আর কখনো অধীনস্থ হব না স্বাধীন জাতি হিসেবে মাথা উঁচিয়ে চলব :প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২১, ২৩:০৭

 “বাংলাদেশ আজকে স্বাধীন দেশ। কাজেই বাংলাদেশের ক্ষতি ভবিষ্যতে আর কেউ করতে পারবে না। আমরা কখনো আর কারো অধীনস্থ হব না। স্বাধীন জাতি হিসেবে আমরা সারা বিশ্বে মাথা উঁচু করে চলব। প্রকৃতপক্ষে দেশের যখন উন্নয়ন হচ্ছে, একটা শ্রেণি আছে, তারা কখনো এটা মানতে পারে না। বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে সম্মান নিয়ে চলবে, এটা তাদের কাছে পছন্দনীয় নয়। আর বিএনপি-জামায়াতের কখনোই এটা পছন্দ হবে না, কারণ খালেদা জিয়ার অন্তরে সব সময়ই ছিল ‘পেয়ারে পাকিস্তান’।” প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বৃহস্পতিবার অপরাহ্নে কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের নবনির্মিত অফিস ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে এ কথা বলেন। তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ গণমানুষের সংগঠন এবং আওয়ামী লীগ এ দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করবে, দেশের মানুষকে উন্নত জীবন দেবে, দেশের মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করবে। আর মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী জাতি হিসেবে বিশ্বদরবারে আমরা মাথা উঁচু করে চলব, যেটা জাতির পিতা চেয়েছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক দেশ। এ দেশে সব ধর্মের নাগরিকদের অন্যের ধর্মের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে হবে। তিনি তার দলের নেতাকর্মীদের সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি শান্তি সম্মেলন, শান্তি মিছিল ও শান্তি সভা করার পরামর্শ দিয়েছেন।

করোনার শিক্ষা ‘যতই সম্পদ হোক, দুঃসময়ে তা কাজে লাগে না’ উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, মানুষ মরে গেলে এই সম্পদ পড়ে থাকবে, তা কোনো কাজেই আসবে না। কাজেই যত বেশি দরিদ্র মানুষকে সাহায্য করতে পারব, সেটাই জাতির পিতার এবং ইসলামের শিক্ষা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কুমিল্লার যে ঘটনাটি ঘটে গেছে, সেটা সত্যই খুব দুঃখজনক। কারণ, মানবধর্মকে সম্মান করাই ইসলামের শিক্ষা। কিন্তু নিজের ধর্ম পালনের অধিকার যেমন সবার রয়েছে, তেমনি অন্যের ধর্মকেও কেউ হেয় করতে পারে না। এটা ইসলাম শিক্ষা দেয় না। আর নিজের ধর্মকে সম্মান করার সঙ্গে সঙ্গে অন্যের ধর্মকেও সম্মান করতে হয়। আর অন্য ধর্মকে হেয় করা হলে নিজের ধর্মকেই অসম্মান করা হয়ে যায়।’

কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার এমপি অনুষ্ঠানে কুমিল্লা প্রান্ত থেকে স্বাগত বক্তৃতা করেন। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ কুমিল্লা প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মহানবি হজরত মোহাম্মদ (স.) বলেছেন, ধর্ম নিয়ে কেউ বাড়াবাড়ি করবে না। কাজেই আমাদের সবারই সেই কথা মেনে চলতে হবে এবং জানতে হবে, তাহলেই সঠিক শিক্ষা আমরা পাব। প্রতিটি ধর্মই শান্তির বাণীর কথা বলে, সবাই শান্তি চায়। কাজেই এই বাংলাদেশে আমরা একটা অসম্প্রদায়িক সমাজে বসবাস করি, যেখানে সবার ধর্মের সঙ্গে আমাদের সম্প্রীতি থাকবে এবং এই সম্প্রীতি নিয়েই আমাদের চলতে হবে। কেননা, যুগ যুগ ধরেই এ দেশে সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করে আসছে।

কুমিল্লাকে বিভাগে রূপান্তরিত করার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে ফরিদপুর ও এর আশপাশের জেলাগুলো নিয়ে ‘পদ্মা’ এবং কুমিল্লা ও তার আশপাশের জেলা নিয়ে ‘মেঘনা’ বিভাগ প্রতিষ্ঠার ও প্রস্তাব করেন।

এ সময় কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার বলেন, ‘কুমিল্লার নামে বিভাগ করেন।’ জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কু নাম দেব না আমি। কুমিল্লা দেব না। কারণ এই নামের সঙ্গে মোশতাকের নাম জড়িত। সেই জন্য আমি দেব না।’

পরে বাহার কথা বলতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী তাকে থামিয়ে দেন। বলেন, ‘তুমি যদি কুমিল্লা বলো, তাহলে শুধু কুমিল্লা হবে কেন? চাঁদপুর বলে আমার নামে হবে। নোয়াখালী বলে আমার নামে। কারণ নোয়াখালী সব থেকে পুরোনো। কুমিল্লা তো ত্রিপুরার ভগ্নাংশ।’

এ সময় বাহার বলেন, ‘এতগুলো বিভাগ দিয়েছেন, কোথাও সমস্যা হয়নি। কুমিল্লায় এসে সমস্যা কেন হবে?’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ফরিদপুর বিভাগ করব পদ্মার নামে। কুমিল্লা বিভাগ হবে মেঘনার নামে। কারণ ‘পদ্মা-মেঘনা-যমুনা, তোমার আমার ঠিকানা’—এই স্লোগান দিয়ে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ করেছে, বিজয়ী হয়েছে।’

এ সময় বাহার আবারও বলেন, ‘আমাদের কুমিল্লার সব মানুষ এই নামেই চায়। ৫০ লাখ মানুষ।’

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই নামে অন্য জেলাগুলো তো আসতে চায় না। আমরা চেষ্টা করেছি তো। নোয়াখালী, ফেনী, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া আসবে না।’