ভারতের সবচেয়ে পুরোনো রাজনৈতিক দল ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস। দীর্ঘদিন ভারতের ক্ষমতায় থাকা দলটি ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে হারের পর থেকে দুর্বল হতে শুরু করে। ২০১৯ সালের নির্বাচনেও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি তারা। গত সাত বছরে ভারতের বেশ কয়েকটি রাজ্যও কংগ্রেসের হাতছাড়া হয়েছে। যে কয়েকটি রাজ্যে বর্তমানে কংগ্রেসের সরকার রয়েছে সেখানেও নানা অস্থিরতা চলছে। পাঞ্জাব কংগ্রেসে অস্থিরতা চলছে। রাজস্থানেও তাদের সংকট ঘনীভূত হচ্ছে। এর মধ্যেই একের পর এক নেতা দল ছেড়ে যোগ দিচ্ছেন বিজেপি, তৃণমূল কংগ্রেসে। সংকট বাড়তে থাকলেও ঘর গোছাতে পারছে না দলটি।
এ কারণে ক্ষুব্ধ কংগ্রেসের সিনিয়র নেতারা (‘জি-২৩’ নামে পরিচিত) দলের সাংগঠনিক কাঠামো ঢেলে সাজানোর দাবি জানিয়ে আসছে। দুই বছর আগে অন্তর্বর্তী সভাপতি সোনিয়া গান্ধীকে সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠনের জন্য তারা চিঠিও লিখেছিলেন। সম্প্রতি ভারতের সুপরিচিত ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোর কংগ্রেসের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার মতে, এই দলের গভীরে থাকা সমস্যা ও কাঠামোগত দুর্বলতার কোনো চটজলদি সমাধান নেই।
কারণ প্রায় দুই বছর ধরে দলটির স্থায়ী সভাপতি নেই। যা নিয়ে দলটির মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।
এই সংকটের মধ্যে গত শনিবার বৈঠকে বসে কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটি। সেখানে অবশ্য নেতৃত্ব সংকটকে পাত্তা দেননি বর্তমান অন্তর্বর্তী সভাপতি সোনিয়া গান্ধী। তিনি বলেন, আমিই পূর্ণ সময়ের সভানেত্রী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কংগ্রেসের পূর্ণ সময়ের সভানেত্রীর দায়িত্ব পালনে রাজি তিনি। আগামী বছরের সেপ্টেম্বর মাসে কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এই বৈঠকেই কংগ্রেস সভাপতি পদে ফিরে আসার ব্যাপারে ইঙ্গিত দিয়েছেন রাহুল গান্ধী। গত লোকসভা নির্বাচনে খারাপ ফলের পর কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। তার পর থেকে দলের অন্তর্বর্তী সভানেত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন সোনিয়া গান্ধী। ঐ পদে স্থায়ীভাবে রাহুলকে চেয়ে ইতিমধ্যেই দলের একাধিক শীর্ষ নেতা আহ্বান জানিয়েছেন।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক খবরে বলা হয়েছে, কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে সোনিয়া গান্ধী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ গান্ধী পরিবারের হাতেই থাকবে। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি আরো এক বছর অন্তর্বর্তী সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। অন্যদিকে রাহুল গান্ধী বলেছেন, তিনি সভাপতি পদে ফেরার জন্য চিন্তা-ভাবনা করবেন এবং সেটা দলের নিয়ম মেনেই। ২০১৯ সালের রাহুলের পদত্যাগের পর ধারণা করা হয়েছিল—হয়তো গান্ধী পরিবারের বাইরের কেউই হতে পারেন কংগ্রেসের সভাপতি কিন্তু তা হয়নি। এখন অনেক সিনিয়র নেতাও রাহুলের সভাপতি হওয়ার পক্ষে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। রাহুল গান্ধীও ইঙ্গিত দিয়েছেন সভাপতি পদে ফেরার। যে কারণে বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশ ভারতের পুরোনো দলটির নিয়ন্ত্রণ গান্ধী পরিবারের হাতেই থাকছে। যদিও এই ইস্যুতে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সমালোচনা দীর্ঘদিনের।
