যথাযোগ্য মর্যাদায় ধর্মীয় ভাবগম্ভীর পরিবেশে সারা দেশে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত হয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য স্থানের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালন করা হয়। সর্বস্তরের মানুষ এবং বিভিন্ন সংগঠন ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে দিনটি উদ্যাপনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। রাজধানী ঢাকা, সব বিভাগীয় নগরী, জেলা-উপজেলা, নগর-শহর ও সারা দেশের প্রত্যন্ত জনপদসহ সর্বত্র বিপুল উত্সাহ-উদ্দীপনায় দিনটি পালিত হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লামের পূর্ণাঙ্গ জীবন আলোচনা, সমাবেশ, মিলাদ মাহফিল, মোনাজাত এবং শোভাযাত্রা। ঈদে মিলাদুন্নবি (সা.) উপলক্ষ্যে বুধবার ছিল সরকারি ছুটি। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করে। বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ও রেডিও বুধবার গভীর রাত পর্যন্ত বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন পক্ষকালব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের পূর্ব চত্বরে মঙ্গলবার বাদ মাগরিব ধর্মমন্ত্রী ঈদে মিলাদুন্নবীর অনুষ্ঠানমালা উদ্বোধন করেন। পক্ষকালব্যাপী অনুষ্ঠানমালার মধ্যে রয়েছে :ওয়াজ মাহফিল, সেমিনার, ইসলামিক ক্যালিগ্রাফি ও মহানবি (সা.)-এর জীবনভিত্তিক পোস্টার ও গ্রন্থ প্রদর্শনী, ইসলামি বইমেলা, ইসলামি সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, কিরাত ও হাম্দ-নাত এবং রাসুল (সা.) শানে কবিতা পাঠের আসর প্রভৃতি।
এদিকে রাজধানীর নানা জায়গায় কয়েকটি সুন্নি সংগঠন শোভাযাত্রা বের করে। নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপির উদ্যোগে এবং জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের পরিচালনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। মিলাদুন্নবি উপলক্ষ্যে বুধবার রাজধানীর গুলিস্তান মহানগর নাট্যমঞ্চ থেকে ‘আশেকানে গাউছিয়া রহমানিয়া মইনিয়া সহিদীয়া মাইজভান্ডারীয়া’র উদ্যোগে জশনে জুলুশ বের হয়। এতে নেতৃত্ব দেন সংগঠনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক আলহাজ মাওলানা সৈয়দ সহিদ উদ্দীন আহমদ আল হাসানী ওয়াল-হোসাইনী মাইজভান্ডারী। এর আগে মহানগর নাট্যমঞ্চে ঈদে মিলাদুন্নবির তাত্পর্য শীর্ষক আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তারা সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক সহিংসতাকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আখ্যা দিয়ে এর নিন্দা জানান।
আলোচনাসভায় শাহসূফি মাওলানা সৈয়দ সহিদ উদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আল্লামা ড. আতাউর রহমান মিয়াজী, গণতান্ত্রিক ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা মাসউদুর রহমান বিক্রমপুরী, আল্লামা ফুয়াদ আল ফারুকী প্রমুখ।
আঞ্জুমানে কাদেরিয়া ঢাকাসহ বিভিন্নস্থানে মিলাদ মাহফিল ও কোরানখানির আয়োজন করে।
