আল্লাহর রঙে রঙিন হও

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২১, ২১:৩২

ইরশাদ হয়েছে, ‘আমরা আল্লাহর রং গ্রহণ করেছি; রঙে আল্লাহ অপেক্ষা কে অধিকতর সুন্দর? এবং আমরা তাহারই ইবাদতকারী।’ (সুরা বাকারা:১৩৮)। আল্লাহর রং বলতে আল্লাহতায়ালার মনোনীত দিন, ফিতরাত ও হিদায়াতের রাস্তা অনুসরণকে বোঝানো হয়েছে। আল্লাহ আমাদের রব। আমরা তারই আনুগত্য প্রকাশ করি। পুনরায় তার কাছেই ফিরে যাব। মহাগ্রন্থ আল-কোরআনে আল্লাহতায়ালা তার পছন্দনীয় রঙের বিশদ বর্ণনা দিয়েছেন। কোরআনে বর্ণিত বিধিবিধান অনুযায়ী দৈনন্দিন জীবন পরিচালনা করার অর্থই হলো আল্লাহর রঙে নিজেকে রঙিন করা।

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, (জাহেলিয়াতের যুগে) খ্রিষ্টানদের ঘরে কোনো শিশু ভূমিষ্ট হলে সাত দিন পর তাকে মামুদিয়া নামক রঙিন পানিতে চুবিয়ে দিত। তারা ধারণা করত, এতে শিশু পবিত্র হয়ে যায় এবং তার সমস্ত ক্লেদ দূরীভূত হয়। এ কাজ তারা খতনার পরিবর্তে করত। ঐ জলরঞ্জনের সময় তারা বলত, শিশুটি এবার খাঁটি খ্রিষ্টান হয়ে গেল। তাদের এই অলীক বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছে, ‘রঙে আল্লাহ অপেক্ষা কে অধিকতর সুন্দর?’ (তাফসিরে মাজহারি:১/২৬৬)। আল্লাহতায়ালা মুসলিম নবজাত শিশুর ক্লেদ বা বালা-মুসিবত দূর করার মাধ্যমে হিসেবে আমাদের জন্য আকিকার বিধান সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছেন।

বর্তমানে আমরা এমন একটি সময় অতিক্রম করছি, কোরআনের বাইরে মানুষ আল্লাহর রঙে রঙিন হতে গিয়ে উলটো গোমরাহিতে জড়িয়ে পড়ছে। মানুষ তার নিজের খেয়াল-খুশির অনুসরণের ফলে সীমা লঙ্ঘনকারীদের অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। সমাজে ফেতনার সৃষ্টি হচ্ছে। সময়ের পরিক্রমায় মুসলমান নানান দলে-উপদলে বিভক্ত হওয়ার কারণে ক্রমশ দুর্বল হয়ে তার অতীত ঐতিহ্য হারাচ্ছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘বরং সীমা লঙ্ঘনকারীগণ অজ্ঞানতাবশত তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করে।’ (সুরা রুম:২৯)।

আল্লাহর রঙে রঙিন হতে হলে হযরত রসুল (স.)-এর দেখানো পথ অনুযায়ী চলতে হবে। পরিবার, সমাজ ও দৈনন্দিন আমল ইবাদত করার ক্ষেত্রে নিজেদের মনগড়া কোনো কিছু করা যাবে না। ইরশাদ হয়েছে, ‘রসুল তোমাদিগকে যা দেন, তা তোমরা গ্রহণ করো এবং যা তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাক।’ (সুরা হাশর:৭)।

lলেখক :সুফিবাদবিষয়ক গবেষক