ব্রিটিশ এমপি হত্যাকাণ্ড সন্ত্রাসী ঘটনা :পুলিশ

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২১, ২৩:১৮

ব্রিটেনের পুলিশ দাবি করেছে, ক্ষমতাসীন দল কনজারভেটিভ পার্টির এমপি ডেভিড অ্যামেসের হত্যাকাণ্ড একটি সন্ত্রাসী ঘটনা। এই হামলার সঙ্গে চরমপন্থি বা জঙ্গিবাদের যোগসূত্র থাকতে পারে বলেও দাবি করেছে মেট্রোপলিটন পুলিশ। জঙ্গিবাদের সন্দেহে দেশটির মুসলমানদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এদিকে গতকাল এমপি নিহতের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের

হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন হিসেবে ২৫ বছর বয়সি সোমালিয়ান বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিককে আটক করেছে পুলিশ। মেট্রোপলিটন পুলিশ আরো জানিয়েছে, তদন্তের অংশ হিসেবে লন্ডনের দুটি এলাকায় তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি একাই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছে বলে ধারণা। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের কাজ অব্যাহত রয়েছে। গত শুক্রবার দুপুরে নির্বাচনি এলাকার ভোটারদের সঙ্গে বৈঠকের সময় তার ওপর হামলা চালানো হয়। এসেক্সের বেলফেয়ার্স মেথোডিস্ট গির্জায় নির্বাচনি সভায় হামলার ঘটনা ঘটে।             ঘটনাস্থল থেকে একটি ছুরি উদ্ধার করে পুলিশ। ডেভিড অ্যামেসকে উদ্ধার করে জরুরি চিকিত্সা দেওয়া হলেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনসহ অনেকে।

মুসলিম কমিউনিটিতে উদ্বেগ

এমপি খুনের ঘটনার সঙ্গে ইসলামি জঙ্গিবাদের সম্পর্ক রয়েছে। পুলিশের এমন সন্দেহের খবরে দেশটির মুসলিম কমিউনিটিতে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। যুক্তরাজ্যে মুসলিমদের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। ৩০ লাখের বেশি মুসলিমের মধ্যে অন্তত ৭ লাখই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। জঙ্গিবাদের খবর প্রকাশ হওয়ার পরই মুসলমানরা উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এই ঘটনায় যুক্তরাজ্যে ইউকিপ, উগ্র ডানপন্থি ব্রিটিশ ন্যাশনাল পার্টির মতো বর্ণবাদী দলগুলো সুযোগ পাবে। অতীতের ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এ ধরনের কোনো জঙ্গি হামলার পর যুক্তরাজ্যে বিদ্বেষমূলক অপরাধ বেড়ে যায়। আর এসবের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন মুসলমানরা।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন বরিস জনসনের

প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন গতকাল শনিবার গির্জা পরিদর্শনে যান এবং সেখানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রীতি প্যাটেল এবং লেবার পার্টির প্রধান কেইর স্টারমারও সেখানে গিয়ে ফুল দিয়ে নিহতের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তারা বিদায়ের আগে নিহত এমপির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১ মিনিট নীরবতা পালন করেন। রাজনীতিকরা এই হামলাকে গণতন্ত্রের ওপর হামলা বলে উল্লেখ করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রীতি প্যাটেল বলেন, তিনি নির্বাচিত রাজনীতিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন। সশস্ত্র পুলিশ পার্লামেন্টে এমপিদের নিরাপত্তা দিলেও তাদের নিজ আসনে কোনো নিরাপত্তা দেয় না। ক্ষমতাসীন দলের এমপি টোবিয়াস এলউড বলেন, এমপিদের প্রধান কাজ জনগণের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা। এখন এমপিদের মধ্যে এই জনসংযোগ করা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ল।