আওয়ামী লীগের সম্প্রীতি সমাবেশে বক্তারা

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ভয় নেই, পাশে আছি

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২১, ২৩:০০

সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিষদাঁত না ভাঙা পর্যন্ত রাজপথে থাকার ঘোষণা দিয়েছে আওয়ামী লীগ। দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের ঘটনার প্রেক্ষাপটে গতকাল মঙ্গলবার ‘সম্প্রীতি সমাবেশ ও শান্তি শোভাযাত্রা’ কর্মসূচিতে দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা এ ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে উগ্র সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ার আহ্বান জানিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সম্প্রীতি সমাবেশ শুরু হয় বেলা ১১টায়। সেখানে ট্রাকের ওপর অস্থায়ী মঞ্চে দাঁড়িয়ে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। এ সময় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা এর প্রতিরোধ করব। হিন্দু ভাইদের বলব, আপনাদের ভয় নাই, শেখ হাসিনা আপনাদের সঙ্গে আছে, আওয়ামী লীগ আপনাদের সঙ্গে আছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আজকে মন্দিরে হামলা, প্রতিমা ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ—এগুলো ২০০১ সালে বিএনপি সরকার যে নির্যাতন চালিয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি।                 আবার নতুন করে সম্প্রাদায়িক হামলা-সন্ত্রাস শুরু করেছে। শেখ হাসিনার আমলে প্রত্যেকটি দুর্গাপূজায় হাজার হাজার পূজামণ্ডপে পূজা চলেছে। কোনো ঘটনা ঘটেনি। হঠাত্ আগামী নির্বাচন সামনে রেখে হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা শুরু হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, প্রতিবেশী দেশ ভারতে মুসলমান আছে, তাদের জানমালের কথাও আমাদের ভাবতে হবে। হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের যে উসকানি দেওয়া হচ্ছে, তাতে ভারতের একটা বড় অংশ মুসলমানদের জীবনকেও বিপন্ন করে ফেলছে।

সমাবেশে আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে রুখবই। বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষ নিরাপদে বসবাস করবে। যারাই সন্ত্রাস করবে তাদের উপযুক্ত শান্তি নিশ্চিত করা হবে।

প্রেসিডিয়াম সদস্য কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, যারা ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করছেন, সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে আগুন দিচ্ছেন, তাদের হুঁশিয়ার করে দিচ্ছি। তাদের অবশ্যই খুঁজে বের করা হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ ও সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুস সবুর, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বি এম মোজাম্মেল হক, এস এম কামাল হোসেন, মির্জা আজম, শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সাহাবুদ্দিন ফরাজী প্রমুখ।

সম্প্রীতি সমাবেশ ও শান্তি শোভাযাত্রায় অংশ নিতে মঙ্গলবার সকাল থেকে আওয়ামী লীগ এবং তার সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীরা রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে জড়ো হন। তাদের অনেকেই সম্প্রাদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান লেখা ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে যোগ দেন। সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে মুখিরিত হয়ে ওঠে পুরো গুলিস্তান এলাকা।

সমাবেশে ওবায়দুল কাদের তার বক্তব্যের শেষে শোভাযাত্রার উদ্বোধন ঘোষণা করেন। পরে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ থেকে শোভাযাত্রা বের হয়। এটি গুলিস্তানের জিরো পয়েন্ট, শিক্ষা ভবন, দোয়েল চত্বর হয়ে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়।

এদিকে আওয়ামী লীগের সমাবেশ ও শোভাযাত্রার জনসমাগমের কারণে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর আশপাশের সড়কের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। যানজটের প্রভাব পরে আশপাশের এলাকাগুলোতেও।

দেশব্যাপী যুবলীগের শান্তি

ও সম্প্রীতির র্যালি

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দেশব্যাপী শান্তি ও সম্প্রীতির র্যালি কর্মসূচি পালন করেছে যুবলীগ। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে র্যালি-পূর্ব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল, প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন, প্রেসিডিয়াম সদস্য,  ডা. খালেদ শওকত আলী, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. হাবিবুর রহমান পবন, মো. এনামুল হক খান, ড. সাজ্জাদ হায়দার লিটন, মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, তাজ উদ্দিন আহমেদ, মো. জসিম মাতুব্বর, মো. আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।