যুবলীগ চেয়ারম্যানের ফোন নম্বর ক্লোন করে টাকা হাতিয়ে নিতো ফিরোজ

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২১, ১৮:০৭

অবশেষে আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শেখ ফজলে শামস পরশের ব্যক্তিগত ফোন নম্বর ক্লোনকারী ফিরোজ খন্দকারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ও ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের সাইবার ক্রাইম তদন্ত বিভাগ।

মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) রাত ১ টা ৫ মিনিটে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা আজীমনগর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বিষয়টি ইত্তেফাক অনলাইনকে নিশ্চিত করেছেন এ অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া সাইবার ক্রাইম এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার ধ্রুব জ্যোর্তিময় গোপ।

ধ্রুব জ্যোর্তিময় গোপ বলেন, গ্রেফতারের আগে ফিরোজ খন্দকার কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তিনি ঢাকার খিলগাঁও থেকে কেরানীগঞ্জের মধ্যে বিভিন্ন বুথ থেকে এ প্রতারণার টাকা তুলেন। সন্দেহ এড়াতে ব্যাংকের বুথ থেকে অল্প অল্প করে টাকা তুলতেন। অভিযোগ পেয়ে পুলিশের সিটি সাইবার ইন্টারনেট রেফারেল টিম  খিলগাঁও থেকে কেরানীগঞ্জের যেসব বুথ থেকে ফিরোজ খন্দকার টাকা তুলেন তার সবগুলোর ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে। প্রযুক্তির সাহায্যে নানান তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে তাকে গ্রেফতার করে। অধ্যাপক শেখ ফজলে শামস পরশের মামলায় গ্রেফতার হলেও তার নামে আরও তিনটি প্রতারণার মামলা রয়েছে বলে পুলিশের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সিটিটিসি সূত্রে  জানা গেছে, যুবলীগ চেয়ারম্যান অধ্যাপক শেখ ফজলে শামস পরশের ফোন নম্বর ক্লোন করে সংগঠনের বিভিন্ন জেলার নেতাকর্মীদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল এই ফিরোজ। এ কাজে ফিরোজ খন্দকার প্রথমে ইন্টারনেট থেকে যুবলীগের বিভিন্ন কমিটির গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের ফোন নম্বর সংগ্রহ করতেন। 

সিটিটিসি সূত্র আরো জানায়, ফিরোজ খন্দকার এসব ফোন কলে সরাসরি টাকা চাইতেন না। বিভিন্ন কর্মসূচির কথা বলে ফিরোজ, পরশ সাহেব পরিচয়ে টাকা দাবি করে বিকাশ- রকেট নম্বর দিয়ে টাকা চাইত। সংগঠনের চেয়ারম্যানের ফোন নম্বর পেয়ে নেতারা উৎফুল্ল মনে বিকাশে টাকা পাঠাতেন। আর প্রতারক রাজধানীর বুথগুলো থেকে এ টাকা তুলত। ফিরোজ রাজধানীর খিলখাঁও থেকে শুরু করে কেরানীগঞ্জের মধ্যে বিভিন্ন বুথে মোটরসাইকেল চড়ে এ টাকা উত্তোলন করতেন। তবে এসব ঘটনা এক সময় যুবলীগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শেখ ফজলে শামস পরশের কাছে চলে যায়। তিনি বাধ্য হয়ে তার ফোন নম্বরটি বন্ধ করে দেন। তিনি বুঝতে পারেন তার নম্বরটি ক্লোন করে অর্থ আত্মসাৎ করছে একটি চক্র। তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে এ সংক্রান্ত একটি সতর্কবার্তামূলক পোষ্ট করেন।

সিটিটিসি জানায়, যুবলীগ চেয়ারম্যানের হয়ে ১৫ অক্টোবর রাজধানীর বনানী থানায় ওই প্রতারকের বিরুদ্ধে মামলা করেন ব্যারিস্টার রানা তাজউদ্দিন খান। মামলাটি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৪ ও ২৬ ধারায় করা হয়েছে। এতে মোবাইল ফোন নম্বর ক্লোনিং করে টাকা দাবির অপরাধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার পরপরই সাইবার সিটি তদন্ত নামেন। তদন্তের এক পর্যায়ে ফিরোজ খন্দকারকে সনাক্ত করে সাইবার সিটি।

সূত্র জানায়, পরশের নাম করে তার ব্যবহৃত রবি নম্বরটি ক্লোন করে গত ৯ অক্টোবর প্রথম ফোন করা হয় গাইবান্ধা যুবলীগের সভাপতি সরদার মো. শাহীন হাসান লোটনের গ্রামীণ ফোনের নম্বরে। সংগঠনের জন্য চাঁদা হিসেবে তাকে একটি রকেট নম্বরে টাকা পাঠাতে বলা হয়। একই দিন নেত্রকোনা যুবলীগের আহ্বায়ক জনি ও সুনামগঞ্জ জেলা যুবলীগের চপলকে ফোন করে বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠাতে বলা হয়।

১০ অক্টোবর মুশফিকুল ইউনুস জায়গীরদার নামে এক ব্যক্তি এবং পাবনা জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক সনি বিশ্বাসকে ফোন করে বিকাশে টাকা চাওয়া হয়। এছাড়াও গত কয়েকদিনে একই পরিচয়ে দেশের কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তিদের ফোন করে টাকা দাবি করে প্রতারকটি।

ইত্তেফাক /কেএইচ