কাশ্মীরে গণহত্যার ‘কালো দিবসে’ পাকিস্তান হাইকমিশনের সামনে মানববন্ধন

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২১, ২২:৩০

১৯৪৭ সালে কাশ্মির দখলে নেওয়ার জন্য পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গণহত্যা স্মরণে ঢাকায় মানববন্ধন করেছে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি ওপেন ডায়লগ বাংলাদেশ (ওডিবি)। শুক্রবার (২২ অক্টোবর) পাকিস্তান হাইকমিশনের সামনে এই মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মসূচিতে উপস্থিত নেতারা বলেন, জম্মু ও কাশ্মিরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য পুরো এশিয়া উপমহাদেশে সহিংসতা ও দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য এই ঘৃণ্য নীলনকশা বাস্তবায়ন করেছিল পাকিস্তান। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বাংলাদেশে পাকিস্তানি বাহিনী দ্বারা পরিচালিত ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামক গণহত্যার কোডের সমান্তরালে তৈরি হয়েছিল এই আয়োজন।

মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, ২২ অক্টোবর, ১৯৪৭ সালে ৪০ হাজারের বেশি কাশ্মীরি মুসলমান, শিখ ও হিন্দু বর্বর পাক সেনাদের হাতে নিহত হয়েছিল। ১০ হাজার নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছিল এবং দুই হাজার নারীকে জোর করে পাকিস্তান নিয়ে গিয়েছিল বর্বর বাহিনী। এ আক্রমণ রাতারাতি ঘটেনি, এটি পাকিস্তানের কৌশলগত পরিকল্পনা। হানাদার বাহিনী দ্বারা বড় আকারের নৃশংসতা চালানো হয়েছিল। বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা ও তাদের সম্পদ লুট করা হয়েছিল, এমনকি হাসপাতালগুলোকেও রেহাই দেওয়া হয়নি। 'অপারেশন গুলমার্গ' নামে পাকিস্তান নেতৃত্বাধীন উপজাতীয় বাহিনী বা কাবালিওয়ালীদের ১৯৪৭ সালে নিরীহ কাশ্মীরি জনগোষ্ঠীর ওপর ২২ অক্টোবর আক্রমণের কোড জম্মু ও কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ নিতেই এই আক্রমন চালানো হয়ে ছিল।

ওপেন ডায়লগ বাংলাদেশের (ওডিবি) সমন্বয়কারী মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসার সভাপতিত্বে মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট লেখক, সাংবাদিক ও রাজনীতিক গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া, রাজনীতিক হামদুল্লাহ আল মেহেদী, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কমিশনের বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের কার্যকর সভাপতি এ টি এম মমতাজুল করিম, নারী নেত্রী মিতা রহমান, আন্তর্জাতিক প্রবাসী মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এইচ এম মনিরুজ্জামান, বাংলাদেশ নাগরিক পরিষদ সভাপতি আবদুল আহাদ, সমাজকর্মী আর কে রিপন, মানবাধিকার সংগঠক এ জে আলমগীর প্রমুখ।

এদিকে ১৯৪৭ সালে কাশ্মিরে পাকিস্তানের আগ্রাসনের ‘কালো দিবস’ উপলক্ষে  শুক্রবার (২২ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) নসরুল হামিদ মিলনায়তনে ‘অপারেশন গুলমার্গ এবং অপারেশন সার্চলাইট : পাকিস্তানের পরিকল্পিত গণহত্যা’ শীর্ষক এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। মুক্তচিন্তা ও যুক্তিবাদ চর্চা ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএসএমএমইউ এর অধ্যাপক ডা. অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল, ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সিনিয়র সাংবাদিক বাসুদেব ধর এবং সঞ্চালনা করেন সিনিয়র সাংবাদিক আমিনুল হক ভুইয়া।

No description available.

অনুষ্ঠানে ডেইলি অবজারভারের সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মিডিয়া উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেছেন, ১৯৪৭ সালে দেশভাগের দুই মাসের মাথায় কাশ্মীরে সাম্প্রদায়িক উন্মাদনা দেখা দেয়। মুসলমান হিন্দুকে, হিন্দু মুসলমানকে হত্যা করে। সেই থেকেই কাশ্মিরে অশান্তি চলছে। এরপর ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালো রাতে লাখো মানুষকে হত্যা করা হয়, ধর্ষণ করা হয়। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়। সেই ষড়যন্ত্র থেমে নেই। এর ধারাবাহিকতায় কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা করা হয়েছে। অপারেশন গুলমার্গ, অপারেশন সার্চলাইট এবং কুমিল্লার ঘটনা একই সূত্রে গাঁথা। তিনটি ঘটনাই মানবতাবিরোধী ধর্মীয় উত্তেজনা সৃষ্টি করে জঙ্গিবাদের পরিস্ফূটন ঘটানো হয়েছে।

মামুন আল মাহতাব বলেন, দেশ যখন স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করছে ঠিক সেই সময় কুমিল্লায় সাম্প্রদায়িক হামলার সূত্রপাত হল, যা ছড়িয়ে পড়লো সারাদেশে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ যখন উন্নয়নের মহাসড়কে ঠিক সেই সময়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এটি প্রতিরোধ করতে না পারলে উন্নয়ন কাজে আসবে না।

সভাপতি বাসুদেব ধর তার বক্তব্যে কাশ্মীরের ইতিহাস, গুলমার্গে পাকিস্তানী গণহত্যা এবং বাংলাদেশের ২৫ মার্চের কাল রাতে গণহত্যার ঘটনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িক হামলা এরই ধারাবাহিকতা। দুদেশের জনগণকে বিভ্রান্ত না হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মান্ধতাকে রুখতে হবে। পারস্পারিক দোষারোপের কোনো সুযোগ নেই। সাম্প্রদায়িক শক্তির ফাঁদে পা দিলে দুদেশের জনগণই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ইত্তেফাক/ইআ/এসএ