রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এবার মাদ্রাসায় ব্রাশফায়ার ছয় জন নিহত

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২১, ২২:১৪

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকামী নেতা মাস্টার মুহিবুল্লাহকে হত্যার ২৩ দিনের মাথায় বৃহস্পতিবার ভোরে একটি মাদ্রাসায় ঘুমন্ত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর ব্রাশফায়ারে ছয় জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১৫ জন। এদের মধ্যে বেশ কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভোর সোয়া ৪টার দিকে উখিয়ার এফডিএমএন ক্যাম্প-১৮ এইচ-৫২ ব্লকের ‘দারুল উলুম নাদওয়াতুল ওলামা আল-ইসলামিয়াহ’ মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে চার জন ঘটনাস্থলে, আর বাকি দুই জন হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায়ও (রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত) মরদেহগুলো কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে রয়েছে বলে জানিয়েছেন উখিয়া থানার ওসি আহমেদ সনজুর মোরশেদ। নিহত রোহিঙ্গারা হলেন, এফডিএমএন ক্যাম্প-১৮ এইচ-৫২ ব্লকে অবস্থিত ‘দারুল উলুম নাদওয়াতুল ওলামা আল-ইসলামিয়াহ’ মাদ্রাসার শিক্ষক ক্যাম্প-১২, ব্লক-জে ৫ এর বাসিন্দা হাফেজ মো. ইদ্রীস (৩২), ক্যাম্প-৯-এর ব্লক-২৯এর মৃত মুফতি হাবিবুল্লাহর ছেলে ইব্রাহীম হোসেন (২৪), ক্যাম্প-১৮, ব্লক-এইস-৫২-এর ভলান্টিয়ার শিক্ষার্থী আজিজুল হক (২২), মো. আমীন (৩২) ঘটনাস্থলে মারাযান। আর হাসপাতালে মারা যাওয়ারা হলেন :এফডিএমএন ক্যাম্প-১৮, ব্লক-এফ-২২ মাদ্রাসার শিক্ষক নুর আলম ওরফে হালিম (৪৫), এফডিএমএন ক্যাম্প-২৪-এর মাদ্রাসার শিক্ষক হামিদুল্লাহ (৫৫)। আহতদের মধ্যে ক্যাম্প-১৮, ব্লক- এইস ৫২-এর মাদ্রাসার ছাত্র নুর কায়সারের (১৫) অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন ৮ এবিপিএনের উপ-অধিনায়ক (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার) কামরান হোসাইন। কিন্তু বাকি আহতদের নাম-ঠিকানা বিকাল পর্যন্ত জানাতে পারেননি তিনি।

তিনি জানান, এফডিএমএন ক্যাম্প-১৮ এইচ-৫২ ব্লকে অবস্থিত ‘দারুল উলুম নাদওয়াতুল ওলামা আল-ইসলামিয়াহ’ মাদ্রাসায় রোহিঙ্গা দুর্বৃত্তরা হামলা চালায়। হামলায় মাদ্রাসায় অবস্থানরত চার জন এফডিএমএন সদস্য মারা যান। ঘটনা জানতে পেরে ময়নারঘোনা পুলিশ ক্যাম্প-১২ এর পুলিশ সদস্যরা তাত্ক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে চিকিত্সার জন্য হাসপাতালে পাঠান। হাসপাতালে নেওয়ার পর আরো দুই জন হাসপাতালে মারা যান। এ সময় পুলিশ মুজিব নামে হামলাকারীদের এক জনকে অস্ত্রসহ (দেশীয় লোডেড ওয়ান শুটারগান, ছয় রাউন্ড গুলি ও একটি ছুরিসহ) হাতেনাতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

ঘটনাস্থলের অধিবাসী একাধিক রোহিঙ্গা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ভোর ৪টার দিকে ১২-১৫ জনের একটি সশস্ত্র গ্রুপ মাদ্রাসার দিকে যায়। তারা ওখানে পৌঁছানোর মিনিট তিনেক পর লাগাতার গুলির আওয়াজ ও মানুষের চিত্কার শুনতে পান। আশপাশের লোকজন ঘর থেকে বেরিয়ে মাদ্রাসার দিকে যেতে থাকলে এলোপাতাড়ি গুলি করে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। ঘুমন্ত শিক্ষার্থী ও শিক্ষককে গুলি ও জবাই করে সবমিলিয়ে পাঁচ-সাত মিনিটের মধ্যেই হামলাকারীরা সটকে পড়ে।

তারা আরো জানায়, মুহিবুল্লাহ হত্যার পর মিয়ানমার সরকারের মদতপুষ্ট বিতর্কিত সশস্ত্র সংগঠন আরসার চিহ্নিত সদস্যদের প্রতিরোধের ডাক দিয়ে সম্প্রতি ঐ মাদ্রাসায় একটি সমাবেশ করে প্রত্যাবাসনপ্রত্যাশী সাধারণ রোহিঙ্গারা। সেখানেই বক্তব্য রাখেন নিহত মাদ্রাসা শিক্ষক হাফেজ ইদ্রিস। এ কারণেই হত্যার ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে বলে তাদের ধারণা।

রোহিঙ্গাদের আরেকটি সূত্র দাবি করেন, মুহিবুল্লাহ হত্যার ঘটনার পর থেকে সাধারণ রোহিঙ্গাদের তোপের মুখে পড়ে কোণঠাসা হয়ে গেছে কথিত আরসার পরিচিত সদস্যরা। তারা ক্যাম্প থেকে পালিয়ে টেকনাফের হ্নীলার নয়াপাড়া মুছনি ক্যাম্পের পাহাড়ি এলাকায় স্থানীয় কয়েকটি সন্ত্রাসী গ্রুপের আশ্রয়ে রয়েছে। ফয়েজউল্লা নামে এক আরসা সদস্যকে সম্প্রতি বালুখালী ক্যাম্প থেকে ধরে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে দিয়েছে সাধারণ রোহিঙ্গারা।