দ্রুততম সময়ে সাম্প্রদায়িক হামলার বিচার দাবি

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২১, ২২:৪৭

 ‘বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে। আজকে দেশ কি অসাম্প্রদায়িক?  হিন্দু সম্প্রদায় আঘাতপ্রাপ্ত হচ্ছে, আন্দোলন করছে, কিন্তু বিচার পাচ্ছে না। সামপ্রদায়িক হামলার কোনো ঘটনারই সুষ্ঠু বিচার হয়নি।’ শাহবাগে গণঅনশন, অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত।

কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সামপ্রদায়িক হামলার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তসহ ৮ দফা দাবিতে গতকাল শনিবার এই কর্মসূচি পালন করেছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন সংগঠন। ঢাকার পাশাপাশি সারাদেশে শনিবার এই কর্মসূচি পালিত হয়। সকাল  থেকে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের আহ্বানে এই কর্মসূচি পুনরায় শুরু হয়। দুপুর ১২ টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান-অনশন করার পর প্রায় ১ ঘণ্টা শাহবাগ মোড় আটকে রেখে বিক্ষোভ মিছিলের মাধ্যমে তাদের কর্মসূচি শেষ করা হয়।

এর আগে মানবাধিকারকর্মী খুশি কবির অনশনকারীদের পানি পান করিয়ে অনশন ভঙ্গ করান। এসময় শাহবাগ মোড়ের চারপাশে সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।      কর্মসূচি থেকে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ঘোষিত আট দফা দাবি বাস্তবায়ন না হলে আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানানো হয়।

এর পাশাপাশি আগামি ৪ নভেম্বর হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শ্যামাপূজায় দীপাবলী উত্সব বর্জন করে সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৬টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত কালো কাপড়ে মুখ ঢেকে মন্দিরে মন্দিরে নিরবতা পালন এবং মন্দির-মণ্ডপ ফটকে কালো কাপড়ে সামপ্রদায়িক সহিংসতাবিরোধী শ্লোগান সম্বলিত ব্যানার টানানোসহ পূজা উদযাপন পরিষদ ঘোষিত প্রতিবাদ কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি জানানো হয়।

কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) নেতা হাসানুল হক ইনু বলেন, যারা এই আক্রমণ চালিয়েছে, তারা ধর্মান্ধ, জঙ্গি, সন্ত্রাসী এবং এই আক্রমণ ছিল পরিকল্পিত। এই হামলা শুধু হিন্দুদের ওপর হামলা নয়, গোটা বাঙালির ওপর হামলা। প্রশাসনের গাফিলতির কারণে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা হয়েছে। তাদের একটা অংশ এর জন্য দায়ী। প্রশাসনের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা সামপ্রদায়িক কর্মচারীদের নিষ্ক্রিয়তা চিহ্নিত করে, তদন্ত করে বিচার করতে হবে।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারা আপনার দিকে তাকিয়ে আছে। আপনি তাদের কাছে গিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে সংহতি জানান। আর মুসলমানদের মধ্যে যারা হামলা করেছে, তাদের উচিত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে গিয়ে ক্ষমা চাওয়া। গণফোরাম নেতা সুব্রত চৌধুরী বলেন, এ সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে ব্যবসা করে। সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম রাখা হয়েছে, আবার রাষ্ট্রকে বলা হয় ধর্মনিরপেক্ষ, এটি চরম ভাঁওতাবাজি। হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক নিমচন্দ্র ভৌমিক বলেন, আমরা এই সামপ্রদায়িক হামলার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। প্রয়োজনে বিশেষ ট্র্যাইবুনাল গঠন করে এই হামলার বিচার করতে হবে।

কর্মসূচিতে মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল, জাসদ সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব পলাশ কান্তি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক নিজামুল হক ভূঁইয়া প্রমুখ বক্তব্য দেন।

চট্টগ্রাম অফিস জানায়, নগরীর আন্দরকিল্লায় গণঅনশন ও অবস্থান কর্মসূচিতে সকাল থেকে বিভিন্ন স্থান থেকে মিছিল সহকারে যোগ দেন সনাতনী ধর্মালম্বীরা। পরে এক বিক্ষোভ মিছিল নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত বলেন, দুর্গাপূজার মধ্যে প্রতিমা, মন্দিরে হামলা ও বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে সাম্প্রদায়িক হামলাকারীদের বিচার করতে হবে। আইনশৃংখলা বাহিনীর যেসব সদস্য দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও গাফিলতি করেছে এবং যেসব জনপ্রতিনিধি সাম্প্রদায়িক হামলা প্রতিরোধে এগিয়ে আসেনি তাদের চিহ্নিত করে শাস্তিমূলক ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

সিলেট অফিস জানায়, ভোর ৬টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান নিয়ে গণঅনশন কর্মসূচি পালন করেছে হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃস্টান ঐক্য পরিষদ। বেলা ১২টায় বীর মুক্তিযোদ্ধা সুবল চন্দ্র পালসহ অন্যরা সংহতি জানিয়ে উপস্থিত নেতৃস্থানীয়দের পানি পান করিয়ে অনশন ভাঙ্গান।

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ জানান, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ডা. সেলিনা হায়াত্ আইভীর নেতৃত্বে নগরীর চাষাঢ়া থেকে মন্ডলপাড়া পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে অংশ নেন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ, সাংস্কৃতিক জোটসহ বিভিন্ন পেশাজীবী ও ধর্মীয় সংগঠনের কয়েক হাজার নেতা-কর্মী।