সংসদ নির্বাচনের তিন সপ্তাহ পরেই জার্মানিতে তিন দলের জোট সরকার গড়ার আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ শুরু হচ্ছে। দলীয় অনুমোদনের পর অভিন্ন কর্মসূচি ও মন্ত্রণালয় বণ্টন নিয়ে দরকষাকষির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। ফেডারেল জার্মানির ইতিহাসে বহু দশক পর তিন দলের জোট সরকার গড়ার উদ্যোগ অবিশ্বাস্য দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। চলতি সপ্তাহেই সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে জানা গেছে। খবর ডয়চেভেলের
গত শুক্রবার সামাজিক গণতন্ত্রী এসপিডি, পরিবেশবাদী সবুজ দল ও উদারপন্থি এফডিপি দলের নেতারা প্রাথমিক আলোচনা সম্পর্কে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে আনুষ্ঠানিকভাবে জোট গঠন সংক্রান্ত আলোচনার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। সেই ঘোযণার ঠিক পরেই এসপিডি দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বমণ্ডলী সর্বসম্মতিক্রমে সেই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে। রবিবার সবুজ দলের সম্মেলনেও সেই প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। সোমবার এফডিপি দলও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর নতুন জোট সরকারের রূপরেখা স্থির করতে দ্রুত আলোচনা শুরু হওয়ার কথা। সেক্ষেত্রে বড়দিনের আগেই চ্যান্সেলর হিসেবে সরকার গঠনের আশা করছেন এসপিডি নেতা ওলাফ শলত্স।
সম্ভাব্য জোট সরকারের দুই শরিক সবুজ দল ও এফডিপি আগামী সরকারের অংশ হতে কতটা বদ্ধপরিকর, নেতাদের একটি মন্তব্য থেকেই তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এক সপ্তাহ আগে সবুজ দলের নেতা রোব্যার্ট হাবেক বলেছিলেন, ব্যর্থতা কোনো বিকল্প হতে পারে না। এফডিপি নেতা ক্রিস্টিয়ান লিন্ডনারও সেই একই মন্তব্য করেছেন।
বিরোধী আসনে বসে সরকারের সমালোচনা ও অনড় আদর্শগত অবস্থান আঁকড়ে ধরে দাবির পক্ষে সোচ্চার হওয়ার তুলনায় জোট সরকারের অংশ হিসেবে যতটা সম্ভব কাজ করে দেখানোর সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে চাইছে এফডিপি ও সবুজ দল। সেইসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণও তাদের লক্ষ্য। তার বদলে বেশ কিছু নীতির প্রশ্নে আপস মানতেও প্রস্তুত দলের নেতারা। এসপিডি দলের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনার পর যে খসড়ার ভিত্তিতে কোয়ালিশন গড়ার আলোচনায় রাজি হয়েছে এই দুই দল, তাতে এমন অনেক দাবির উল্লেখ না থাকায় তৃণমূল স্তরে কিছুটা অসন্তোষ দেখা যাচ্ছে। তবে নেতৃত্বের সরাসরি বিরোধিতার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
তিন দলের নেতারা প্রাথমিক আলোচনার সময়ে যে পারস্পরিক আস্থা ও শ্রদ্ধাবোধ দেখিয়ে এসেছেন এবং গোপনীয়তা বজায় রেখেছেন, তা দলমত নির্বিশেষে জার্মানির রাজনৈতিক মহলে সম্ভ্রম আদায় করেছে। তবে মন্ত্রণালয় বণ্টনের প্রশ্নে এফডিপি ও সবুজ দলের মধ্যে কিছুটা উত্তেজনা দেখা যাচ্ছে। এফডিপি দল অর্থ মন্ত্রণালয়ের জন্য তাদের শীর্ষ নেতা লিন্ডনারকেই সবচেয়ে উপযুক্ত হিসেবে তুলে ধরছে। সবুজ দল কোয়ালিশন গঠনের প্রক্রিয়ার আগেই পদ নিয়ে এমন দাবিদাওয়া সম্পর্কে বিরক্তি প্রকাশ করেছে।
