সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ নিজের বুদ্ধি-বিবেককে কাজে লাগিয়ে এর বিকাশ ঘটিয়ে মানবসভ্যতার বহু উন্নতি ঘটিয়েছে। আবিষ্কার করেছে বহু প্রয়োজনীয় বস্তু। নিজেদের মেধাকে পুঁজি করে এগিয়েছে বহুদূর। বলা হয়, মানুষের বিবেক মানুষের শ্রেষ্ঠ আদালত। কিন্তু বর্তমানে অনেক মানুষের বিবেকের পরিচয় তার আচরণে প্রতিফলিত হয় না। বিবেকহীনের মতো বহু কাজ আমরা করে থাকি। যেমন নির্দিষ্ট স্থানে ডাস্টবিন থাকা সত্ত্বেও আমরা ফুটপাত-রাস্তা কিংবা রাস্তার ধারে, শপিংমল-মার্কেটে টবে রোপণ করা গাছের গোড়ায় পানের পিক, থুতু, সিগারেট ফেলছি। যানবাহন থেকে রাস্তার মধ্যে ফেলছি চিপস-চানাচুরের প্যাকেট। শহরের বিভিন্ন দেয়ালের ধারে কিংবা সড়কের পাশে প্রস্রাব করছি। এতে আমাদের চারপাশ নোংরা হচ্ছে। যে গাছ আমাদের অক্সিজেন দেয় তার গোড়ায় পানের পিক, থুতু, সিগারেট ফেলায় তা নির্জীব হয়ে পড়ছে। রাস্তায় ময়লা ফেলা কিংবা সড়কের ধারে প্রস্রাব করায় পরিবেশ হচ্ছে নোংরা। এছাড়া অনেকে বিভিন্ন পাবলিক পেসে বিশেষত যানবাহনে ধূমপান করেন, যা গাড়িতে থাকা যাত্রীদের বিশেষ করে শিশুদের এবং অসুস্থ রোগীদের অস্বস্তিতে ফেলে। তৈরি হয় বিব্রতকর পরিস্থিতি। আজকাল সড়কে দুর্ঘটনা ঘটলে আমরা নিজেদের মানবিকতাকে ভুলে আহত ব্যক্তিকে সাহায্য না করে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোডের জন্য ছবি/ভিডিও করি, বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিকে নিয়ে অনলাইনে ট্রল করি। ভাইরাল হওয়ার আশায় আমরা নিজেদের মানুষ্যত্ব কোরবানি করে দেই। এভাবে আমাদের আচরণে বিবেকহীনতা প্রকাশ পায়। যা সত্যিই দুঃখজনক। অবিবেচকের মতো কাজ না করে জাগ্রত হোক আমাদের বিবেক।
মো. আবীর আল-নাহিয়ান
জকিগঞ্জ, সিলেট
