নৌযানের বেপরোয়া চলাচলে সিলেটের বিভিন্ন নদীর ওপর নির্মিত সেতুগুলো ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রায়ই বিভিন্ন ধরনের নৌযানের ধাক্কায় সেতুর পিলারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গত ১৪ আগস্ট সিলেটের গোয়াইনঘাট সেতুর পিলারে একটি বালুবাহী নৌযান ধাক্কা দিলে সেতুর পিলারের বেশ ক্ষতি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২০ আগস্ট সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সেতুটি সুরক্ষায় ঐ পথে নৌচলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন সেই পথে চলাচলকারী নৌযানগুলোর চালক, শ্রমিক ও মালিকেরা। সেই সঙ্গে যাত্রীদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শত শত শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন।
নৌচলাচল বন্ধ থাকায় ঐ রুট ইজারা নেওয়া মেসার্স এসএল এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বৈধ বালু উত্তোলন কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী সুবাস দাস ইতিমধ্যে ক্ষতিপূরণ চেয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটি)-এর চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত আবেদনও করেছেন। আবেদনে তিনি বলেন, ‘ইজারাধীন পথ দিয়ে নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ায় বালু উত্তোলন হচ্ছে না, বিক্রয়ও হচ্ছে না। এতে আমাদের প্রতিষ্ঠান প্রায় ২ কোটি টাকার ক্ষতিতে পড়েছে। আমরা এই ক্ষতিপূরণ চাই।’
এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটি)-এর উপপরিচালক মো. শহীদ উল্লাহর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল এখন সিলেটে। গত শুক্রবার এই টিম গোয়াইন নদসহ ইজারাকৃত নৌপথ ও ক্ষতিগ্রস্ত পিলার পরিদর্শন করেছেন। উপপরিচালক বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে প্রতিবেদন দেওয়ার পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম (এসও), বিআইডব্লিউটির আশুগঞ্জ ভৈরব শাখার ইনচার্জ শহীদুল ইসলাম, বিআইডব্লিউটির সহকারী পরিচালক সুব্রত রায় প্রমুখ।
সূত্র জানায়, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটি) সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বাউরবাগ-রানীগঞ্জ গ্রাম পর্যন্ত ডাউকি নদী, গোয়াই নদ ও চেঙ্গের খাল ঘাট নৌপথ প্রতি বছর ইজারা দিয়ে থাকে। ২০২১-২২ অর্থবছরে নৌপথটি প্রায় ২ কোটি টাকায় ইজারা নেয় মেসার্স এসএল এন্টারপ্রাইজ। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে বালু উত্তোলন কার্যক্রম শিথিল থাকে। পরে ১ আগস্ট থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বালু আহরণ শুরু হলেও ১৪ আগস্ট সেতু দুর্ঘটনার পর ঐ পথে নৌচলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে ঐ পথের বালু আহরণ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিলুর রহমান বলেন, ইজারা গ্রহণকারীদের আর্থিক ক্ষতিসহ অন্য বিষয়গুলো দেখা এখন বিআইডব্লিউটিএর বিষয়। গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ফারুক আহমদ বলেন, নৌচলাচল বন্ধ হওয়ার কারণে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিষয়টি কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করবে।
