শরীরের পক্ষে খুবই ভালো ও আরামদায়ক ডাবের পানি। যেকোনো কোমল পানীয়ের পরিবর্তে ডাবের পানি পান আপনাকে রাখবে সতেজ ও ফুরফুরে।
ডাবের পানি বনাম কোমল পানীয়
l সোডিয়াম শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকারক। ডাবের পানিতে সোডিয়াম রয়েছে ২৫ গ্রাম। আর এনার্জি ড্রিংয়ে যার পরিমাণ ২০০ গ্রাম।
l ডাবের পানিতে ২৯৪ গ্রাম পটাশিয়াম রয়েছে, যেখানে এনার্জি ড্রিংক ও স্পোর্টস ড্রিংকে ১১৭ গ্রাম পটাশিয়াম রয়েছে। পটাশিয়াম হাই ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখে, হার্টের কার্যক্ষমতা ভালো রাখে।
l ডাবের পানি, ব্লাড সার্কুলেশন ভালো করতে, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
l ডাবের পানিতে, চিনির পরিমাণ মাত্র ৫ গ্রাম, সেখানে (সফট ড্রিংকে) কোমল পানীয়তে ১০-১৫ গ্রাম চিনি রয়েছে। অতিরিক্ত সুগার ওবেসিটির প্রথম এবং প্রধান কারণ।
l কোমল পানীয়তে ক্লোরাইড মাত্র ৩৯ গ্রাম থাকে। আর ডাবের পানিতে কোলারাইডে পরিমাণ ১১৭ গ্রাম। ক্লোরাইড শরীরের ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
l ডাবের পানি মেটাবলিজম রেট বাড়িয়ে অতিরিক্ত ওজন ঝরিয়ে ফেলতে সাহায্য করে।
বিভিন্ন অসুখের উপশমে ডাবের পানি
l গরমে পানি শূন্যতার সমস্যায় ডাবের পানি দারুণ কাজ করে। ডাবের পানি শরীর ঠান্ডা রাখে।
l স্মল পক্স, চিকেন পক্স বা মিজলস থেকে র্যাশ হয়। এতে ডাবের পানি লাগলে অনেকটা কমে যাবে। ঘামাচি, রোদে ত্বক পুড়ে যাওয়া বা র্যাশের সমস্যায় ত্বকে ডাবের পানি লাগালে অনেক আরাম পাবেন।
l ইউরিনারি ট্র্যাকের সমস্যায় ডাবের পানি ডাইইউরেটিক রেগুলার ইউরিন ফ্লোতে সাহায্য করে কিডনি ভালো রাখে।
l ডাবের পানি কলেরা উপশমে সাহায্য করে।
l ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ডাবের পানি দিয়ে ওষুধ খেতে পারেন। কারণ ডাবের পানিতে তাড়াতাড়ি ওষুধ হজম করতে পারে শরীর। ডাবের পানিতে উপস্থিত ইলেকটোলাইট এতে সাহায্য করে।
l ডাবের পানির কোনো জুড়ি নেই পথ্য হিসেবে। ডাবের পানি সলিড ও সেমি লিকুইড খাবার তাড়াতাড়ি হজম করায়।
l ব্যায়াম করা বা হাঁটার পর ডাবের পানি খান। শরীরের পানির ভারসাম্য বজায় রাখতে ডাবের পানি সাহায্য করে।
গর্ভকালীন সময় ডাবের উপকারিতা
l ডাবের পানিতে রয়েছে লরিক অ্যাসিড। ইমিউন সিস্টেম গড়ে তুলতে, ইনফেকশন প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। তাই গর্ভকালীন সময় ডাবের পানি খুবই উপকারী।
l হজমের গোলমাল গর্ভকালীন সময় প্রায়ই দেখা যায়। ডাবের পানি এই সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে।
জেনে রাখা ভালো
l ডাবের পানিতে ফ্যাট ও কোলেস্টেরলের পরিমাণ কম।
l ডাবের পানিতে কমলার রস থেকেও কম ক্যালোরি রয়েছে।
l ডাবের পানি নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
l লরিক অ্যাসিড যা শুধু ব্রেস্ট মিল্কে এবং ডাবের পানিতে রয়েছে।
ডাবের পানির অন্যান্য উপকারিতা
l কিডনিতে পাথর সমস্যায় পথ্য হিসেবে ডাবের পানি খুবই ভালো কাজ করে।
l ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে লেবুর রসের সঙ্গে ডাবের পানি মিশিয়ে খেতে পারেন।
l ডাবের পানিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে। এ ছাড়াও রয়েছে আয়রন, মিনারেল, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, সালফার ও কপারের মতো মিনারেল।
l গবেষণা থেকে জানা যায়, ডাবের পানির সঙ্গে ১ চা চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে খেলে ইনটেসটিনাল ওয়ার্ম নষ্ট হয়ে যায়। এর ফলে সহজে খাবার হজম হয়।
l রোগ প্রতিরোধ করতে ডাবের পানি সাহায্য করে।
l ডাবের পানি কনস্টিপেশন সমস্যা দূর করতে খেতে পারেন। তবে যদি সমস্যা না থাকে তাহলে একবারে অতিরিক্ত পরিমাণে ডাবের পানি পান করবেন না।
