জেলেদের কপালে যেন দুরদিন লেগেই আছে। একদিকে করোনা মহামারি। অন্যদিকে পুরো মৌসুমেও আশানুরূপ ইলিশ না পাওয়া। এর মধ্যে চলছে মা-ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা। তাই পরিবার-পরিজন নিয়ে বেকার উপকূলীয় পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর হাজারও জেলের দিন কাটছে মহাকষ্টে। জেলেরা বলছেন, নিষেধাজ্ঞার দুই সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও বহু জেলে সরকারি সেই সহায়তার চাল এখনো পায়নি। কোনো কোনো জেলের তো তালিকায় নামই ওঠেনি। তাই ধারদেনা ও ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ছেন তারা।
সরজমিনে দেখা গেছে, কোড়ালিয়া, নিজকাটা ও চরমোন্তাজ স্লুইসঘাটে মাছ ধরার নৌকা-ট্রলারগুলো ঘাটেই বাঁধা, জেলেরা ডাঙায়। নতুন করে জাল বোনা, জালের রশি বদলানো, ছেড়া জাল মেরামত ও মাছ ধরার নৌকা সংস্কার করে বেকার সময় পার করছেন। প্রত্যেকের মুখ মলিন, চোখেমুখে কষ্টের ছাপ। জেলেরা জানান, দেড় বছরের বেশি সময় করোনা মহামারির কারণে তারা এমনিতেই অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছেন। এ মৌসুমে ইলিশেরও তেমন দেখা মেলেনি। তাই দিনদিন ধারদেনা, ঋণ ও দাদনের জালে জড়িয়ে পড়ছেন। মত্স্য বিভাগ জানায়, উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের ১৩ হাজার ৬৫০ জন জেলেকে এবার ভিজিএফ সুবিধার আওতায় জনপ্রতি ২০ কেজি করে চাল দেওয়া হবে। এ সহায়তা পর্যাপ্ত নয়। তবে এ সুবিধার বাইরে আরো ৪-৫ হাজার জেলে রয়েছে। যারা এখনো নিবন্ধনের আওতায় আসেনি। কিন্তু প্রকৃত জেলেদের পরিবর্তে অন্য পেশার অনেক মানুষ প্রতিবারই এ সুবিধা পাচ্ছেন।
