রাজধানীর খিলক্ষেতে নিকুঞ্জ আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে তরুণ এক চিকিত্সকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। জয়দেব চন্দ্র দাস দেবাশীষ নামের ২৫ বছর বয়সি ঐ তরুণ কিছুদিন আগে সিলেটের ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করেছেন। তার গ্রামের বাড়ি দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুরের দক্ষিণ সালান্দার কুমারিপাড়া গ্রামে। মারা যাওয়ার আগে চিরকুট লিখে গেছেন জয়দেব।
খিলক্ষেত থানার ওসি মুন্সি সাব্বির আহমেদ জানান, সম্প্রতি ঢাকায় এসে নিকুঞ্জ আবাসিকের ১৫ নম্বর সড়কের একটি ফ্ল্যাটে উঠেছিলেন দেবাশীষ। ঐ ভবনের বিভিন্ন ফ্ল্যাটে চিকিত্সকরা মেস করে থাকেন। অষ্টম তলায় দেবাশীষের কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালে শনিবার রাতে প্রতিবেশীরা থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে খাটের ওপর থেকে দেবাশীষের মৃতদেহ উদ্ধার করে বলে জানান ওসি।
মৃতদেহে পচন ধরেছিল জানিয়ে তিনি বলেন, ভবনের নিরাপত্তাকর্মী জানিয়েছে, দেবাশীষকে তিন দিন সে বাসা থেকে বের হতে দেখেনি। ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, যে বিছানায় দেবাশীষের মৃতদেহ পাওয়া গেছে, সেখানে সিরিঞ্জ ছিল। ঐ কক্ষে কিছু আলামত পাওয়া গেছে, যাতে আত্মহত্যা বলে ধারণা হয়। সিআইডির ফরেনসিক দলও এ বিষয়ে কাজ করছে জানিয়ে ওসি মুন্সি সাব্বির আহমেদ বলেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলেই মৃত্যুর কারণ বোঝা যাবে।
চিরকুটে যা লিখে গেছেন : ‘জীবন ও মৃত্যু সমান, বেঁচে থাকার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। আমার এ মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়’। মারা যাওয়ার আগে এমনই একটি চিরকুট লিখে যান জয়দেব। এই সূত্র ধরেই তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।
