জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কার্বন নিঃসরণ কমাতে নানামুখী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার থেকে বেরিয়ে আসার ঘোষণা দিচ্ছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। তবে এক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে এয়ারলাইনস ও শিপিং খাত। এজন্য এ দুই শিল্পে কার্বন নিঃসরণ কমাতে পদক্ষেপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সংস্থাগুলোর খবর।
গ্লোবাল সাসটেইনেবল ট্রান্সপোর্ট কনফারেন্সে জাতিসংঘের মহাসচিব বলেন, এয়ারলাইনস ও শিপিং কোম্পানিগুলো তাদের গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ কমাতে ব্যর্থ হয়েছে এবং এজন্য জলবায়ু সংকট নিতে তাদের নতুন প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। বর্তমান প্রচেষ্টাগুলো অপ্রতুল এবং এটি বিশ্বজুড়ে উষ্ণতার বিপর্যয় ডেকে আনবে।
শিপিং ও এভিয়েশন শিল্প থেকে কার্বন নিঃসরণ কমাতে জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলো কিছু কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এক্ষেত্রে ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশন (আইসিএও) এবং ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও) পদক্ষেপ নিতে দেশগুলোকে উত্সাহিত করছে। তবে বর্তমান প্রতিশ্রুতিগুলো প্যারিস চুক্তির লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বিশ্বব্যাপী গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণের প্রায় ৩ শতাংশের জন্য দায়ী এয়ারলাইনস ও শিপিং শিল্প। উভয় শিল্পই কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত সমস্যার মুখে রয়েছে। উড়োজাহাজগুলো উচ্চ ঘনত্বের জ্বালানি ব্যবহার করে এবং তুলনামূলক অপরিষ্কার ভারী তেল দিয়ে চলে জাহাজগুলো।
গুতেরেস দৃঢ়প্রত্যয়ী যে, গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ কমিয়ে আনার বাধ্যবাধকতা থেকে শিল্পগুলোকে বাইরে রাখা উচিত নয়। এক্ষেত্রে জরুরি বিষয় হিসেবে আরো জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি ২০৩০ সালের মধ্যে শূন্য নিঃসরণ জাহাজকে বাণিজ্যিকভাবে সহজ লভ্য করার জন্য এবং ২০৫০ সালের মধ্যে নিঃসরণ শূন্যে নামানোর বিষয়টিতে প্রধান অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান।
