‘হু জুগে জনতার স্রোত হঠাত্ বাম দিকে চলে গেল। সেখানে ছিল লাহোরের মহান সমাজসেবী স্যার গঙ্গারামের মূর্তি। বিশৃঙ্খল জনতার সব আক্রোশ তখন ঐ মূর্তির ওপর বিস্ফোরিত হলো। মূর্তির মুখে আলকাতরা মাখিয়ে দিল আগ্রাসী এক ব্যক্তি। গঙ্গারামের মূর্তিতে আরেকজন জুতার মালা পরিয়ে দিতে অতি উত্সাহে এগোতে থাকল। ছেঁড়া নোংরা জুতোর মালা যখন সে পরাতে গেল, তখনই পুলিশ চলে আসে। গুলি ছুড়ে মারে জুতার মালা হাতে লোকটার দিকে। গুলিবিদ্ধ হলো সে। তারপর তাকে বাঁচাতে নিকটস্থ ‘স্যার গঙ্গারাম হাসপাতালে’ নিয়ে যাওয়া হলো।’
এই ছোট্ট গল্পটি লিখেছেন ভারতীয় উপমহাদেশের প্রখ্যাত সাহিত্যিক সাদাত হাসান মান্টো (১৯১২-১৯৫৫)। দেশভাগের সময় লাহোরের দাঙ্গার সত্য ঘটনা অবলম্বনে লেখেন তিনি। দাঙ্গা নিয়ে উপমহাদেশে অসংখ্য গল্প আছে। তবে বাংলাভাষায় ‘দাঙ্গা’ নিয়ে প্রথম গল্পটি লেখেন সোমেন চন্দ (১৯২০-১৯৪২)। ঢাকার পটভূমিতে ‘দাঙ্গা’ নামের গল্পটি শুরু হয়েছিল এভাবে—‘লোকটি খুব তাড়াতাড়ি পল্টনের মাঠ পার হচ্ছিল। বোধহয় ভেবেছিল, লেভেল ক্রসিং-এর কাছ দিয়ে রেলওয়ে ইয়ার্ড পরে নিরাপদে নাজিরাবাজার চলে যাবে। তার হাতের কাছে বা কিছু দূরে একটা লোকও দেখা যায় না—সব শূন্য, মরুভূমির মতো শূন্য। দূরে পিচঢালা পথের উপর দিয়ে মাঝে মাঝে দুই-একটা সুদৃশ্য মোটরকার হুস করে চলে যায় বটে, কিন্তু এত তীব্র বেগে যায় যে মনে হয় যেন এইমাত্র কেউ তাকেও ছুরি মেরেছে, আর সেই ছোরার ক্ষত হাত দিয়ে চেপে ধরে পাগলের মতো ছুটে চলেছে।’
হাসান হাফিজুর রহমান (১৯৩২-১৯৮৩) তাঁর দাঙ্গাবিরোধী গল্প ‘আরো দুটি মৃত্যু’র মধ্যে একটি মৃত্যুর বর্ণনা এভাবে এঁকেছিলেন—‘অন্ধকার, যেখানে স্পষ্ট একটি নারীদেহ ভেসে উঠেছে। রক্তাক্ত দেহ, মুখ হাঁ হয়ে আছে। পেট অত্যন্ত উঁচু। চোখ উলটে গেছে বিকৃত হয়ে অসম্ভব বেদনাকে সহ্য করার অস্বাভাবিক চেষ্টায়। একটি মা। একটি মাতৃত্ব আকাঙ্ক্ষী নারী, জীবনের জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত যুঝেছে। তার ফুলে-ওঠা পেটের ভেতর আছে একটি শিশু, একটু আগেও জীবিত ছিল যে। জন্মাতে পারলে অনেক কিছুই হয়তো করতে পারত; সুখী আগামী পৃথিবীর বুকে শ্বাস টানতে পারত অন্তত। এ জন্মকে রুখল কে?’
গত এক সপ্তাহে দাঙ্গা ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস বাংলাদেশের টক অব দ্য কান্ট্রি। প্রশ্ন হলো, দাঙ্গার অর্থ কী? কেন দাঙ্গা হয়? ‘দাঙ্গা’ শব্দটি এসেছে ফারসি ‘জঙ্গ’ শব্দ থেকে। ফারসি ভাষায় যুদ্ধের সৈন্যদের বলা হতো ‘জঙ্গ’। আর যুদ্ধের কৌশলকে বলা হতো ‘দঙ্গ’। দঙ্গ শব্দটি ক্রমশ বিবর্তিত হয়ে বাংলায় নতুন শব্দের সৃষ্টি করে, যাকে বলা হয় ‘দাঙ্গা’। ১৭১৪ সালে ইংল্যান্ডে প্রথম পাশ হয় ‘দ্য রায়ট অ্যাক্ট’। এই ‘রায়ট’ শব্দটির বাংলা অনুবাদ হিসেবে ধরা হয় এই ‘দাঙ্গা’কে। তবে ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম দাঙ্গার তথ্য পাওয়া যায় ১৬১৫ খ্রিস্টাব্দে ইরানে জন্ম নেওয়া ইতিহাসবিদ মহসিন ফানির ‘দবিস্তান’ গ্রন্থে। তবে সেই দাঙ্গা হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে হয়নি। সেটা হয়েছিল ১৬৪০ খ্রিস্টাব্দে হরিদ্বারে, নাগা সন্ন্যাসীদের সঙ্গে বৈরাগীদের দাঙ্গা। উপমহাদেশে হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে প্রথম দাঙ্গা হয় ১৬৭১ সালে। সূত্রপাত হয়েছিল সম্রাট আওরঙ্গজেবের জারি করা ধর্ম পালনের নতুন নিয়ম-নীতির জন্য। অন্যদিকে ব্রিটিশ-ভারতে হিন্দু মুসলমানদের প্রথম দাঙ্গা হয় ১৮৮২ সালে। এটাকে বলা হয় ‘সালেম দাঙ্গা’। তামিলনাড়ুর সালেম শহরে একটি মসজিদ নির্মাণকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছিল এই দাঙ্গা। হিন্দুদের দাবি ছিল তাদের ধর্মীয় পথে মুসলমানেরা মসজিদ বানিয়েছিল।
হিন্দু-মুসলমানদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দাঙ্গা হয় ব্রিটিশ-ভারতে। এর রহস্য লুকিয়ে আছে ১৮৫৭ সালে সংঘটিত সিপাহী বিদ্রোহের মধ্যে। তত্কালীন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে একজোট হয়ে লড়েছিল হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ। ইতি ঘটেছিল কোম্পানি শাসনের। চালু হয়েছিল রানির অধীনে সরাসরি ব্রিটিশ শাসন। ইংরেজরা বুঝতে পেরেছিল হিন্দু-মুসলমান এক থাকলে তাদের শাসনের পথ মসৃণ হবে না। এজন্য তারা হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে বৈষম্য আর বিভেদ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে বেছে নিয়েছিল—‘ডিভাইড অ্যান্ড রুলস’, অর্থাত্, ভাগ করো এবং শাসন করো।
এখনকার মতো তখনো বেশিরভাগ দাঙ্গার সূত্রপাত হতো গুজব বা মিথ্যে তথ্য দিয়ে। তখন ফেসবুক ছিল না, কিন্তু তারপরও গুজবের দাবানল ছড়াত বিদ্যুত্গতিতে। ব্রিটিশ-ভারতে সবচাইতে ভয়াবহ দাঙ্গা হয় ১৯৪৬ সালে। এই ভয়াবহ দাঙ্গার সূত্রপাতটিও হয়েছিল মিথ্যে অভিযোগ দিয়ে। অভিযোগ ছিল যে, মুসলমানেরা এক হিন্দু নারীকে ধরে নিয়ে গেছে। কলকাতায় ১৯৪৬ সালের ১৬ আগস্ট শুরু হওয়া এই দাঙ্গা এক সপ্তাহ ধরে চলে। কলকাতার দাঙ্গার প্রতিশোধ নিতেই দু’মাসেই মধ্যে পূর্ববঙ্গের নোয়াখালীতে শুরু হয় আরেকটি ভয়াবহ দাঙ্গা। ১৯৪৬-এর ১০ অক্টোবরের সেই দিনটি ছিল কোজাগরি লক্ষ্মীপূজার দিন। চার সপ্তাহ ধরে নোয়াখালীতে চলে এই গণহত্যা।
এসব দাঙ্গার পর ১৯৪৭ সালে ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগের সিদ্ধান্ত পাকা হয়ে যায়। ব্রিটিশরা চলে যাবার পরও দাঙ্গার বীভত্স রোগের প্রাদুর্ভাব স্তিমিত হয় না। বরং কিছুদিন পর পর মাথাচাড়া দেয় পুরনো এই রোগ। সেসময় প্রতি বছরই বিপুল সংখ্যক মুসলমান ভারত থেকে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানে এবং বিপুল সংখ্যক হিন্দু পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান থেকে ভারতে চলে যেতে বাধ্য হয় একের পর এক সাম্প্রদায়িক সহিংসার জন্য। ১৯৪৮ সালে হায়দ্রাবাদ অপারেশন হয়, ১৯৫০ সালে বরিশালে, ১৯৫৬ সালে পাকিস্তান ইসলামি রাষ্ট্র ঘোষণার পর এবং ১৯৬৪ সালে কাশ্মীরে মহানবীর চুল চুরি হওয়ার ঘটনায় ব্যাপক দাঙ্গা হয়। ১৯৬৪ সালের দাঙ্গার ঘটনা তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তানের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটাতে সাহায্য করে। দাঙ্গার সূত্রপাত হয় ভারত অধিকৃত কাশ্মীরের অন্তর্গত হজরতবাল মসজিদে সংরক্ষিত হযরত মুহাম্মদ (স)-এর পবিত্র কেশ অপহরণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। পাকিস্তানের ডন (Dawn) পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, ১৯৬৩ সালের ২৬-২৭ ডিসেম্বর রাতে হজরতবাল মসজিদ হতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স)-এর পবিত্র কেশ চুরি হয়। এরপর ২৮ ডিসেম্বর কাশ্মীরের প্রায় ২ লক্ষ জনতা হাতে কালো ও সবুজ রঙের পতাকা নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়ে। এদিকে ১৯৬৪ সালের ৪ জানুয়ারি কাশ্মীরের তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী শামসুদ্দীন ঘোষণা করেন যে, হজরতবাল থেকে মহানবীর অপহূত পবিত্র কেশ উদ্ধার করা গেছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও জনরোষ সম্পূর্ণ দূর হয় না। অনেকে বরং এ তথ্যের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। মহানবীর কেশ চুরির ঘটনার অভিঘাত তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তানে প্রথম দেখা যায় খুলনা ও দৌলতপুরে। অনেকে মনে করেন, তত্কালীন পাকিস্তানি সরকার পূর্ব পাকিস্তানে আইয়ুববিরোধী আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে পরিচালিত করার লক্ষ্যে ১৯৬৪ সালে ৭ জানুয়ারি ঢাকা, আদমজী ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় পেশাদার গুণ্ডা দিয়ে হিন্দু-মুসলমান, বাঙালি-বিহারি দাঙ্গার সূচনা করা হয়। পূর্ব পাকিস্তানের দাঙ্গার রেশ ৯ জানুয়ারি ছড়িয়ে পড়ে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা এবং এর শহরতলী এলাকায়। পূর্ব পাকিস্তানে এই দাঙ্গা ১০ জানুয়ারি তীব্র আকার ধারণ করে। দাঙ্গা প্রতিরোধে ১১ জানুয়ারি ঢাকায় ইত্তেফাকের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার নেতৃত্বে ৮ জন সাংবাদিক ও পূর্ব পাকিস্তান সাংবাদিক ইউনিয়নের দুইজন কর্মকর্তা এক যুক্ত বিবৃতি প্রদান করেন। সেখানে মানবতার দুশমনদের রুখে দাঁড়াবার আহ্বান জানানো হয়। যুক্ত বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে ছিলেন তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া, আবদুস সালাম (সম্পাদক, পাকিস্তান অবজারভার), এস জি এম বদরুদ্দীন (আবাসিক সম্পাদক, মর্নিং নিউজ, ঢাকা), জহর হোসেন চৌধুরী (সম্পাদক, সংবাদ), কে জি মুস্তাফা (প্রেসিডেন্ট, পূর্ব পাকিস্তান সাংবাদিক ইউনিয়ন), সিরাজুল হোসেন খান (জেনারেল সেক্রেটারি, পূর্ব পাকিস্তান সাংবাদিক ইউনিয়ন)। সেই সময় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমান বিবৃতিতে বলেন, ‘সাম্প্রদায়িকতাবাদ পুনরায় দুঃস্বপ্নময় বিভীষিকা ও হিংসোন্মতার রূপ লইয়া আত্মপ্রকাশ করিয়াছে। ইহার অন্ধভাবে ঘৃণা করার মারাত্মক দর্শন সর্বপ্রকার মানবিক মূল্যবোধকে তলাইয়া দিতেছে। ইহার কবলে ইতিমধ্যেই অসংখ্য নিরীহ মানুষ প্রাণ বিসর্জন করিয়াছে এবং আরো হাজার হাজার লোক রাতারাতি সর্বস্বান্ত হইতে চলিয়াছে। আমি আমার দেশবাসীর কাছে সাম্প্রদায়িক প্রতিশোধ ও পালটা প্রতিশোধের ঘৃণ্য চক্রের ঊর্ধ্বে থাকার জন্য তাহাদের মাথা ঠান্ডা ও অন্তর পরিষ্কার রাখার জন্য এবং কলিকাতা ও পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য অংশের দুঃখজনক ঘটনাবলিতে উত্তেজিত না হবার জন্য আবেদন জানাইতেছি।’
এদিকে ইত্তেফাক সম্পাদক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার সভাপতিত্বে ১৬ জানুয়ারি ঢাকায় সমাজের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিত্বশীল ব্যক্তিদের এক সভায় ব্যাপকভিত্তিক ‘বেসরকারী দাঙ্গা প্রতিরোধ কমিটি’ গঠন করা হয়। শেখ মুজিবুর রহমানকে মনোনীত করা হয় কমিটির আহ্বায়ক। ১১ সদস্য সমন্বিত এ কমিটির বিশিষ্ট সদস্যদের মধ্যে তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া, নুরুল আমিন, আতাউর রহমান খান, হামিদুল হক চৌধুরী, শাহ আজিজুর রহমান, সৈয়দ আজিজুল হক, খাজা খয়েরউদ্দিন, ডক্টর আলিনুর রাজি, হাজী মোহাম্মদ দানেশ, বেগম রোকেয়া আনোয়ার, বেগম সুফিয়া কামাল প্রমুখের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। দাঙ্গা প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে ১৭ জানুয়ারি ইত্তেফাক, আজাদ ও সংবাদ পত্রিকায় ‘পূর্ব পাকিস্তান রুখিয়া দাঁড়াও’ শিরোনাম একটি সম্পাদকীয় প্রকাশ করা হয়।
বলা যায়, ১৯৬৪ সালের দাঙ্গা ও দাঙ্গাবিরোধী গণঅভ্যুত্থান বা গণজাগরণ বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রসারে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। আর ধর্মভিত্তিক পাকিস্তানি জাতীয়তাবাদের পরিবর্তে এই বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতেই ১৯৭১ সালে জন্ম নেয় স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ। কিন্তু বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরও পুরনো রোগ দূর হয়নি। তবে স্বাধীনতার পর ‘দাঙ্গা’ না হয়ে হয় ‘সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস’। এখনো কোথাও কিছু ঘটলে তার অভিঘাত এসে পড়ে সংখ্যালঘুদের ওপর। সংখ্যালঘুদের এসব কষ্টের কথা গল্প-কবিতা-উপন্যাসে প্রকাশ করেছেন বিপুল সংখ্যক সাহিত্যিক। সংখ্যালঘু সুধাংশুদের কষ্টের কথা শামসুর রাহমান লিখেছিলেন এভাবে—
‘সুধাংশু ভস্মের মাঝে খুঁজে
বেড়ায় দলিল, ভাঙা চুড়ি, সিঁদুরের স্তব্ধ কৌটা,
স্মৃতির বিক্ষিপ্ত পুঁতিমালা।’
তবু কবি তাঁকে অনুনয় করেছিলেন দেশ থেকে চলে না যাওয়ার জন্য। বলেছিলেন, ‘তবু তুমি যেয়ো না সুধাংশু।’ শামসুর রাহমান ভেবেছিলেন নিশ্চয়ই সময় পালটাবে। নিশ্চয়ই একদিন নতুন সকাল এসে হাজির হবে দুয়ারে। সেজন্য বলেছিলেন—
‘আকাশের নীলিমা এখনো
হয়নি ফেরারি, শুদ্ধচারী গাছপালা
আজও সবুজের পতাকা ওড়ায়,
ভরা নদী কোমর বাঁকায় তন্বী বেদেনীর মতো।
এ পবিত্র মাটি ছেড়ে কখনো কোথাও
পরাজিত সৈনিকের মতো
সুধাংশু যাবে না।’
