জুতার হিলেই কি লুকিয়ে থাকে ভয়ানক বিপদ 

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২১, ১৯:২১

মানুষের শরীর ফ্ল্যাট পায়ের পাতার উপর দাঁড়িয়ে থাকে। যে কারণে, ফ্ল্যাট স্যান্ডেল বা চপ্পলের কোনো বিকল্প হয় না। তারপরেও ফ্যাশনের প্রয়োজনে হাই হিল অনেকেই পরেন। হাই হিল পরার পর আঙুলের দিকে অর্থাৎ টোয়ের দিকে ভর দিতে হয় বেশি। কিন্তু স্বাভাবিক অবস্থায় পা বা গোড়ালি বহন করে শরীরের ৬০ শতাংশ ওজন। ফলে হিল পরলে তা থেকে বিপত্তি যে বাধবে, তাতে সন্দেহ নেই।

জুতার হিলে যত বিপদ
১১ থেকে ১৪ বছরের কিশোরীদের হিল পরা ঠিক নয়। কারণ, এটা বয়স বাড়ার সময়। এই সময়টাতে পায়ে গঠনগত ত্রুটি হলে তা সারাজীবন থেকে যায়। দীর্ঘক্ষণ হিল পরলে পায়ে ব্যথা হয়। এটা সকলের কমবেশি জানা। সেই সঙ্গে ‘হ্যামার টো’ হওয়ার আশঙ্কাও বাড়ে। হ্যামার টো অর্থাৎ অনেকদিন হিল পরে হাঁটাচলার কারণে টোয়ের আকৃতি বদলাতে থাকে।

অনেকে আবার স্টিলেটো পরেন। সেক্ষেত্রে জুতার সামনের দিকটা খুব সরু হয়। দীর্ঘদিন এই টোয়ের দিকটা চাপা জুতা পরার ফলে ‘বুনিয়ন’ হয়। প্রকৃত পক্ষে একটা আঙুলের ওপর আর একটা আঙুল খুব চেপে ওঠে থাকলে সমস্যা তো হবেই।

হাই হিল পরার ফলে গোড়ালিতে ব্যথা হয়। জুতা খোলার পর গোড়ালির নিচের দিকে জ্বালা-জ্বালা ভাব থাকে। চিকিৎসার ভাষায় যাকে বলা হয় ‘প্লান্টার ফ্যাসাইটিস’। অনেকের আবার পায়ের মাসলে ব্যথা হয়। অন্যদিকে উঁচু হিলে পা মচকে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। 

ব্রিটেনের একটি সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, ইংল্যান্ডে হাই হিল স্যান্ডেল পরার ফলে পড়ে গিয়ে ফ্র্যাকচার হচ্ছে অনেক বেশি। হিল পরলে হাঁটু সামান্য ভাঁজ হয়ে থাকে। সেখানেও সমস্যা আসতে পারে। হাঁটু সামান্য ভাঁজ হয়ে থাকায় টিবিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কম বয়সেই অস্টিওআর্থ্রাইটিস ধরতে পারে।

আরামদায়ক ফ্ল্যাট জুতা 
ফ্যাশনিস্তাদের কাছে কোটি টাকার প্রশ্ন হলো, তাহলে কি হিল পরা যাবে না? সহজ উত্তর, অবশ্যই পরবেন। তবে হিলের সাইজ হবে এক থেকে দেড় ইঞ্চি। আর যদি অনুষ্ঠান বিশেষে আরো উঁচু হিল পরার শখ হয়, তাহলে তা তিন ঘণ্টার বেশি নয়। প্রয়োজন হলে ব্যাগে জুতা নিয়ে যাবেন। অনুষ্ঠানে ঢোকার আগে হিল জুতা পরুন। অনুষ্ঠান শেষে আবার ফ্ল্যাট চটি পরুন। শুনতে অবাক লাগলেও উঁচু হিল খুলে রাখার পর অবশ্যই পায়ের পাতার এক্সারসাইজ  করবেন। মানে পায়ের নিচে বল রেখে রোল কারা চেষ্টা করবেন। বাড়ি ফিরে হিল খুলে রেখে গরম জলে পা ডুবিয়ে রাখুন। এবং ঘরে খালি পায়ে হাঁটার অভ্যাস করুন।

ইত্তেফাক/আরএম