রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যায় অংশ নেওয়া চার জন গ্রেফতার

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২১, ২২:৪৪

রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া আজিজুল হককে শনিবার ভোরে লাম্বাশিয়া পুলিশ ক্যাম্পের লোহার ব্রিজ এলাকা থেকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করেছে এপিবিএন-১৪ এর সদস্যরা। পরে আজিজুল হকের স্বীকারোক্তি মোতাবেক হত্যায় অংশ নেওয়া কুতুপালং ক্যাম্প-১ এর ডি ৮ ব্লকের আব্দুল মাবুদের ছেলে মোহাম্মদ রশিদ ওরফে মুরশিদ আমিন ও একই ক্যাম্পের বি ব্লকের ফজল হকের ছেলে মোহাম্মদ আনাস ও নুর ইসলামের ছেলে নুর মোহাম্মদকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।

শনিবার দুপুরে প্রেস ব্রিফিংকালে এসব কথা জানান ১৪ আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক এসপি নাইমুল হক। তিনি বলেন, স্বীকারোক্তিতে আজিজুল হক জানিয়েছেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন ও নেতা হিসেবে উত্থান ঠেকাতে আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস (এআরএসপিএইচ) এর চেয়ারম্যান মুহিবুল্লাহকে হত্যা করা হয়েছে। একটি দুর্বৃত্ত সংগঠনের শীর্ষ নেতার নির্দেশে হত্যা মিশনে অংশ                নেয় ১৯ জন। এদের মধ্যে পাঁচ জন ছিল অস্ত্রধারী। পূর্ব প্রস্তুতি মতে কয়েক মিনিটেই কিলিং মিশন শেষ করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে দুর্বৃত্তরা।

এসপি নাইমুল হক বলেন, মুহিবুল্লা হত্যার দুই দিন আগে মরকাজ পাহাড়ে কিলিং মিশনের জন্য বৈঠক করে দুর্বৃত্তরা। সেখান থেকে ১৯ জনকে মিশনে অংশ নেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে পাঁচ জনকে সশস্ত্রাবস্থায় পাঠানো হয়। জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে আজিজুল হক জানিয়েছেন, দিন দিন মুহিবুল্লাহ রোহিঙ্গাদের নেতা হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছিল। তার উত্থান ও রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন ঠেকাতে যেকোনো মূল্যে তাকে হত্যার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশনা মতো ২৯ সেপ্টেম্বর এশার নামজের পর বাসায় চলে যাওয়া মুহিবুল্লাহকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ে কয়েক জন কথা বলতে ডাকছে বলে বাসা থেকে বের করে আনে গ্রেফতারকৃত কথিত দুর্বৃত্ত সংগঠন আরসার সদস্য মুরশিদ আমিন। তারপর বাকিদের সংকেত দিয়ে সে অফিস থেকে বেরিয়ে যায়। কিন্তু কিলিং মিশনের দুর্বৃত্তরা ভেতরে ঢুকলে দরজায় অস্ত্রসহ পাহারা দেয় মুরশিদ।

নাইমুল হক আরো জানান, সশস্ত্র টিম অফিসে ঢোকার পর একজন মুহিবুল্লাহকে বলে ‘উঠ তোর সাথে কথা আছে’। মুহিবুল্লাহ দাঁড়াতেই মোট চারটি গুলি করা হয় মুহিবুল্লাহকে। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে কিলিং স্কোয়াডের পাঁচ জন মুহিবুল্লার বাড়ির পেছন দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে তারা এ হত্যাকাণ্ডের জন্য দোষ চাপাতে থাকে বিভিন্নজনের ওপর। হত্যায় জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং যেকোনো সময় তারা গ্রেফতার হতে পারে বলে জানান এপিবিএনের এই কর্মকর্তা।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর  রাত ৯টার দিকে ক্যাম্পের ভেতরে রোহিঙ্গাদের শীর্ষ নেতা মুহিবুল্লাহকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। পরের দিন (৩০ সেপ্টেম্বর) নিহত মুহিবুল্লাহর ছোট ভাই হাবিবুল্লাহ ১৫-২০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে উখিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পাঁচ জন সন্দেহভাজন আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে ইলিয়াস নামে একজন রোহিঙ্গা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। শনিবার চার জনসহ এ মামলায় এখন পর্যন্ত ৯ জন গ্রেফতার হলো।