চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে গত ১৩ অক্টোবর পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনায় দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে উপজেলা ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে জামায়াত নেতা কামালউদ্দিন আব্বাসী। গত বৃহসপতিবার সন্ধ্যায় চাঁদপুরের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মোহাম্মদ কামালউদ্দিনের আদালতে এই জবানবন্দি প্রদান করেন তিনি। কামালউদ্দিন আব্বাসী ভোলদিঘী ফাযিল মাদরাসার আরবী শিক্ষক।
এর আগে বৃহসপতিবার সকালে হাজীগঞ্জে গ্রেপ্তার হন কামালউদ্দিন আব্বাসী। সন্ধ্যায় চাঁদপুরের আদালতে হাজির করা হয় তাকে। এ সময় হামলার কথা স্বীকার করেন আব্বাসী। আদালতে জবানবন্দি দেওয়ার পর বৃহসপতিবার রাতেই তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
ঘটনার সময় পূজামণ্ডপ ও মন্দিরে হামলার আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, এই আব্বাসীর নেতৃত্বেই হামলা হয়েছে। ১৩ অক্টোবর রাত ৮টার পর হাজীগঞ্জ বাজার মন্দিরে হামলা করে একদল দুর্বৃত্ত। ওই ঘটনায় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করলে হামলাকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে চারজন এবং পরে আরো একজনসহ মোট পাঁচজন নিহত হন। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ২টি ও ৮ মন্দিরের প্রধানরা আরো ৮টিসহ মোট ১০টি মামলা করে। এসব মামলায় অজ্ঞাত ৫ হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে জামায়াত নেতা কামালউদ্দিন আব্বাসীসহ ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
চাঁদপুর জেলা পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ জানান, হাজীগঞ্জের ঘটনার আশপাশে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, সংগ্রহ করা ফুটেজে দেখা গেছে, জামায়াত নেতা কামালউদ্দিন আব্বাসী মন্দিরে হামলাকারীদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এর সঙ্গে আরো যারা জড়িত তাদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
