ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যে টানা তিন দিনের ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যা ও বাড়িঘর ধসে অন্তত ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আরো অনেকে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে। ফলে মৃত্যুর সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে। এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, প্রবল বর্ষণ ও বন্যায় বাড়িঘর, ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে পরিস্থিতি সম্পর্কে ব্রিফ করা হয়েছে। উদ্ধার তত্পরতায় সেনাবাহিনীর তিনটি হেলিকপ্টার নিয়োজিত করা হয়েছে। মৃতদের পরিবারকে ৪ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
খবরে বলা হয়েছে, বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি রাজ্যটিতে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তাঘাট, অনেক ভবন বন্যায় তলিয়ে গেছে। নদীর তীব্র স্রোতে ভেঙে গেছে অনেক সেতু। নৈইনিতাল এলাকার মুকতেশ্বর এবং খয়েরনাতে বাড়ি ধসে গতকাল ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। নৈনিতালের পানি উপচে ঢুকে পড়েছে শহরে।
বিপর্যয়ের অনেক ভিডিও প্রকাশ হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সেখানে দেখা যাচ্ছে নদীর পানির স্রোতে তীরবর্তী এলাকায় বেশ কিছু বাড়ি ভেঙে পড়েছে। চালথি নদীর ওপরে একটি নির্মীয়মাণ সেতু ভেসে গেছে। হ্রদ লাগোয়া একটি হাসপাতালের দেওয়ালে ফাটল ধরেছে।
উত্তরাখণ্ডের জলাধারগুলো ভরে যাওয়ায় নানক সাগর ও উধম সিংহ নগর জলাধার থেকে পানি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে প্রশাসন। ফলে বন্যা পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়েছে। ইতিমধ্যেই চারধাম যাত্রা বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। সেখানে আটকে থাকা পর্যটকদের নিজেদের রাজ্যে ফেরানোর চেষ্টা করছে সরকার।
