পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের এ বছরের প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষায় আর বসতে হচ্ছে না। এর পরিবর্তে নিজ নিজ স্কুলেই বার্ষিক পরীক্ষার মাধ্যমে মূল্যায়ন করে তাদের ষষ্ঠ শ্রেণিতে উন্নীত করা হবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এবারের প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা না নেওয়ার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেওয়া হলে, তিনি তাতে সম্মতি জানান। গতকাল রবিবার প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন সংক্রান্ত নথি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এসে পৌঁছে। প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা সাধারণত প্রতি বছর নভেম্বরের মাঝামাঝিতে নেওয়া হয়ে থাকে। তবে করোনার কারণে গত বছর এ পরীক্ষা নেওয়া যায়নি। গত ৭ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব গোলাম মোহাম্মদ হাসিবুল আলমের সই করা সারসংক্ষেপে বলা হয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ২০০৯ সাল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা প্রচলন করা হয়। শিক্ষাবর্ষের শেষে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বলা হয়, শ্রেণিকক্ষে শিখন-শেখানো কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায় যে, শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণের জন্য প্রণীত পরিকল্পনা শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তা কর্তৃক বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০২১ শিক্ষাবর্ষের মাত্র দুই-তিন মাস অবশিষ্ট আছে। এই স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি ও মুদ্রণ; দেশব্যাপী একযোগে এই পরীক্ষা পরিচালনা করা এবং নির্ধারিত সময়ে ফল প্রকাশ করা কষ্টসাধ্য হবে।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঐ সারসংক্ষেপে আরো বলা হয়, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বল্প সময়ের মধ্যে ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা সম্পন্ন করা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করা সম্ভব হবে না। উল্লেখ্য, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অনুরোধে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দিয়ে শুধু ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা পরিচালনা করা হয়।
সারসংক্ষেপে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা এ বছর না নিয়ে বিকল্প প্রস্তাব দিয়ে বলা হয়, করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি এবং শ্রেণিকক্ষে শিখন-শেখানো কার্যক্রম বিবেচনাক্রমে ২০২১ শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা গ্রহণের পরিবর্তে স্ব-স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করে তাদেরকে পরবর্তী শ্রেণিতে উন্নীতকরণের কার্যক্রম গ্রহণ করা যেতে পারে। অবশেষে গতকাল এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি মিলল।
