ঝিনাইদহে পেঁয়াজবীজের দাম চড়া

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২১, ২১:২৬

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি

দেশের অন্যতম প্রধান পেঁয়াজ উত্পাদনকারী এলাকা ঝিনাইদহ জেলা। বিশেষ করে শৈলকুপা উপজেলা। কিন্তু পেঁয়াজবীজের দাম বেশি হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। সাধারণত নভেম্বর ও ডিসেম্বরে বেশির ভাগ চাষি পেঁয়াজ চাষ করে। তারা জানায়, বর্তমানে প্রতি কেজি হাইব্রিড পেঁয়াজবীজ বিক্রি হচ্ছে ১৯ হাজার টাকার বেশি। এতে বাড়বে উত্পাদন খরচ। বীজের অস্বাভাবিক উচ্চমূল্যের কারণে অনেকে অন্য ফসল চাষে ঝুঁকবেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে ১০ হাজার ৫৫৯ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৭০২ টন। ইতিমধ্যেই চাষিরা মুড়িকাটি পেঁয়াজ চাষ শুরু করেছে। আর হালি পেঁয়াজ চাষে বীজতলা তৈরি শুরু করেছে।

মঙ্গলবার শৈলকুপা বাজারে পেঁয়াজ বিক্রেতাদের দোকান খোঁজ নিয়ে জানা যায়, একটি নামি কোম্পানি হাইব্রিড পেঁয়াজবীজ উত্পাদন ও বাজারজাত করে থাকে। ফলন খুব ভালো হয় বলে এ বীজের চাহিদাও বেশি। কিন্তু দামের কারণে চাষিরা পিছু হটছে। শৈলকুপার ডিলাররা সাড়ে ১৯ হাজার টাকা দরে বুকিং নিচ্ছে বলে জানান বীজ ব্যবসায়ী সুশান্ত কুমার পাল।

বীজ ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বলেন, সাধারণ লাল তীর বীজ প্রতি কেজি ৩ হাজার টাকা, এসিআই পেঁয়াজ বীজ ৩ হাজার টাকা, মোল্লা কিং ২ হাজার ৩০০ টাকা, রাজশাহী কিং ২ হাজার ৭০০ টাকা, হাফিজ কিং ২ হাজার ৮০০ টাকা, কৃষকদের উত্পাদিত বীজ ২ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

শৈলকুপা উপজেলার ব্রহ্মপুর গ্রামের চাষি এলাহী মোল্লা জানান, তিনি এবার পাঁচ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করবেন। হাইব্রিড বীজের দাম বেশি থাকায় ২ হাজার ২৫০ টাকা কেজি দরে পাঁচ কেজি মোল্লা কিং পেঁয়াজ বীজ কিনেছেন। একই উপজেলার দোহাড়ো গ্রামের চাষি টিপু সুলতান জানান, তিনি ২ হাজার ৩০০ টাকা দরে আড়াই কেজি বীজ কিনেছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আজগর আলি বলেন, পেঁয়াজ চাষ বাড়াতে তারা চাষিদের উত্সাহিত করছেন। প্রণোদনা হিসেবে ২ হাজার কৃষককে এক কেজি করে বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। বাজারে পেঁয়াজ বীজের চড়া মূল্যের কথা তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বলবেন বলে জানান।