সহকর্মীদের স্মৃতি-শ্রদ্ধায় কায়েস চৌধুরী

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২১, ২১:৪৯

চিরনিন্দ্রায় শায়িত হলেন দেশের স্বনামধন্য নির্মাতা, অভিনেতা ও নাট্যকার কায়েস চৌধুরী। রাজধানীর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে গতকাল সমাহিত করা হয়েছে তাকে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। গুণী এই অভিনেতা-নির্মাতার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে নাট্যাঙ্গনে। সবাই বিভিন্ন মাধ্যমে শোক প্রকাশ ও স্মৃতিচারণ করছেন—

আজিজুল হাকিম

কায়েস ভাইয়ের চলে যাওয়াটা আসলে মেনে নিতে পারছি না। খবরটি শোনার পর আমার স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে হাসপাতালে গেলাম। বিশ্বাসই হচ্ছিল না যে ভাই আর নেই! আমার স্ত্রী তো বলছিল কায়েস ভাই ঘুমিয়ে আছেন! উনি যে চলে যাবেন এমন অসুস্থ তো ছিলেন না। ভাইয়ের সঙ্গে আমার অসংখ্য স্মৃতি। শুধু কজের সম্পর্ক ছিল না আমাদের। আমরা ভাই ছিলাম। ‘না’ নাটকের মাধ্যমে ভাইয়ের সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয়। তখন থেকেই তার সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক তৈরি হয়। তিনিও আমাকে ভাই বলেই ডাকতেন। সেই থেকেই মিডিয়ার সবাই আমাদের ভাই হিসেবে জানতেন এবং ডাকেন। বড় ভাই, ছোট ভাই! তিনি যখন এসে বলতেন বাবুল (আমার ডাক নাম) মানুষ বলছেন বাবুল ঢাকায় এসে আজিজুল হাকিম হয়ে গেছে। কথাটি তার মুখ থেকে শুনতে এত ভালো লাগতো যে বলে বোঝাতে পারবো না। মানুষ হিসেবে অসাধারণ ছিলেন কায়েস ভাই। অনেক জ্ঞানী আর বন্ধুসূলভ ছিলেন। একজন পরিপূর্ণ পরিচালকের সব গুণ তার মাঝে ছিল। নাটক সম্পর্কে তিনি এত জানতে যে সেই জায়গাতে একটা শূন্যতা তৈরি হলো। যেটা কখনো পূরণ হবে বলে মনে হয় না। আল্লাহ ভাইকে ভালো রাখুন।

শাহেদ শরীফ

আমি খবরটি শোনার পর থেকেই খুবই মর্মাহত। মনকে বোঝাতেই পারছি না যে কায়েস ভাই নেই। আমার সৌভাগ্য হয়েছিল যে তার সঙ্গে কাজ করতে পেরেছি। ওনার সঙ্গে আমার বাবা-ছেলের মতো সম্পর্ক ছিল। উনি সবসময় আমাকে বাবা বাবা বলেই ডাকতেন। আধুনিকমনষ্ক একজন মানুষ ছিলেন। খুব সহজেই সবাইকে আপন করে নিতে পারতেন। সে ছেলে হোক বা মেয়ে হোক। ওনার কথা বলার ধরন, শেখানোর কৌশল রীতিমতো আমাকে অবাক করতো। ‘আপন’ টেলিফিল্ম করার সময় তিনি আমাদের যেভাবে প্রতিটি ডায়ালগ, সিকোয়েন্স বুঝিয়ে দিতেন যে মুগ্ধ হয়ে যেতাম। আমরা একজন স্মার্ট এবং জ্ঞানী মানুষকে হারালাম। আল্লাহ ওনাকে ভেহেস্ত নসিব করুন।

বিজরী বরকতুল্লাহ

কায়েস ভাইয়ের সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় ঘটে ‘না’ সিরিয়াল করতে গিয়ে। এরপর থেকেই ওনার সঙ্গে আমার পারিবারিক একটা সম্পর্ক তৈরি হয়। শুধু শুটিংস্পটে না, অনেকবার ওনার অফিস এবং বাসায় গিয়ে আড্ডা দিয়েছি। অসংখ্য স্মৃতি জড়িয়ে আছে কায়েস ভাইয়ের সঙ্গে। না সিরিয়াল করতে গিয়ে উনি অসুস্থ হয়ে পড়লে আমরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। এরপর থেকে আমাদের সম্পর্ক আরো গভীর হয়। তার সঙ্গে বেশ কয়েকটি নাটকে কাজ করেছি। অভিনয় ক্যারিয়ারে প্রথম গুলি করার দৃশ্যে অভিনয়ও তার হাত ধরেই শিখেছি। সেই নাটকে একজনকে গুলি করে মারার দৃশ্যে কাজ করার যে স্মৃতি তা কখনো ভোলার নয়। তিনি আমাকে নিখুঁভাবে কাজটি শিখিয়ে দিয়েছিলেন। এমন হাজারো স্মৃতিগল্প তার সঙ্গে রয়েছে। যেখানেই থাকুন, ভালো থাকুন ভাই।

আহসান হাবীব নাসিম

কায়েস ভাইয়ের সঙ্গে আমি একটি নাটকে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলাম। ওনাকে শুধু আমি অভিনেতা বা নির্মাতা হিসেবে দেখিনি। উনি ছিলেন একজন শিক্ষক। নাটকের ক্ষেত্রে কায়েস ভাই এক্সপ্রেশনের দিকে খুবই মনোযোগী ছিলেন। অভিনয় এবং নির্মাণ সবকিছুই তিনি অনেক আনন্দের সঙ্গে করতে পছন্দ করতেন। এমন হাস্যজ্জ্বল মানুষ ইন্ডাস্ট্রিতে খুব কমই দেখা যায়। তার মতো গুণী মানুষের অভাব কখনো পূরণ হওয়ার না।