দীর্ঘ ১৯ মাস পর করোনার ধাক্কা সামলে আবার মুখরিত হয়ে উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। গতকাল রবিবার সকাল থেকে নিয়মিত রুটিন অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ে সশরীরে পাঠদান ও পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সকাল ৮টা থেকে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পদচারণা আর উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ প্রাঙ্গণ।
ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগ ও ইনস্টিটিউটগুলোতে সশরীরে পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থীরা শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে পাঠদান কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেছে। বেশ কয়েকটি বিভাগ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ করে পাঠদান পরিচালনা করছে। তবে পুরোদমে ক্লাস-পরীক্ষা শুরু হয়নি। বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের শিক্ষকগণ পরবর্তী পরীক্ষার জন্য বাছাই করা নামমাত্র ক্লাস নিচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের লস রিকভারি প্ল্যান অনুযায়ী ৬০ শতাংশ ক্লাস নেওয়া শেষ হলেই পরীক্ষা গ্রহণ শুরু হবে।
দীর্ঘদিন পর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আসেন শিক্ষার্থী নাসরিন আক্তার। বললেন, ‘দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস বন্ধ থাকার কারণে আমরা একাডেমিক দিক থেকে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি। এখন ক্ষতির সম্ভাবনা কমবে। আশা করি, বিশ্ববিদ্যালয়ের রিকভারি প্ল্যান অনুযায়ী খুব শিগগির একাডেমিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারব। বিশ্ববিদ্যালয় খোলার জন্য যে নানা ধাপ ও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সশরীরে ক্লাস শুরু হওয়ার মাধ্যমে তা পূর্ণতা পেল।’
তিনি বলেন, ‘একটি বিষয় খুবই আশাব্যঞ্জক, যেসব শিক্ষার্থী ক্লাসে অংশ নিয়েছে, তারা সবাই ভ্যাকসিনেটেড। ছেলেমেয়েরা ক্লাসে ফিরতে পেরে খুবই উচ্ছ্বসিত। তারা যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাসে অংশ নিয়েছে, এটা সারা জাতির জন্য অনুকরণীয়।’
‘ক্ষতি পোষানোর’ পরিকল্পনা
এদিকে দীর্ঘ ১৯ মাস বন্ধ থাকার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের দেড় বছরের সেশনজট কমানোর জন্য ‘ক্ষতি পোষানোর পরিকল্পনা’ (লস রিকভারি প্ল্যান) গ্রহণ করেছে একাডেমিক কাউন্সিল। এ পরিকল্পনার আওতায় সেমিস্টার পদ্ধতির ক্ষেত্রে পরীক্ষাসহ সেমিস্টারের সময় ছয় মাসের পরিবর্তে চার মাস করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আর বার্ষিক কোর্স পদ্ধতির ক্ষেত্রে ১২ মাসের পরিবর্তে আট মাস করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, ‘যেসব বর্ষের/সেমিস্টারের শিক্ষার্থীদের সেশনজট হয়েছে কিংবা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তাদের সেশনজট নিরসনের জন্য এই পদ্ধতি প্রণয়ন করা হয়েছে। আশা করি এই পদ্ধতির মাধ্যমে আমরা সেশনজট কাটিয়ে উঠতে পারব।’
মহামারি পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় অধিকাংশ বিভাগ ও ইনস্টিটিউট গত দেড় বছর ধরে আটকে থাকা পরীক্ষাগুলোর মধ্যে প্রথম সেমিস্টার নিয়ে দ্বিতীয় সেমিস্টারে পরীক্ষা নেওয়া শুরু করেছে, বার্ষিক পদ্ধতিতে এক বছরের পরীক্ষা নিতে পেরেছে অনেক বিভাগ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, বিজ্ঞান গ্রন্থাগারসহ বিভাগ-ইনস্টিটিউটের সেমিনার লাইব্রেরিগুলো ২৬ সেপ্টেম্বর থেকেই সীমিত আকারে খুলে দেওয়া হয়। সে সময় সীমিত আকারে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন সেবাও চালু করা হয়।
১২ দিনেও নেই কোভিড আক্রান্ত
গত ১২ দিনেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের কেউ কোভিডে আক্রান্ত হননি। ঢাবি মেডিক্যাল সেন্টারের পরিচালক ডা. সরোয়ার জাহান মুত্তাকী বলেন, ‘আমাদের কাছে কোভিডে আক্রান্ত হয়ে কেউ আসেননি। তবে হালকা জ্বর-সর্দি নিয়ে চার-পাঁচজন শিক্ষার্থী সেবা নিয়েছেন। এটা ঋতু পরিবর্তনের কারণে হচ্ছে। আবার অনেকে বাড়ি থেকে দীর্ঘ পথ ভ্রমণ করে আসার কারণেও এমনটি হচ্ছে।’
