সাভারের আশুলিয়ায় টাকা চুরির ঘটনা ফাঁস করে দেওয়ায় মো. ফেরদৌস নামের ১২ বছরের এক শিশুকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গত রবিবার রাতে বাইপাইল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গতকাল ভোরে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে মো. শাহ পরান হূদয় নামে ক্ল্যাসিক পরিবহনের এক স্টাফকে আটক করেছে পুলিশ। মো. পারভেজ নামের অপর এক স্টাফ পলাতক রয়েছেন।
ফেরদৌস শেরপুর জেলার সদর থানার মুন্সিপাড়া গ্রামের বাসচালক রইচ উদ্দিনের ছেলে। সে আশুলিয়ার পল্লী বিদ্যুত্ বালুর মাঠ এলাকায় পরিবারের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থেকে আশুলিয়া ক্ল্যাসিক পরিবহনে হেলপার হিসেবে কাজ করত।
পুলিশ জানায়, রাত ১২টার দিকে আব্দুল্লাহপুর থেকে বাস নিয়ে বাইপাইলে পৌঁছায় কন্ডাক্টর হূদয়, হেলপার পারভেজ ও ফেরদৌস। পরে গাড়ির মধ্যে কন্ডাক্টর হূদয় ও হেলপার পারভেজ ঘুমিয়ে পড়ে। এ সময় শিশু ফেরদৌসও গাড়িতেই ছিল। ঘুম ভাঙলে হূদয় তার পকেট থেকে ৫০০ টাকা খোয়া গেছে বলে জানায়। এ সময় শিশু ফেরদৌস জানায় পারভেজ ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় হূদয় টাকাটা চুরি করেছে।
এতে পারভেজ ও হূদয়ের মধ্যে টাকার বিষয় নিয়ে বাগিবতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে টাকা চুরির বিষয়টি বলে দেওয়ার ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে পারভেজ ফেরদৌসকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে পারভেজ ও হূদয় মিলেই নিহত ফেরদৌসের লাশ সড়কে ফেলে রেখে পুলিশকে দুর্ঘটনার খবর দেয়।
খবর পেয়ে সাভার হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে মরদেহে দুর্ঘটনার কোনো চিহ্ন না পাওয়ায় বিষয়টি থানার পুলিশকে অবহিত করে। পরে ভোররাতে আশুলিয়া থানার পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ সময় হূদয়কে আটক করা গেলেও পারভেজ পলিয়ে যায়।
