ওজন কমাবে দৌড় নাকি স্কিপিং 

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২১, ১৮:০৫

প্রতিদিনের কর্মব্যস্ততার জন্য অনেকেই শরীরচর্চা করতে পারেন না। কিন্তু ওজন তো আর থেমে থাকে না। তাই ওজন কমানো নিয়ে বেশিরভাগ মানুষ বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করেন। ডায়েট থেকে ব্যায়াম- সবকিছুতেই অন্যের পরামর্শেের উপর নির্ভর করতে হয় তাদের। 

তবে বেসিক কিছু শরীরচর্চা যেমন- জগিং ও স্কিপিং, কিন্তু অনেকেই করে থাকেন। এই দুটি শরীরচর্চায় প্রচলিত কিছু বিশ্বাসও লুকিয়ে আছে। স্কিপিং করলে লম্বা হওয়া যায় এবং দৌড়ের সঙ্গে সঙ্গে পেশি বেশি মজবুত হয়। কিন্তু ওজন কম কমানোর ক্ষেত্রে দুটির মধ্যে একটি বেছে নেন বেশির ভাগ মানুষ। তবে জানেন কি, ওজন কমানোর সব থেকে কম সময়ে যদি কিছু সম্ভব হয়,  সেটি হলো নিয়মিত জগিং ও স্কিপিং। দৈহিক শক্তি বাড়াতে, হার্টের পেশি শক্তিশালী করতে এবং হাড়ের ঘনত্ব বজায় রাখতে, আয়ু বৃদ্ধি করতে- এই দুটি শরীরচর্চা বেশ কার্যকর। তাহলে জেনে নেওয়া যাক দুটির মধ্যে আদর্শ ব্যায়াম কোনটি, চলুন জেনে নেওয়া যাক।

স্কিপিং 
যদি সহজে এবং দ্রত ওজন কমাতে চান তবে স্কিপিং খুব ভালো। ১ মিনিটে ১৬ ক্যালরি ওজন হ্রাস হয়। অর্থাৎ ৩০ মিনিট মানে ৪৮০ ক্যালরি ওজন হ্রাস করানো সম্ভব। শরীরের নিম্ন অংশের পেশি মজবুত করতে স্কিপিং বেশ কার্যকরী। এই ব্যায়ামের প্রভাবে হাঁটুতে চাপ কম পড়ে, গোড়ালিতে স্থিতিশীলতা বজায় থাকে। শিশুদের আকৃতি বৃদ্ধি অর্থাৎ লম্বা করতে দারুণ কাজে লাগে স্কিপিং। বিশেষত যাদের আঘাত রয়েছে তারা কিন্তু স্কিপিং করতে পারেন দৌড়ানোর পরিবর্তে। পাশপাশি দ্রুত পায়ের কাজ, এবং কব্জির ঘূর্ণায়মান শারীরিক সমন্বয় তৈরি করতে এটি বেশ উপকারি। বিশেষ করে অ্যাথলেটদের ভারসাম্য বৃদ্ধি করে স্ট্যামিনা বাড়িয়ে তোলে। 

দৌড় 
কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেম অর্থাৎ হার্টের দেয়ালকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। এমনকি সামগ্রিক দক্ষতা বৃদ্ধি করতেও দৌড় বশে উপকারি। রক্ত প্রবাহকে সচল রাখে এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। প্রতিদিন অল্প করে হলেও দৌড়ানো ভালো। শরীরের সঙ্গে সঙ্গে মনকেও ভালো রাখে দৌড়। মস্তিষ্কে এন্ডরফিন এবং সেরেটোনিনের মতো রাসায়নিক মাত্রা বৃদ্ধি করে। ফলেই চাপের উদ্বেগ কমে এবং হতাশা, একাকীত্ব এগুলো হ্রাস পায়। বিচ্ছিন্নতার অনুভূতিও হ্রাস পায়। ফুসফুস সুস্থ রাখতে কাজে দেয়। কার্বন-ডাই-অক্সাইড, শ্লেষ্মা এবং কফ দূর করে। শ্বাসযন্ত্রের পেশিগুলোর সহনশীলতা তৈরি করে।ফুসফুসের রোগের ঝুঁকি রোধ করে। এবার তাহলে বুঝে নিন কোনটি আপনার জন্য উপকারি। নাকি দুটিই বেছে নিবেন সুস্থ থাকতে, পছন্দ একান্তই আপনার।  

ইত্তেফাক/আরএম