১৪ দলের সভায় নেতৃবৃন্দ

বিএনপি-জামায়াতের ইন্ধনেই সাম্প্রদায়িক হামলা

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২১, ০০:২৬

কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে জাতি-ধর্ম-শ্রেণি-বর্ণনির্বিশেষে দেশের সব মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ১৪ দল। গতকাল রবিবার বিকালে এক ভার্চুয়াল সভায় এই আহ্বান জানান নেতৃবৃন্দ।

সভাপতির বক্তৃতায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র আমির হোসেন আমু এমপি বলেন, দেশের চলমান উন্নয়ন-অগ্রযাত্রা ব্যাহত এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে যারা দেশ ও দেশের মানুষের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে, সেই অপশক্তিকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, এই কাজ উগ্রবাদী গোষ্ঠী দ্বারা পরিচালিত আর এর পেছনে ইন্ধন দিয়েছে বিএনপি-জামায়াত চক্র। রাজনৈতিক ও সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমেই এদের মোকাবিলা করতে হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। আমরা মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সব রাজনৈতিক শক্তির সহযোগিতা কামনা করছি। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবেই এই উগ্র সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে মোকাবিলা করব।’

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি বলেন, ‘এসব ঘটনা আমরা পাকিস্তান আমল থেকে দেখে আসছি। ইসলাম গেল গেল বলে তখন থেকে অপপ্রচার চালিয়ে আসছে এই অপশক্তি। আমি চাই, ১৪ দল ইস্পাতকঠিন হয়ে সব মোকাবিলা করবে এবং এর পথ দেখাবেন শেখ হাসিনা।’

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি বলেন, দলমত-নির্বিশেষে নির্মোহ বিশ্লেষণ করে এদের আইনের আওতায় আনতে হবে। এ সময় তিনি সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় বিশেষ আইন এবং সমস্ত পাঠ্যক্রমে সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান।

জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি বলেন, ‘কুমিল্লার হামলার পেছনে ’৭১-এর পরাজিত শক্তি বিএনপি-জামাতিরাই। সুতরাং এটাকে আমি জঙ্গি হামলা হিসেবেই দেখব। এটা পরিকল্পিত হামলা। সরকারকে বিপদে ফেলতেই এই হামলা করা হয়েছে।’ সাম্যবাদী দলের সভাপতি দিলীপ বড়ুয়া বলেন, কুমিল্লার ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটা রাজনৈতিক মদতপুষ্ট। তিনি কেন্দ্রীয় ১৪ দলকে বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী সভা ও প্রচারণা চালানোর পরামর্শ দেন।

গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, কুমিল্লার ঘটনার জন্য যারা দায়ী, তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী এমপি বলেন, ২০২৩ সালের নির্বাচনের আগে এমন আরো আঘাত আসতে পারে, যা শক্তভাবে প্রতিহত করতে হবে। জাতীয় পার্টি-জেপির প্রেসিডিয়াম সদস্য এজাজ আহমেদ মুক্তা বলেন, ‘দেশের দুর্দিনে আমরা কখনো চুপ করে ছিলাম না, থাকব না।’ সভা পরিচালনা করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস এমপি।