সৌন্দর্য আপনার হাতেই

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২১, ১৯:৩৭

মানুষের বাহ্যিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে ত্বকের সঠিক যত্ন নেওয়া আবশ্যক। অন্যদিকে চুলের কাজও সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা। তবে অযত্ন অবহেলায়, অসময়েই চুলে পাক ধরতে পারে অথবা চুল ঝরে যেতে পারে। সেইসঙ্গে আপনার ঠোঁটেও চাই বাড়তি যত্ন। আসুন জেনে নিই সৌন্দর্যের সেই ব্যাকরণ। লিখেছেন নওশীন শর্মিলী

ত্বকের যত্ন

ত্বকের যত্নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে জরুরি যে বিষয়টি তা হলো নিয়মিত ত্বক পরিষ্কার করা। সে জন্যে নির্দিষ্ট একটা বিরতি দিয়ে দিয়ে মুখ ধুতে হবে। বিশেষ করে যখন বোঝা যাবে ত্বকে কোনো ময়লা লেগেছে তখন অবশ্যই ধুয়ে নিতে হবে। আর এ ধোয়া যেন শুধু পানি দিয়ে ধোয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে। ধুতে হবে ফেসওয়াশ দিয়ে। বিশেষ করে সকালে এবং রাতে ঘুমানোর আগে ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধোয়া আবশ্যক। বিজ্ঞাপনে কোনো সাবানকে যত ভালোই বলা হোক না কেন, এছাড়া সাবানটি এমনিতে যত নরম কোমলই হোক না কেন, তাতে ত্বকের জন্যে ক্ষতিকর অনেক উপাদান থাকে। ফলে নিয়মিত সাবান ব্যবহারের কারণে মুখের ত্বকে বলিরেখা পড়তে পারে। তাই মুখের ত্বকে খুব বেশি সাবান ব্যবহার না করাই ভালো। সাবানের পরিবর্তে ফেসওয়াশ ব্যবহার করলেও, ফেসওয়াশটি আসলেই মানসম্পন্ন কি না যাচাই করে নিতে হবে। সপ্তাহে অন্তত একদিন যেকোন স্ক্রাব দিয়ে মুখ পরিষ্কার করতে হবে। ত্বক তৈলাক্ত হলে সেটি আরেক সমস্যা। তাই খেয়াল রাখুন ত্বকে যাতে তেল না জমে। মনে রাখবেন, ত্বকে তেল জমলে সেখানে সহজেই ময়লা লেগে যায়। তখন পুরো মুখ ভরে যায় ব্রণে। তবে যাদের ত্বক এমনিতেই তৈলাক্ত তারা এই তেলতেলে ভাব কাটাতে  কমপ্যাক্ট পাউডার ব্যবহার করতে পারেন। বরফ দিয়ে ম্যাসাজ করলেও উপকার পাবেন। খেয়াল রাখবেন ত্বকে ব্যবহূত সামগ্রী যেন ভালো ব্র্যান্ডের হয়।

চুলের যত্ন

প্রতিদিন ভালোভাবে চুল ধুতে হবে। যারা বাইরে কাজ করেন তাদের চুলে বেশি ধুলোবালি লাগে। তাই তারা প্রতিদিনই শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধোবেন। সম্ভব হলে কন্ডিশনারও ব্যবহার করবেন। সপ্তাহে অন্তত দুই দিন চুলে গরম তেল ম্যাসাজ করুন। নারকেল তেল চুলের সবচেয়ে ভালো বন্ধু। তাই এই তেল সারারাত চুলে লাগিয়ে রেখে পরদিন ধুয়ে ফেলুন। এতে রাতে আপনার ভালো ঘুম হবে। তেলের সঙ্গে যেকোনো প্রোটিনসমৃদ্ধ প্যাকও লাগানো যেতে পারে। বিশেষ করে ডিম, আমলা, টকদই এসব দিয়ে তৈরি প্যাক চুলের জন্যে খুব উপকারি। রাতে ঘুমুতে যাওয়ার আগে চুল ভালোভাবে আচড়ে নিন। চুল ভেজা থাকলে সেটা ফ্যানের বাতাসে শুকিয়ে তবেই ঘুমুতে যান। নইলে ঠান্ডা লেগে যাবে। চুল বেশি লম্বা হলে পাতলা স্কার্ফ দিয়ে মুড়িয়ে নিতে পারেন। এতে চুল নিরাপদ থাকবে। খুশকি থেকে বাঁচতে চুল সবসময় পরিষ্কারও শুকনো রাখুন। দিনে যখন কোথাও বের হবেন, চুল বেঁধে রাখবেন। এতে চুল কম ময়লা হবে। চুল অপরিচ্ছন্ন থাকলে উকুনও হতে পারে। উকুন আবার অন্য কারো মাথা থেকেও আসতে পারে। তাই অপরিচ্ছন্ন চুলের কারো সঙ্গে মেশার সময় সাবধান থাকতে হবে। আপনি যে বালিশে ঘুমুবেন, চুলের যত্নের কথা ভেবে হলেও সেই বালিশটি পরিষ্কার রাখবেন। কারণ অপরিচ্ছন্ন বালিশ থেকেও চুলে ধুলো ময়লা লেগে থাকে।

মৌসুমী প্রস্তুতি

শীত আসতে আর বেশি দেরি নেই। বইতে শুরু করেছে হিমেল হাওয়া। এখন চলছে শীতকে বরণ করে নেয়ার প্রস্তুতি। তবে এই আয়োজনের মধ্যেও একটা ভয় সবার মনে থেকেই যায়। আর তা হলো শীতে ঠোঁট ফাটার ভয়। ঠোঁট ফাটলে কষ্ট তো হয়ই; দেখতেও খুব বাজে লাগে। এছাড়া ফাটা ঠোঁটে লিপস্টিক দিলে সেটা আরো বাজে দেখায়। তাই এখন থেকেই ঠোঁটের যত্ন নিতে হবে। যাতে প্রচণ্ড শীতে আপনার ঠোঁট থাকে সুস্থ। ঠোঁট ফাটার অন্যতম প্রধান কারণ হলো রুক্ষতা। তাই যেভাবেই হোক ঠোঁটের রুক্ষতাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। সবসময় ক্রিম বা ভ্যাসলিন ব্যবহার করুন। রাতে শুতে যাওয়ার আগেও ঠোঁটের পরিচর্যা করে নিতে হবে। এ সময় পুরু করে ভ্যাসলিন লাগিয়ে নিতে হবে। তারপর সকালে ঘুম থেকে ওঠে ভেজা নরম কাপড় দিয়ে আলতো করে মুছে নিতে হবে। এতে ঠোঁটের মরা চামড়াও উঠে যাবে। ঠোঁট হয়ে উঠবে আরো বেশি সতেজ এবং কোমল।

লিপস্টিকের ব্যবহার

বাইরে বের হওয়ার আগে লিপস্টিক লাগিয়ে থাকেন প্রায় সবাই। তবে ঠোঁট ফাটা থাকলে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। তাই বলে এর যে কোনো সমাধান নেই, তা কিন্তু নয়। লিপস্টিক লাগানোর আগে ঠোঁটে ভ্যাসলিন লাগিয়ে নিন। এতে ঠোঁটতো সুরক্ষিত থাকবেই; লিপস্টিকও থাকবে অনেকক্ষণ। যাদের ত্বক তৈলাক্ত, তারা পাউডার ব্যবহার করবেন। একবার লিপস্টিক লাগিয়ে একটু পাউডার লাগাতে হবে। এরপর আরেকবার একটু লিপস্টিক লাগাতে হবে। এতে লিপস্টিক অনেকক্ষণ স্থায়ী হবে। তাপমাত্রা স্বাভাবিক—এমন জায়গায় যারা কাজ করেন, তারা ঠোঁটে ভ্যাসলিন লাগানোর পর ভেজা কাপড় দিয়ে ঠোঁট দুটো মুছে ফেলবেন। তারপর লিপস্টিক লাগাবেন। তাহলে লিপস্টিক অনেকক্ষণ ধরে থাকবে। যারা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত জায়গায় কাজ করেন, তাদের ক্ষেত্রেও ভ্যাসলিনটা জরুরি। পাউডার বাদ দিলেও চলবে।

রঙ নির্বাচন

চকচকে রঙের লিপস্টিক সবসময়ই সবার পছন্দের। আপনার যদি ততটা পছন্দের নাও হয় তবু এই মৌসুমে চকচকে রঙের লিপস্টিকই বেছে নিন।  কারণ, চকচকে রঙের লিপস্টিক আপনার ঠোঁটকে উজ্জ্বল তো রাখবেই; এমনকি ঠোঁটের ফাটাজনিত কোনো সমস্যা থাকলে সেটিও ঢেকে রাখবে। বাজারে বিভিন্ন রঙের লিপস্টিক পাওয়া যায়। একদিন সময় করে গিয়ে বেশকয়েকটা নিয়ে আসুন। যাতে ম্যাচ করে ব্যবহার করতে পারেন। লিপস্টিক কেনার সময় সেটি ভালো ব্র্যান্ডের কি না খেয়াল করুন। কারণ, আজেবাজে ব্র্যান্ডের লিপস্টিক ব্যবহার করলে ঠোঁটের স্বাভাবিক সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যাবে। তাত্ক্ষণিকভাবে হয়তো নেতিবাচক কোনো প্রভাব দেখা যাবে না, তবে ধীরে ধীরে ঠোঁট রুক্ষ হয়ে যেতে থাকবে। শীতের সময় ময়েশ্চারাইজারযুক্ত লিপস্টিক ব্যবহার করা উচিত। তাহলে ঠোঁট থাকবে নরম ও কোমল।

মডেল বিদ্যা সিনহা মিম

ছবি মোহসীন আহমেদ কাওছার