উখিয়ার বালুখালীর ক্যাম্পে ঘুমন্ত শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে গুলি ও কুপিয়ে ছয় জন নিহতের ঘটনায় ১০ জনকে আটক করেছেন ৮ এপিবিএন সদস্যরা। শুক্রবার সকালে সশস্ত্র একজনকে আটকের পর শনিবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত একাধিক অভিযান চালিয়ে আরো ৯ জনকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন ৮ এপিবিএন অধিনায়ক এসপি শিহাব কায়সার খান। আটকদের মাঝে তিন জন সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন বলেও দাবি করেছেন তিনি।
তবে তদন্ত ও অভিযানের স্বার্থে এখনই আটকদের নাম-ঠিকানা জানানো সম্ভব হচ্ছে না বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতি শিগিগরই বাকিদেরও আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে। কিন্তু এ হত্যার ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। ঘটনার পরপরই মুজিবুর রহমান নামে একজন রোহিঙ্গাকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয়।
বৃহস্পতিবার ভোরে উখিয়ার এফডিএমএন ক্যাম্প-১৮ এইচ-৫২ ব্লকের ‘দারুল উলুম নাদওয়াতুল ওলামা আল-ইসলামিয়াহ’ মাদ্রাসায় এক দল দুর্বৃত্ত মুখোশ পরে এসে অকস্মাত্ এলাপাতাড়ি গুলি চালায়। এরপর গুলিবিদ্ধদের কুপিয়ে এবং জবাই করে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। ধারালো অস্ত্রের কোপে নিহত বেশ কয়েকজনের হাতের আঙুলসহ বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। নিহতদের শুক্রবার রাতেই স্ব স্ব ক্যাম্প এলাকার কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহত স্বজনদের দাবি, মুহিবুল্লাহর হত্যাকারী কথিত আরসার সন্ত্রাসীরাই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তারা বিভিন্ন সময় আরসা (আল-ইয়াকিন নামেও পরিচিত) কথিত সংগঠনটির বিরুদ্ধে কোনো ধরনের প্রচারণা করা যাবে না বলে সংগঠনটির কয়েকজন নেতা হুমকি দিয়েছিলেন। কিন্তু সাধারণ রোহিঙ্গারা হুমকি উপেক্ষা করে কথিত আরসার বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধের ডাক দিয়ে বিভিন্ন সময় মহল্লাভিত্তিক বৈঠক করেন। বিভিন্ন বৈঠকে সাধারণ রোহিঙ্গাদের একীভূত হয়ে থাকতে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য রেখেছেন শুক্রবার নিহতদের মাঝে থাকা হাফেজ মো. ইদ্রিসসহ আহতদের কয়েক জন।
রোহিঙ্গাদের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র দাবি করেছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পভিত্তিক সব মাদ্রাসা কথিত আরসা নিয়ন্ত্রণ নিতে চেষ্টা চালাচ্ছে। সেই লক্ষ্যে প্রতিটি মাদ্রাসা পরিচালনায় দুজন আরসা সদস্যকে কমিটিতে রাখার প্রস্তাব দেয় তারা (আরসা নেতারা)। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা তাতে রাজি হননি। যদিও ইতিমধ্যে অনেক মাদ্রাসা আরসার নিয়ন্ত্রণে বলে দাবি করেছে সূত্রটি।
অপরদিকে মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের পর কথিত আরসার দুই শতাধিক সদস্য সাধারণ রোহিঙ্গাদের প্রতিরোধের মুখে টেকনাফের হ্নীলার নয়াপাড়া মুছনী ক্যাম্পের পাহাড়ে আশ্রয় নিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। সুযোগ বুঝে এসব অপরাধীচক্র আরো বড় ধরনের নাশকতা ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সাধারণ রোহিঙ্গারা।
অভিযোগ আছে, টেকনাফের আলোচিত গিয়াস ও পুতিয়া বাহিনী এসব রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের আশ্রয় ও অস্ত্র জোগান দিচ্ছে। এ দুই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে কথিত আরসার অপরাধীদের পূর্ব থেকে যোগাযোগ রয়েছে বলে প্রচার রয়েছে। তারা আগে থেকেই মাদক, অস্ত্র, হত্যা, অপহরণসহ সব ধরনের অপরাধ কাণ্ড একীভূত হয়ে ঘটাতেন।
ক্যাম্পে কর্মরত ১৪ এপিবিএন অধিনায়ক এসপি নাইমুল হক বলেন, ক্যাম্পে রোহিঙ্গারা অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে এটা সঠিক। কিন্তু ক্যাম্পে কোনো দুর্বৃত্ত সংগঠনের অস্থিত্ব নেই। যদিও নানা সংগঠনের নামে অপকর্ম চালানোর চেষ্টা করে তারা, সেটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা।
