১৪ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার বিশ্ব ভালোবাসা দিবস, শুধু মন দেওয়া নেওয়া নয়, একে অন্যের সাহায্যের আদান-প্রদানে গড়ে ওঠা ভালোবাসায় ভর করে আজ জীবনকে নতুন করে গড়ে তুলেছেন কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার সদর ইউনিয়নের মহরকোনা গ্রামের দুই দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মোঃ মহরম আলী (৫৯) ও রত্না বেগম (৩৯)। ১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনে তাদের সংসারে রয়েছে দুটি ফুটফুটে ছেলে সন্তান। মুখে আছে হাসি ও সংসারে আছে সুখ। সারাদিন ভিক্ষা করে বাড়িতে গিয়ে ছেলে দুটির মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেই তাদের মনে সুখ আর শান্তির অভাব হয় না। ভালোবাসার জোরে দুঃখকে তাদের কাছে ভিড়তে দেয় না।
রত্না বেগম দৃষ্টিহীন মহরম আলীকে হাত ধরে পথ দেখায় এবং দু’জনে মিলে একসাথে ভিক্ষা করতে শুরু করে। প্রথম দিন ভিক্ষা করে দু’জনে পেয়েছিল ২৬০ টাকা। দু’জনে ১৩০ টাকা করে ভাগ করে নিলো। একসময় দু’জন দু’জনের সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন। দুই চোখের দৃষ্টিহীন মহরম আলীকে পথ দেখান এক চোখের দৃষ্টিহীন রত্না বেগম। প্রতিদিন ভিক্ষা করার পর রত্না বেগম মহরম আলীকে তার বাড়িতে দিয়ে আসতেন। বাড়িতে রত্না বেগম মহরম আলীকে গোসল করান, রান্না করে ভাত খাওয়ানো থেকে শুরু করে মহরম আলীর সব কাজ করে দিতো। আর এ সহযোগিতায়ই একসময় তাদের মধ্যে ভালোবাসার জন্ম দেয়। একবছর এভাবে মন দেওয়া-নেওয়ার পর তারা সিদ্ধান্ত নিলেন বিয়ে করার। সিদ্ধান্ত নেওয়ার কয়েকদিন পর এখন থেকে পনের বছর আগে ফাল্গুনের ২ তারিখ মহরম আলী ও রত্না বেগম বিয়ে করেন। ওই দম্পতির ঘরে বর্তমানে আসে দু’টি ছেলে-সন্তান। একটির নাম মোঃ আতিকুল (১২) ও মোঃ শাহীন মিয় (১০)। আতিকুল ও শাহীন মাদ্রাসায় পড়েন।
মহরম আলী ও রত্না বেগম জানান, এখন তারা মহরকোনা গ্রামে বাপের ভিটায় বাস করছেন। প্রতিদিন ভিক্ষা করে দু’জনে তিন থেকে চার কেজি চাল ও নগদ শতাধিক টাকা পান। এর থেকেই খেয়ে কিছু টাকা আয় হয়। তাছাড়া মহরমকে আলী প্রতিমাসে সরকার থেকে ৬০০ টাকা প্রতিবন্ধী ভাতা দেওয়া হয়। এ ভাতার টাকা জমা করে একটি ছোট গরু কিনেছেন। তারা জানান, এভাবে তো আর সারাজীবন ভিক্ষা করে চলা সম্ভব না। আমরা লেখাপড়া না করলেও ছেলে দুইটারে মাদ্রাসায় পড়াইয়ে মৌলভী বানানোর চেষ্টা করছি আল্লাহ যদি আমাদের সে ইচ্ছা পূরণ করে। এ দম্পতি আরো বলেন, চোখের দৃষ্টি না থাকলেও আমরা অনেক সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষের চেয়েও জীবনে অনেক সুখী। ১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনে একদিনও তাদের ঝগড়া-বিবাদ হয়নি। ভালোবাসাই সব শক্তির উত্স। তাই সবার কাছ থেকে বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে ভালোবাসাই চাই।
