ইউপি নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন

১১ মামলার আসামি আউট ‘অনুপ্রবেশকারী’ ইন

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২১, ০০:১৬

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার জলসুখা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ১১ মামলার আসামি শাহজাহান মিয়ার মনোনয়ন বাতিল করেছে আওয়ামী লীগ। সেখানে নতুন করে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে রোকসানা আক্তার শিখাকে। তবে তাকে নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। এ নিয়ে দ্বিতীয় ধাপের আসন্ন ইউপি নির্বাচনে এ পর্যন্ত মোট ১৫ জন বিতর্কিত প্রার্থী বদল করলো আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বাতিলের পর শাহজাহান মিয়া দাবি করেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ৫-৬টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশই রাজনৈতিক। আর অস্ত্র মামলাটি ছিল সাজানো। আমাকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানো হয়েছিল।’

আগামী ১১ নভেম্বর সারাদেশের ৮৪৮টি ইউপিতে ভোট হবে। এরমধ্যে রয়েছে জলসুখা ইউনিয়ন। গত ১০ অক্টোবর চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ তাকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা মুখে পড়তে হয়। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী ও ভোটাররাও জানান ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া। শাহজাহান মিয়ার বিরুদ্ধে রয়েছে অস্ত্র, নৌ-ডাকাতি, হত্যাসহ ১১টি মামলা। ২০১৯ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর অস্ত্রসহ র্যাবের হাতে গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন তিনি।

এদিকে নতুন মনোনয়ন পাওয়া রোকসানা আওয়ামী লীগে ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়দের অভিযোগ, রোকসানা ২০১৪ সালে বিএনপি-সমর্থিত ১৯-দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেন। আজমিরীগঞ্জের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দাবি, মুক্তিযুদ্ধের সময় রোকসানার বাবা শান্তিবাহিনীর সদস্য ছিলেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রোকসানা আক্তার শিখা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার বাবা কখনও শান্তিবাহিনীর সদস্য ছিলেন না। একটি চক্র মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। এ ছাড়া আমি সব সময়ই আওয়ামী লীগের কর্মী ছিলাম।’

দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলটির মনোনয়ন পাওয়া শতাধিক প্রার্থীর বিরুদ্ধে তিন শতাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনার কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন তৃণমূলের নেতারা। ছয় দিনে ৪৪৫৮ জন প্রার্থী থেকে ৮৪৮ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান ইত্তেফাককে বলেন, ‘মনোনয়ন বোর্ডের সভায় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করেই প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আছে কি-না, দলে তার অবদান কতটা, এলাকায় সে কতটা জনপ্রিয় তা দেখেই মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।’