৫০০০ বন্দিকে ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা
ক্ষমতাসীন সামরিক বাহিনী শান্তি ও গণতন্ত্রের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে সোমবার টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে দাবি করেন
মিন অং হ্লাইং
বিবিসি ও রয়টার্স
মিয়ানমারের অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হওয়ার জন্য বিরোধী দলগুলোকে দায়ী করেছেন দেশটির জান্তাপ্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং। বিরোধীরা যে উসকানি ও সহিংসতা চালাচ্ছে, অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথইস্ট এশিয়ান নেশনসের (আসিয়ান) তা বিবেচনায় নেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দেশটির ক্ষমতাসীন সামরিক বাহিনী শান্তি ও গণতন্ত্রের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে সোমবার টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে দাবি করেন তিনি।
মিয়ানমারের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে আসিয়ানের রোডম্যাপের বিষয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করায় জোটের আসন্ন শীর্ষ সম্মেলনে হ্লাইংকে আমন্ত্রণ না জানানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। তারপর করা প্রথম মন্তব্যে হ্লাইং মিয়ানমারে গণতন্ত্র পুনর্বহাল করতে জান্তার নিজস্ব পাঁচ ধাপের পরিকল্পনার পুনরাবৃত্তি করেন কিন্তু আসিয়ানের সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। নিষিদ্ধঘোষিত জাতীয় ঐক্যমত্যের সরকার (এনইউজি) ও বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সশস্ত্র দলগুলো আসিয়ানের নেতৃত্বাধীন শান্তি প্রক্রিয়াকে বিঘ্নিত করার চেষ্টা করছে বলে ধারণা দেন ১ ফেব্রুয়ারির সামরিক অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া হ্লাইং। এই অভ্যুত্থান মিয়ানমারকে মারাত্মক বিশৃঙ্খলার মধ্যে ফেলে দিয়েছে।
টেলিভিশনে বেসামরিক পোশাকে হাজির হওয়া এই জেনারেল বলেন, ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর উসকানির কারণে আরো সহিংসতা হচ্ছে। কেউ তাদের সহিংসতার দিকে নজর দিচ্ছে না, শুধু দাবি করছে আমরা সব সমস্যার সমাধান করব। এই বিষয়ে আসিয়ানের কাজ করা উচিত।’ ২৬-২৮ অক্টোবরের শীর্ষ সম্মেলনে মিয়ানমার থেকে অরাজনৈতিক প্রতিনিধি রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আসিয়ান। একে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা সামরিক নেতাদের প্রতি এক নজিরবিহীন অবজ্ঞা বলে মন্তব্য করেছে রয়টার্স। হ্লাইং বলেছেন, সমঝোতা অনুযায়ী আসিয়ানের বিশেষ দূত এরিওয়ান ইউসুফ মিয়ানমার পরিদর্শনে আসুন এটি তারা চান, কিন্তু তার কিছু দাবি আপসযোগ্য নয়। এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কিছু বলেননি তিনি।
এদিকে ভাষণে মিন অং হ্লাইং ৫ হাজার আন্দোলনকারীকে মুক্তি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর টানা কয়েক মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে দেশটিতে হাজারের বেশি মানুষ নিহত হন। সড়কের আন্দোলনকারী থেকে প্রান্তিক গ্রাম পর্যন্ত সর্বত্র চলে ব্যাপক ধরপাকড়। মিয়ানমারের স্থানীয় পর্যবেক্ষণকারী সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ১ হাজার ১০০-এর মতো মানুষ নিহত হয়। আটক করা হয় ৮ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে। চলতি বছর জুলাই মাসে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে মুক্তি দেয় সাংবাদিক, সমালোচকসহ ২ হাজারের মতো বিক্ষোভকারীকে। তবে এবার কাদের মুক্তি দেওয়া হচ্ছে তা স্পষ্ট করে বলেননি মিয়ানমারের জান্তাপ্রধান।
