমেন্ট নেয় না মিয়ানমারের মাদক কারবারিরা।
