রাজিবপুরে ৫৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রধান শিক্ষকের ১৭টি ও সহকারী শিক্ষকেরও ১৭টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। অফিস সহায়ক কাম কম্পিউটারের দুটি পদ ও উচ্চমান সহকারী পদও খালি রয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে ৯টি বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাম প্রহরীর। এছাড়াও আরো ৩৭টি বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাম প্রহরীর পদ শূন্য। এ অবস্থায় উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের মধ্যে ৫৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে দুটি ক্লাষ্টার ও ১১টি সাব-ক্লাষ্টারে ভাগ করা হয়েছে। প্রত্যেক ক্লাষ্টারে একজন করে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন।
রাজিবপুর ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুস সবুর ফারুকী বলেন, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিকের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকট শিক্ষা কার্যক্রমকে ব্যাহত করবে। উপজেলার বালিয়ামারী বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আকাঈদ হোসেন জানান, তাদের বিদ্যালয়ে ৬২০ জন শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষক মাত্র আট জন। শিক্ষক সংকটের কারণে পাঠদানে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
ধুলাউড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিপ্লবী আক্তার বলেন, ৯টায় উপস্থিত হয়ে শ্রেণিকক্ষ ঝাড়ু দেওয়া, দরজা-জানালা খোলাসহ বিদ্যালয়ের অন্যান্য কাজ করতে হয়। এমনকি শিক্ষকদের টয়লেটও পরিষ্কার করতে হয়। দপ্তরি কাম প্রহরী না থাকায় এসব কাজ শিক্ষকদের করতে হচ্ছে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন জানান, রাজিবপুর উপজেলার ৫৮টি বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রধান শিক্ষকের ১৭টি ও সহকারী শিক্ষকের ১৭টি পদ শূন্য রয়েছে। শিক্ষক সংকটে পাঠদান ব্যাহত হওয়ার কথা নিশ্চিত করে জানান, নতুন শিক্ষক নিয়োগে আশা করি শূন্য পদগুলো পূরণ হবে।
ইত্তেফাক/জেডএইচডি
