ট্যুর ডায়েরি সাকিবদের জার্সি নিয়ে দুবাই যাত্রা

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২১, ২২:০২

জান-ই-আলম, শারজাহ থেকে

করোনাকালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভ্রমণের হ্যাপা অনেক। সেজন্য মানসিক প্রস্তুতিও ছিল। কিন্তু ঢাকার হযরত শাহজালাল (রা.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রা পূর্ব অভিজ্ঞতা সবকিছুকে ছাড়িয়ে গেছে। অবর্ণনীয় দুর্ভোগ, অপেক্ষা যাত্রীদের নাভিশ্বাস তুলতে যথেষ্ট।

দুপুর দেড়টায় করোনা পরীক্ষার নমুুনা দিয়ে অপেক্ষা করছিলাম।

তখনই মুঠোফোনে বিসিবির লজিস্টিক বিভাগের কর্মকর্তা কাওসার আজমের কল পেলাম। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় আমার ফ্লাইট জেনে খুশি হলেন বিসিবির এ কর্মকর্তা।  একটা অনুরোধও করলেন তিনি, যা আমাকে কিছুটা বিস্ময় উপহার দিয়েছে। এবং সঙ্গে অবশ্যই অনেক ভালোলাগার আমেজ তৈরি করেছে।

কাওসার আজম বললেন, আপনাকে একটা কার্টুন নিতে হবে আমাদের বিসিবির। বাংলাদেশ দলের জন্য জার্সি পাঠাবো। সেটা আপনাকে নিয়ে যেতে হবে। সুপার-১২ এই জার্সি দিয়েই বাংলাদেশ দল খেলবে। জার্সি আছে দলের সঙ্গে, এখন আমরা আরো বাড়তি কিছু জার্সি পাঠাব। আপনি চিন্তা করবেন না, আমাদের লোক গিয়ে আপনার ইমিগ্রেশনের আগেই জার্সি দিয়ে আসবে। আপনি রাতে পৌঁছে জার্সির কার্টুনটা টিম হোটেলে পৌঁছে দিবেন।

পুরোটা শুনে শুরুতে একটু ভড়কে গিয়েছিলাম বটে, আমি নিয়ে যাব বাংলাদেশ দলের জার্সি!

তবে আমি নিয়ে যাব, এটা মুখে বলতে হয়নি। কাওসার আজম আমার কথা শুনেই বুঝে গিয়েছিলেন।

না করার চিন্তাও মাথায় আসেনি, আসার কথাও নয়। কারণ গত এক যুগের বেশি সময় বিসিবি, বাংলাদেশের ক্রিকেটের সঙ্গেই যে আমার জীবন জড়িয়ে আছে। টাইগারদের জার্সি নিয়ে যাওয়াটা বিমলান্দের উপলক্ষ্যই বটে। তাছাড়া আমিও যাচ্ছি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের ম্যাচ কাভার করতে।

বিমানে জিনিসপত্র বহনের ক্ষেত্রে যাত্রীদের জন্য নির্ধারিত ওজনের ব্যবস্থা থাকে। এমিরেটস এয়ারলাইনসে ৩০ কেজি বহনের অনুমতি ছিল আমার।

বিসিবির এ কর্মকর্তাকে বললাম, কার্টুন কত বড়। ওজন কেমন হবে?

উনি আশ্বস্ত করলেন বেশি বড় হবে না।

পরেই বাংলাদেশ দলের জার্সি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান স্পোর্টস অ্যান্ড স্পোর্টজের কর্নধার মেহতাবউদ্দিন আহমেদ কল করেন। তিনিও জার্সির কার্টুনের কথাই বললেন। ঘণ্টা খানেক পরই এক ব্যক্তি জার্সি নিয়ে বিমানবন্দরে হাজির হলেন। আমিও রিসিভ করার পর ভালোভাবে র্যাপিং করে নিয়েছিলাম।

এরপর সাবেক ক্রিকেটার ও বর্তমানে বিসিবির চাকুরে শাহরিয়ার নাফিসও বিমানবন্দরে এসে দেখা করেন। তিনিও টিম হোটেলে থাকা বিসিবির এক পরিচালকের জন্য জরুরি কিছু জিনিস দিয়ে গেলেন। সেগুলোও আমাকেই হস্তান্তর করতে হবে।

বহু জট, ভোগান্তি পেরিয়ে ইমিগ্রেশন পার হতেই সাড়ে ৭টার বেশি বেজে গেল। একই ফ্লাইটের প্রায় সব যাত্রীকেই এই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। সঙ্গত কারণে ফ্লাইট এক ঘণ্টা পিছিয়ে যায়। রাত সাড়ে ৮টায় বিমান আকাশে উড়াল দেয়। এমিরেটসের স্বস্তিদায়ক ফ্লাইট চড়ে স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১১টায় দুবাই পৌঁছে যাই।

সুবিশাল বিমানবন্দরে কোনো বিরক্তি ছাড়া (পড়ুন সানন্দে) করোনা পরীক্ষা ইমিগ্রেশন পার হতে হতে রাত ১২টা বেজে যায়।

তারপর ট্যাক্সি ধরে গন্তব্য বাংলাদেশ দলের টিম হোটেল। শহরের ফেস্টিভাল সিটির ক্রাউন প্লাজা হোটেলে আছেন মাহমুদউল্লাহ-মুশফিকরা। পুরো দল জৈব সুরক্ষা বলয়ে, কারোই বাইরে আসার সুযোগ নেই।

মিডিয়া ম্যানেজার রাবিদ ইমামের সহযোগিতায় হোটেলের রিসিপশনে থাকা কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করলাম টাইগারদের জার্সির কার্টুন ও অন্যান্য জিনিস।

যেন নিজেই ভারমুক্ত হলাম।

দেশ থেকে মরুর বুকে আমার বয়ে আনা জার্সি পরেই টি-২০ বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলবে সাকিব-মুস্তাফিজরা। এই অনুভূতি অতুলনীয়।

সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে এবার গন্তব্য নিজের হোটেল। ততক্ষণে দুবাই শহরের ব্যস্ততা কমে এসেছে। রাস্তা ফাঁকা, খুব বেশি গাড়ির দেখা মিলছে না। ভারতের চেন্নাইয়ের ড্রাইভার আনন্দর ট্যাক্সিতে হোটেলে পৌঁছাই রাত ১টার আগেই।

রাজ্যের ক্লান্তিতে শরীর তখন অবসন্ন। হোটেলে চেক ইনের পর তাই দ্রুতই বিছানায় গা এলিয়ে দিতে বাধ্য হই।