স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ‘আমরা প্রথম থেকেই বলছি, কুমিল্লার ঘটনাটি কেউ উদ্দেশ্যমূলকভাবে ঘটিয়েছে। বাংলাদেশের কোনো মানুষ, সে মুসলমান হোক, খ্রিষ্টান কিংবা হিন্দু হোক, তারা ধর্মান্ধ নয় বরং ধর্মভীরু, যার যার ধর্ম সে পালন করে।’ গতকাল রবিবার শহিদ শেখ রাসেলের ৫৮তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত ‘শিশুদের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমানের সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান, সাবেক আইজিপি ও কলামিস্ট এ কে এম শহীদুল হক, দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত এবং জাগো নিউজের সহকারী সম্পাদক ও কলামিস্ট ড. হারুন রশীদ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ। এ দেশে প্রতিটি ধর্মের মানুষ সমানভাবে বসবাস করে। আমরা সবাই মিলে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। এ দেশ মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সবার। এটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ। আমরা মনে করি ও হূদয়ে ধারণ করি বলেই আমাদের গতি অপ্রতিরোধ্য। কোনো ধর্মের মানুষ অন্য ধর্মের পবিত্র গ্রন্থকে এভাবে অবজ্ঞা করবে, সেটা এ দেশের মানুষ বিশ্বাস করে না। এর পেছনে কী কারণ আছে, অবশ্যই আমরা তা খুঁজে বের করব এবং তার পরেই আপনাদের জানাব। যারাই এটি ঘটিয়েছে, তাদের উদ্দেশ্য কখনো সফল হবে না। তাদের বিরুদ্ধে আমরা যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেব।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনিরা চেয়েছিল বাংলাদেশকে একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করতে। তারা পরিবারের একটি সদস্যকেও বেঁচে থাকতে দিতে চায়নি। কিন্তু তার কন্যা আজ দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয় বাংলাদেশকে একটি ডিজিটাল দেশ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। পুতুল অটিজম সম্পর্কে গবেষণা করে বিশ্বে আলোচনা সৃষ্টি করেছেন। টিউলিপ সিদ্দিকী ব্রিটেনে সংসদ সদস্য হয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর রক্ত যেখানেই গেছে, সেখানেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
ড. মীজানুর রহমান বলেন, এতিম শিশুকে জঙ্গি করে গড়ে তোলা সহজ। সারা দেশে সেটাই করা হচ্ছে। এতিম শিশুদের জন্য প্রতিটি উপজেলায় শিশু নিকেতন করা হোক। জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় সাংস্কৃতিক আন্দোলন জোরদার করারও আহ্বান জানান তিনি।
অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান বলেন, ‘যারা শিশু রাসেল হত্যাসহ ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল, তারা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে। তারাই আজ মন্দিরে হামলা চালাচ্ছে। মন্দিরে হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, ষড়যন্ত্রেরই অংশ। তাই ষড়যন্ত্রকারীদের ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করতে হবে।’
সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক বলেন, বঙ্গবন্ধু নিজের সন্তানদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন। তাদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। সামরিক শাসকেরা সেই হত্যাকারীদের পৃষ্টপোষকতা দিয়েছে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধে বলা হয়, শেখ রাসেল শিশু অধিকার আদায়ের মূর্ত প্রতীক। রাসেলকে হত্যার মাধ্যমে ঘাতকেরা মানবসভ্যতার জঘন্যতম অপরাধ সংঘটিত করেছে। এই হত্যাকাণ্ড অমিত সম্ভাবনাকে ধ্বংস করেছে। দেশবাসী আশা করে, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে শিশু অধিকার নিশ্চিত হবে। মূল প্রবন্ধে সব শিশুর বিনা মূল্যে জন্মনিবন্ধন নিশ্চিত করাসহ ৭ দফা সুপারিশ করা হয়।
