আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বিল্লাল হোসেন। অভিযোগ উঠেছে, তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতাকারী তত্কালীন শান্তি কমিটির স্থানীয় সভাপতি মোহাম্মদ আলীর ছেলে। স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের এমন সিদ্ধান্তে স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতাকারীর ছেলে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হওয়ায় মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা হতবাক হয়েছেন। এদিকে রাজাকারের সন্তানকে নৌকা প্রতীক দেওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন রায়পুর ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা ও তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। শনিবার বিকালে রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে নেতাকর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে রায়পুর বাজার প্রদক্ষিণ করেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা জানান, রায়পুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানদের নিয়ে ঐক্যবদ্ধ। কিন্তু আওয়ামী লীগের একটি পক্ষ অর্থের প্রভাব খাটিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যের মদতপুষ্ট হয়ে বিল্লাল হোসেন সম্প্রতি বড় আওয়ামী লীগার হয়ে উঠেছেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগ বিল্লালকে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদে নৌকার প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে। রাজাকারের ছেলে জনবিচ্ছিন্ন একজন নেতা যদি নৌকা প্রতীক পান, তবে নৌকার ইজ্জতের ভরাডুবি নিশ্চিত হবে; যার প্রতিবাদে মুক্তিযোদ্ধা, স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের সহস্রাধিক নেতাকর্মী মানববন্ধনে অংশ নিয়ে কঠোর প্রতিবাদ জানিয়ে রাজাকার সন্তানকে পরিবর্তন করে ত্যাগী নেতাদের নৌকা প্রতীক দেওয়ার দাবি জানান।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সত্তরোর্ধ্ব মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই বলেন, বাঘারপাড়াসহ রায়পুরে শান্তি কমিটির প্রভাবশালী নেতা ছিলেন রাজাকার মোহাম্মদ আলী। দিনে-দুপুরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানুষের বাড়িতে ডাকাতির সঙ্গে নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছেন। সেই রাজাকারের ছেলে বিল্লাল হোসেন। তার পরিবারও রাজাকার। বর্তমানে অর্থের প্রভাব খাটিয়ে আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতাকে ম্যানেজ করে নৌকা প্রতীক পাওয়ার পাঁয়তারা করছেন। আমরা মুক্তিযোদ্ধারা বেঁচে থাকতে বঙ্গবন্ধুর নৌকা কোনো রাজকারকে দেওয়া হবে সেটা আমরা মেনে নিতে পারব না। তাই দ্রুত রাজাকারের সন্তানকে পরিবর্তন করে ত্যাগী নেতাদের নৌকা প্রতীক দেওয়ার দাবি জানান এই মুক্তিযোদ্ধা।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা লাল মিয়া, ইয়াকুব আলী, ডা. ইরাদত আলী, হাফিজুর রহমান, আলী বক্স, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান ও আওয়ামী লীগের নেতা মফিজুর রহমান, রিপন হোসেন, মাসুদুর রহমান রাজু প্রমুখ।
এদিকে মণিরামপুরের চালুয়াহাটি ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী করা হয়েছে উপজেলার আটঘরা গ্রামের দিনু রাজাকারের ছেলে আবুল ইসলামকে। যশোরে দুই রাজাকারের ছেলে নৌকা প্রতীক পাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় বইছে।
